/indian-express-bangla/media/media_files/2024/12/20/lc7n2iafCsSEJvW3ogui.jpg)
Amit Shah: অমিত শাহ।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক লাভের জন্য রাজ্য সরকার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করছে। তাঁর দাবি, এর ফলে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যায় ‘বিপজ্জনক পরিবর্তন’ ঘটেছে। শাহ বলেন, অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজ্যের মানুষ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
বাংলাদেশে ফের হিন্দু যুবক খুনে চরম চাঞ্চল্য! বড়সড় প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার
অমিত শাহের এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়ায় এক জনসভা থেকে তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, নির্বাচন এলেই “দুঃশাসন আর দুর্যোধনের আবির্ভাব” ঘটে। তাঁর অভিযোগ, ভয় দেখানো ও বিভাজনের রাজনীতি করতেই বিজেপি নেতারা বাংলায় আসেন। মমতার কথায়, বাংলার মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং কাউকে আক্রমণ করে না। তিনি বলেন, “আমরা চাইলে আপনাদের এক পা-ও বেরোতে দিতাম না, কিন্তু এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। এটাকে হালকাভাবে নেবেন না।”
বাংলাদেশ সীমান্তে ফেন্সিং দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না অমিত শাহের এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, পেট্রাপোল ও অন্ডালে জমি কে দিয়েছে? একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যদি অনুপ্রবেশকারীরা শুধু বাংলা দিয়েই ঢুকে থাকে, তবে তারা কীভাবে পহেলগাঁও পৌঁছাল? “তাহলে কি আপনিই পহেলগাঁও হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন?”এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করেন মমতা।
কলকাতা থেকে শাহি গর্জনের মাঝেই দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে দেখা করলেন অধীর, তুমুল চর্চা
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চলা SIR প্রক্রিয়া নিয়েও তীব্র অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, SIR-এর নামে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং এর জেরে রাজ্যে প্রায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মমতার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যা এক ‘বড় কেলেঙ্কারি’। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলার মানুষ বিজেপিকে কখনও ক্ষমতায় আসতে দেবে না।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও অমিত শাহের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ও দলের সিনিয়র নেতা ব্রাত্য বসু বলেন, “অমিত শাহ ফাঁকা দাবি করছেন। বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনে ৫০ আসনের গণ্ডিও পার করতে পারবে না।” তাঁর মতে, শাহ পর্যটকের মতো বাংলায় আসা-যাওয়া করলেও, তার কোনও রাজনৈতিক ফল হবে না এবং বিজেপিকে লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
Khaleda Zia death: প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বড় সিদ্ধান্ত BNP-এর
অন্যদিকে, অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে পুনরায় দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কেবল অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতই করা হবে না, তাদের বহিষ্কারও করা হবে। তাঁর কথায়, “১৫ এপ্রিল, ২০২৬-এর পর বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হবে, কারণ মানুষ তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। এই সব বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই স্পষ্ট, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us