এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার, রণক্ষেত্র মালদা, পুলিশের সামনে দেদার মারধর, উত্তেজনা চরমে

রণক্ষেত্র ইংরেজবাজার শহরের জেলা স্কুলের এসআইআর-এর শুনানি কেন্দ্র। পুলিশের সামনেই দুই পক্ষের চরম হাতাহাতি চলতে থাকে কিছুক্ষণ। হামলাকারীদের হাত থেকে বাদ যায় নি বেশ কিছু মহিলারাও।

রণক্ষেত্র ইংরেজবাজার শহরের জেলা স্কুলের এসআইআর-এর শুনানি কেন্দ্র। পুলিশের সামনেই দুই পক্ষের চরম হাতাহাতি চলতে থাকে কিছুক্ষণ। হামলাকারীদের হাত থেকে বাদ যায় নি বেশ কিছু মহিলারাও।

author-image
Madhumita Dey
New Update
Malda SIR hearing violence, Englishbazar district school clash, SIR hearing centre unrest, Malda district school violence, Englishbazar police presence clash, SIR voter hearing chaos Malda, Malda political clash Congress TMC, women fall ill at SIR centre, Malda voter harassment SIR, Englishbazar SIR controversy

এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার, রণক্ষেত্র মালদা

এসআইআর চলাকালীন শুনানি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার। মালদা জেলার ইংরেজবাজার শহরের জেলা স্কুলে এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র সোমবার দুপুরে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে চরম হাতাহাতি শুরু হয় বলে অভিযোগ। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন মহিলা-সহ একাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হন। ঘটনার জেরে ফের উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকা জুড়ে।

Advertisment

আরও পড়ুন-'অহংকারী, মিথ্যাবাদী নির্বাচন কমিশনার'

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর শুনানি ঘিরে ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী জেলা স্কুলে মোতায়েন ছিল। তা সত্ত্বেও শুনানি কেন্দ্রে আসা গ্রামবাসীদের একাংশ পরস্পরের বিরুদ্ধে মারমুখী হয়ে ওঠেন। পুলিশের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও তৎক্ষণাৎ কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

এই সংঘর্ষে গুরুতরভাবে জখম হন ইংরেজবাজার ব্লকের যদুপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কংগ্রেসের নির্বাচিত সদস্য আসিফ ইকবাল (৪৮)। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের বুধিয়া এলাকার একদল তৃণমূল কর্মী লাইনে আগে ঢোকার চেষ্টা করে। প্রতিবাদ জানাতেই হামলা চালানো হয়। পুলিশের সামনেই মারধর করা হয় এবং বাড়ির মহিলারাও আক্রান্ত হন বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে বুধিয়া এলাকার তৃণমূল কর্মী সারিউল শেখ ও রেজাউল করিম বলেন, যদুপুরের কংগ্রেস নেতার সঙ্গে আসা একদল যুবক তাঁদের মোবাইল চোর সন্দেহে অপবাদ দেয়। তার প্রতিবাদ করতেই প্রথমে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। পরে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এলে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। তাঁদের দাবি, কংগ্রেস পক্ষই তাঁদের মহিলাদের গায়ে হাত দিয়েছে।

এদিকে সকাল থেকেই শুনানির জন্য দাঁড়িয়ে থেকে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন পাঁচ জন মহিলা ভোটার। অভিযোগ, শুনানি কেন্দ্রে পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। মারামারির আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে গিয়েও অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। নরহাট্টা গ্রামের রাজিয়া বিবি (৪০), বুধিয়া গ্রামের সাবেরা খাতুন (৪৫) ও মমতাজ বিবি (৩৯) শিশু কোলে নিয়ে সকাল থেকে পৃথক লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁরা ৭৭ ও ৭৮ নম্বর বুথের ভোটার। নামের বানান সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে শুনানিতে হাজির হতে হয়েছিল তাঁদের। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর আরও দু’জন অসুস্থ হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁদের মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে এই বিশৃঙ্খলা ও সাধারণ ভোটারদের হয়রানির প্রতিবাদে জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। ডেপুটেশনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও তাজমুল হোসেন, তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি, রাজ্য সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী প্রমুখ। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে, যার ফলেই একের পর এক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

পাল্টা তৃণমূলকে কটাক্ষ করে দক্ষিণ মালদার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই সাধারণ ভোটারদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

আরও পড়ুন- "মমতার নির্দেশেই ভোটারদের হয়রানি!"

SIR Malda