/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/09/mamata-banerjee-attack-ed-raid-ipac-protest-kolkata-bengal-politics-2026-01-09-18-08-59.jpg)
কয়লা পাচার কাণ্ডে এবার শাহকে নিশানা, টাকা পাচারের মধ্যস্থতাকারী কে? Photograph: (ছবি পার্থ পাল)
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজ্য-রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় আই-প্যাকের দফতরে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তারই প্রতিবাদে আজ কলকাতায় প্রতিবাদ সভা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রতিবাদ মঞ্চ থেকেই বিজেপি-কমিশনকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মমতা বলেন, 'আমাকে আঘাত করলেই আমার পুনর্জীবন হয়'।
গতকাল আই-প্যাকে ও সংস্থার কর্নধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ইডির বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানিয়ে ইডির অভিযানকে অবৈধ ঘোষণা করার পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত সমস্ত গোপনীয় নথি অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইডি আদালতে দাখিল করা আবেদনে দাবি করেছে, আই-প্যাকের দফতরে তল্লাশি বাংলার কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, 'অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি তদন্তে বাধা দিয়েছেন এবং বেশ কিছু নথি 'ছিনিয়ে' নিয়ে গেছেন।
এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার বিকেলে ইডির অভিযানের প্রতিবাদে শুক্রবার একটি প্রতিবাদ সভার ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই অভিযান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় দেখাতেই অভিযান চালানো হয়েছে।
ইডির এই অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, মোদী সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ও বেছে বেছে বিরোধী নেতাদের নিশানা করছে। এই ইস্যুতে আগামীদিনে রাজ্য রাজনীতি আরও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আই-প্যাক অভিযানের পর শুক্রবার কলকাতায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তীব্র ভাষায় কেন্দ্র ও বিজেপিকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাজরা রোডে মিছিল শেষে সমাবেশ থেকে তিনি বলেন, “গতকাল আমি কোন অন্যায় করিনি”। সুস্থ বাঘের থেকেও আহত বাঘ ভয়ঙ্কর। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার জোর করে দখল করেছেন। এখন ভাবছেন বাংলা জোর করে দখল করবেন। সেটা হতে দেব না"। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "তুমি আমায় খুন করতে এসেছো আমার আত্মরক্ষার অধিকার আছে। আমার অফিস থেকে সব ডেটা চুরি করেছো, সাড়ে ৫ ঘণ্টায় সব কিছুই চুরি করেছো"।
কমিশনকে ও কেন্দ্রকে নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা আপনার অধিকার কেড়ে নেবো"। কয়লা কেলেঙ্কারি কাণ্ডে সরাসরি অমিত শাহকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কয়লার টাকা, কে খায়? অমিত শাহ টাকা খায়। জগন্নাথের কাছ থেকে টাকা যায় শুভেন্দুর কাছে। শুভেন্দুর টাকা যায় অমিত শাহের কাছে। সব পেন ড্রাইভে ধরা আছে। লক্ষণের সীমারেখা একটা আছে। তা অতিক্রম করলেই কিন্তু সামলে রাখতে পারবে না। আমি অনেক কিছু জানি। আমি মুখ খুললে সারা বিশ্বে তোলপাড় পড়ে যাবে"। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, " আমি খবরটা ভোরেই শুনেছিলাম। আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম, দেখলাম ফোনটা বেজে যাচ্ছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে 'ভাণ্ডা' ফাঁস করে দেব। নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এর আগে আই-প্যাক কাজ করেছিল। নীতীশ কুমার থেকে চন্দ্রবাবু নাইডু সকলের হয়ে কাজ করেছে। আজ আইপ্যাক তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে"।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অভিযোগ করেন, "বাংলাকে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। SIR নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করে “অসমে কেন এসআইআর নয় সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। শুধু বাংলার ওপরই কেন হামলা?” তিনি বলেন, যে বাংলা স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, সেই বাংলার মানুষকেই আজ ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপিকে ‘স্বৈরাচারী’ ও ‘অত্যাচারী’ দল আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গান্ধীজি, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ, স্বামী বিবেকানন্দ, বিদ্যাসাগরের আদর্শকে বাদ দিয়ে ওরা দেশ চালাতে চাইছে।”
কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, “নাগরিকদের অধিকার কেড়ে নিলে আমরাও তাদের অধিকার কেড়ে নেব।” নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ইচ্ছাকৃত বাংলার ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হলে বাংলার মানুষ তা মানবে না।” তাঁর বক্তব্য, আহত বাঘ আরও ভয়ংকর আঘাত করলে প্রত্যাঘাত কীভাবে করতে হয়, তা আমি জানি"।
কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার বক্তব্য, কয়লা দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য তাঁর কাছে পেন ড্রাইভে রয়েছে এবং সময় এলে তিনি সব প্রকাশ করবেন। তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম উল্লেখ করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি বিএসএফ, সিআইএসএফ ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়েও কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'দিল্লির বঞ্চনা, অপমান ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধেই তাঁর এই আন্দোলন। তৃণমূল নেত্রী এদিন আরও বলেন, “আমাদের পরবর্তী গন্তব্য নির্বাচন কমিশন। বাংলার প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় বিজেপির বিরুদ্ধে মৃত্যু ঘণ্টা বাজবে।”
IPAC raid Kolkata: আইপ্যাক তল্লাশিতে 'বাধা', ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ ED
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা! হেল্পলাইন চালু করলেন অভিষেক
শুরুতেই অঘটন, গঙ্গাসাগর মেলায় ভয়ঙ্কর অগ্নিকান্ড, পুড়ে ছাই একাধিক অস্থায়ী তাঁবু
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us