/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/29/sir-2025-12-29-19-25-57.jpg)
Malda News: এসআইআর শুনানিতে হয়রানির অভিযোগ।
সোমবার থেকে মালদা জেলায় SIR-এর বিভিন্ন ত্রুটি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শুনানি শুরু হয়েছে। এদিন জেলার ১৫টি ব্লকে মোট ৪২টি এসআইআর কেন্দ্র খোলা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন মোট প্রায় ৬২ হাজার মানুষকে শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। দু’-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে এদিনের শুনানি প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
এদিন ইংরেজবাজার শহরের মালদা জেলা স্কুল ও মডেল মাদ্রাসায় এসআইআর কেন্দ্র খোলা হয়। সকাল থেকেই প্রবল শীত উপেক্ষা করে বহু মানুষ ওই দুই কেন্দ্রে ভিড় জমান। তবে জেলা স্কুল ও মডেল মাদ্রাসা, দুই কেন্দ্রেই পরিকাঠামোগত অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বসার জায়গার অভাব নিয়ে অভিযোগ ওঠে। শিশু কোলে নিয়ে আসা মহিলারা এবং বয়স্করাও সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন- SIR hearing: ‘কমিশনের জমিদারি মানব না’, SIR শুনানি বন্ধ করে দিয়ে হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের
মালদা জেলা স্কুলের এসআইআর কেন্দ্রে শুনানিতে এসে বসার জায়গা না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেকেই। সেই সঙ্গে ওই কেন্দ্রে তৃণমূল পরিচালিত মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতির প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, সভাধিপতি কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সভাধিপতি। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনও এসআইআর কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেননি, বাইরে থেকেই সাধারণ মানুষের সমস্যার বিষয়টি তদারকি করেছেন।
আরও পড়ুন-West Bengal News LIVE Updates: ফের মেট্রোয় ঝাঁপ, যান চলাচলে বিভ্রাট! ভয়ঙ্কর ভোগান্তি নিত্যযাত্রীদের
এদিকে মানবিক সমস্যার ছবিও উঠে এসেছে ইংরেজবাজার শহরের মনস্কামনাপল্লি থেকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দা ৯০ বছর বয়সী ঝর্ণা দাস ও তাঁর ৬৫ বছর বয়সী মেয়ে অঞ্জনা দাসের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে। অঞ্জনা দাস পক্ষাঘাতগ্রস্ত। পরিবার সূত্রে দাবি, বাড়িতে এসে শুনানির ব্যবস্থা করার জন্য আগেই প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি।
আরও পড়ুন- SIR-এ নাম নেই? নতুন ভোটার বা নাম বাদ গেলে ফর্ম-৬-এ আবেদন কীভাবে?
ঝর্ণা দাসের ছেলে খোকন দাস বলেন, “মায়ের বয়স ৯০ পেরিয়ে গিয়েছে, দিদি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না। অথচ দু’জনেরই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে, আমার নাম রয়েছে। আমরা প্রায় ৫০ বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছি। বাড়িতে শুনানির আবেদন করা হলেও কোনও উত্তর পাইনি। বাধ্য হয়ে প্রবল ঠান্ডার মধ্যেই মা ও দিদিকে কোলপাঁজা করে জেলা স্কুলে নিয়ে আসতে হয়েছে। এখানে বসার কোনও ব্যবস্থা ছিল না, দীর্ঘক্ষণ মাটিতেই বসে থাকতে হয়েছে।”
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এদিন ইংরেজবাজার শহরের জেলা স্কুল ও মডেল মাদ্রাসা ছাড়াও জেলার ১৫টি ব্লকের ৪২টি কেন্দ্রে এসআইআর শুনানি হয়েছে। মোট ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এদিন উঠে আসা অব্যবস্থার অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সদর মহকুমা শাসক সুমন মজুমদার।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us