খেলতে গিয়ে আচমকাই পেট এফোঁড় ওফোঁড়, শিশুকন্যার মর্মান্তিক পরিণতিতে বুক কেঁপে উঠবে

কালিয়াচক থানার পুলিশ জানিয়েছে, দেড় বছরের কন্যা শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নিয়েই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কালিয়াচক থানার পুলিশ জানিয়েছে, দেড় বছরের কন্যা শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নিয়েই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
images (5)

প্রতীকী ছবি

মায়ের ব্যবহারের বিড়ি বাঁধার কাচির ওপর পড়ে পেট ফুটো হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু দেড় বছরের শিশুকন্যার। সোমবার সকালে এই বুক কাঁপানো ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াচক থানার সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরপুর এলাকায়। রক্তাক্ত ওই শিশুকন্যা মালদা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। 

Advertisment

এই ঘটনার পর মৃত শিশুর বাড়িতে তদন্তে পৌঁছায় কালিয়াচক থানার পুলিশ । পাশাপাশি মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা। বাড়ির একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে রীতিমতো শোকে ভেঙে পড়েছে নাজিরপুর গ্রামের ওই শ্রমিক পরিবার। এদিনের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম রাফা ইয়াসমিন। তার বয়স দেড় বছর। মৃত শিশুর মা সায়েরা বিবি। তিনি বাড়িতেই বিড়ি বাঁধার কাজ করেন। পাশাপাশি ওই শিশুর বাবা রামিজ শেখ পেশায় ভিন রাজ্যের দিনমজুর। ওই দম্পতির পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল রাফা। 

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মৃত শিশুর মা সায়েরা বিবি জানিয়েছেন, তার স্বামী বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে রয়েছেন। বাড়িতে বৃদ্ধা শাশুড়ি, এক কন্যা সন্তান ও দুই ননদকে নিয়েই সংসার রয়েছে। প্রত্যেকেই বিড়ি বাঁধার কাজের সঙ্গেই যুক্ত। এদিন সকালে যে যার মতোন রান্না করা, কাপড় কাচা ও অন্যান্য ঘরোয়া কাজে ব্যস্ত ছিলেন। উঠোনে বস্তার উপর বিড়ি বাঁধার উপকরণ একটি কাঁচি রাখা ছিল। মুহূর্তেই রাফা হামাগুড়ি দিয়েই উঠোনে চলে যায়। ধারালো কাঁচিটি খাঁড়া অবস্থায় বিড়ি বাধার কুলো সঙ্গে রাখা ছিল। সেখানেই ওই শিশু খেলতে গিয়েই কাঁচির ওপর পড়ে যায়। তখনই তার পেটে সেটি ঢুকে এফোড় ওফোড় হয়ে যায়। 

মৃত শিশু কন্যার পিসি মর্জিনা খাতুন জানিয়েছেন, কি করে এমন বড় ঘটনা ঘটে গেল কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে ওই ধারালো কাঁচিটি ব্যবহার করে বৌদি বিড়ি বানায়। এই এলাকাতে তো অধিকাংশ মানুষই বিড়ি শ্রমিক। আমরাও বাড়িতে বিড়ি বাঁধার কাজ করি। বিড়ির পাতা কাটার জন্য প্রত্যেককে কাঁচি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সেই কাঁচি কিভাবে খাড়া হয়ে থাকলো , আর তার ওপর খেলতে গিয়ে ছোট্ট ভাইজি পড়ে গিয়ে মারা গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না। এদিকে এই ঘটনার পর ওই পরিবারের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

কালিয়াচক থানার পুলিশ জানিয়েছে, দেড় বছরের কন্যা শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নিয়েই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Malda