/indian-express-bangla/media/media_files/2025/09/04/mamata-ba-2025-09-04-16-26-02.jpg)
Mamata Banerjee: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বেশ কয়েক বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চপ শিল্পে জোর দিতে বলেছিলেন যুব সমাজকে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের বাড়িতে বসে না থেকে চপের দোকান খুলে রোজগারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এটাও তো একটা শিল্প। যা পরে বাংলার রাজনীতিতে চপশিল্প কটাক্ষে পরিণত হয়। বুধবার ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে বিকল্প উপার্জনের পথ। এবার চা-ঘুগনির ব্যবসা করতে বললেন মমতা। বুধবার রাজ্যের ব্যবসায়ীদের নিয়ে নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, "১০০০ টাকা নাও দুটো চায়ের কেটলি কেনো, ঘর থেকে কিছু চা নিয়ে চা তৈরি করো, আর বিস্কুট নাও। বউকে দিয়ে ঘুগনি তৈরি করে আনো, প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দাঁড়াও, বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়াও দেখ এই টাকা তোমার কততে দাঁড়ায়"। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে মমতার এই বার্তাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এদিনের সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা এখন বাণিজ্যের জন্য উপযুক্ত স্থান।পাশাপাশি তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অনান্য অনেক রাজ্যকে পিছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। পাশাপাশি কলকাতা ও শিলিগুড়িতে ‘ট্রেড এক্সপোর্ট ফেসিলিটি সেন্টার’ গড়ে তোলার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁত, হস্তশিল্প, টেরাকোটা সহ আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রিযোগ্য সমস্ত পণ্য এই এক্সপোর্ট ফেসিলিটি সেন্টারের মাধ্যমে বিদেশে রফতানি করার সুযোগ পাবেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাজারের দরজা খুলবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে ‘বিজনেস টু বিজনেস’ (B2B) হাব তৈরি করা হবে। এই হাবে জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত সমস্ত পণ্য রাখা হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। এর মাধ্যমে রাজ্যের পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় ‘ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ গঠনের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই বোর্ডে নিয়মিত বৈঠক হবে, যেখানে ব্যবসায়ীরাই নিজেদের সমস্যা তুলে ধরবেন এবং সমাধানের পথ খুঁজবেন। সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি সিঙ্গল উইন্ডো ইন্টারফেস তৈরি করা হবে, যাতে ব্যবসা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়। জেলার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পাশাপাশি জেলাশাসকরাও যুক্ত থাকবেন। ফলে পুরুলিয়ায় ব্যবসা সংক্রান্ত সমস্যা হলে আর কলকাতায় আসার প্রয়োজন পড়বে না, জেলাতেই সমাধান মিলবে।এছাড়াও ‘ট্রেডস পোর্টাল’ চালুর কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি কাজের পেমেন্ট পেতে দেরি হওয়ায় বহু ব্যবসায়ীর বিনিয়োগে সমস্যা হয়। এই পোর্টালে কাজ শেষ হওয়ার তথ্য আপলোড করলেই সংশ্লিষ্ট ৭২টি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের প্রাপ্য অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিন বক্তব্যের শুরুতেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলায় বর্তমানে ৬৬০টিরও বেশি এমএসএমই ক্লাস্টার রয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। মহিলাদের অংশগ্রহণের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে রাজ্যে কয়েক লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অনলাইন কেনাকাটার পরিসর বাড়লেও খুচরো ব্যবসায়ীরাই রাজ্যের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাঁর কথায়, “অসংগঠিত ক্ষেত্রে ৬৫ লক্ষ ব্যবসায়ী রয়েছেন। খুচরো ব্যবসায়ীরাই বাংলার অর্থনীতির ভিত্তি।” পাশাপাশি কেন্দ্রের নোটবন্দি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজ্যে একসময় বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা বর্তমান সরকার কমাতে সক্ষম হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে ছ’টি ইকোনমিক করিডর তৈরি করা হচ্ছে। এই করিডরের আশেপাশে শিল্প ও দোকান গড়ে উঠবে, যার ফলে খুচরো বিক্রেতারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। লজিস্টিক সেক্টরকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি কলকাতা ও শিলিগুড়িতে ইতিমধ্যেই এক্সপোর্ট সেন্টার খোলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন- মেসি কাণ্ডে গর্জে উঠলেন অভিষেক! গাফিলতির দায় কার? বিরাট মন্তব্য যুবরাজের
আরও পড়ুন- রূপার দামে ভূমিকম্প! ২ লাখ পার, আকাশছোঁয়া সোনাও
পানিহাটিতে তৃণমূল কাউন্সিলর অনুপম দত্ত হত্যা মামলা: দোষী তিনজনের দৃষ্টান্তমূলক সাজা
West Bengal News Live Updates: ‘সবকিছু করার পরও আক্রমণ!’ যুবভারতী নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিষেক
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us