/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/19/malda-2026-01-19-19-49-29.jpg)
Malda News: মন্ত্রীকে SIR নোটিশ পাঠানোর প্রতিবাদে ধরনা তৃণমূল কর্মীদের।
এসআইআর (SIR) শুনানিকে কেন্দ্র করে সোমবার তুমুল উত্তেজনা ছড়াল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে। রাজ্যের মন্ত্রীকে শুনানিতে ডেকে পাঠানোর প্রতিবাদে এদিন ব্লক অফিস চত্বরেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। অন্যদিকে, শুনানির নোটিশ পেয়ে আতঙ্কে এক প্রৌঢ়ের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। হরিশ্চন্দ্রপুর ছাড়াও চাঁচোল, বামনগোলা, ও ইংরেজবাজার এলাকাতেও এদিন বিক্ষোভ দেখায় শাসকদল।
মন্ত্রীকে তলব ও পুলিশি ধস্তাধস্তি
ঘটনার সূত্রপাত রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তাজমুল হোসেনকে এসআইআর শুনানিতে ডেকে পাঠানোকে কেন্দ্র করে। মন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা এবং বিজেপি সরকারের মদতেই এই হয়রানি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে সোমবার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক প্রশাসনিক ভবনে ধর্নায় বসেন মন্ত্রী ও তাঁর অনুগামীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে তাদের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আরও পড়ুন- Shatadru Dutta: মেসিকে কলকাতায় আনার 'অপরাধ'? হাজতবাসের পর অবশেষে মুক্তি শতদ্রু দত্তের!
ক্ষুব্ধ মন্ত্রী তাজমুল হোসেন বলেন, "১৯৭৮ সালে আমি প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হই। ২০০৬ থেকে তিনবারের বিধায়ক। প্রতিটি নির্বাচনে কমিশনের গাইডলাইন মেনে নথি দিয়েছি। অথচ এখন বলা হচ্ছে আমার ও বাবার নামে ভুল রয়েছে। মেসেজ করে বলা হচ্ছে, আমার নাম 'তজমুল' থেকে 'তাজমুল' হয়েছে। বিজেপির উস্কানিতেই একজন মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিকে এভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।"
আরও পড়ুন- Supreme Court: বড় স্বস্তি! মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও SIR নথি হিসেবে মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট
এদিকে, এসআইআর-এর শুনানির ডাক পেয়ে আতঙ্কে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার মালিওর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শিমরাহা এলাকার বাসিন্দা মোমেন আলি (৫৮) নামে এক প্রৌঢ় কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গিয়ে মালদা জেলা পরিষদের সদস্য বুলবুল খান বলেন, "মোমিনের পরিবারটি দিনমজুর। বারবার শুনানিতে ডেকে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল, সেই আতঙ্কেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন।"
এদিন শুধু হরিশ্চন্দ্রপুর নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। চাঁচোল ১ ব্লক প্রশাসনিক ভবনের সামনে ধর্নায় বসেন তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি তথা প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, এক একটি বুথে অসংখ্য মানুষকে নোটিশ পাঠিয়ে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশন সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করছে। তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ পড়ছে বলেই তৃণমূল ভয় পাচ্ছে এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।"


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us