/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/21/mamata-banerjee-international-mother-language-day-all-languages-equal-respect-2026-2026-02-21-16-22-49.jpg)
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য মমতার
Mamata on International Mother Language Day: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাষা রক্ষার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) তিনি বলেন, সব ভাষাই সমান মর্যাদার দাবিদার এবং কোনও ভাষার ওপর ‘আক্রমণ’ হলে তার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।
বিভিন্ন ভাষা আন্দোলনে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এবং ইতিমধ্যেই সাঁওতালি, কুরুখ, কুর্মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরি, পাঞ্জাবি ও তেলুগু-সহ একাধিক ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলা শুধু সমৃদ্ধ সাহিত্য ঐতিহ্যের ভাষাই নয়, বরং সব ভাষাভাষী মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক বৃহত্তর অঙ্গীকারের অংশ। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (X) করা পোস্টে তিনি লেখেন, রাজ্যে প্রত্যেক মানুষ যাতে নিজের মাতৃভাষায় পড়াশোনার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করেছে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের জন্য রাজ্যে পৃথক ভাষা অ্যাকাডেমি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দের ভাষাকে যেমন আমরা শ্রদ্ধা করি, তেমনই সব ভাষাকেই সমান মর্যাদা দিই। এই পবিত্র দিনে আমরা শপথ নিচ্ছি, কোনও ভাষা আক্রমণের মুখে পড়লে আমরা সবাই একসঙ্গে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বাইরে বাংলা ভাষাভাষী, বিশেষত পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর বাংলাদেশি সন্দেহে হামলার অভিযোগ সামনে আসার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। রামকৃষ্ণ পরমহংস-র জন্মতিথি উপলক্ষে ‘স্বামী’ শব্দ ব্যবহার করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতার অভিযোগ তোলেন। একইভাবে গত বছর সংসদে ‘বন্দে মাতরম্’ প্রসঙ্গে ভাষণ দিতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে ‘বঙ্কিম দা’ বলে উল্লেখ করায়ও তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় প্রধানমন্ত্রীর।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষার মর্যাদা ও সুরক্ষার প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দৃঢ় অবস্থান রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই পুণ্যদিনে সম্মান জানাই বিশ্বের সকল ভাষা ও ভাষাভাষী মানুষকে। বিশ্বের সকল দেশের সকল ভাষা-শহিদদের ও ভাষা-সংগ্রামীদের জানাই আমার প্রণাম ও অন্তরের শ্রদ্ধা।
রবীন্দ্রনাথ - নজরুল - সুকান্ত - জীবনানন্দের বাংলা শুধু নয়, আমরা সব ভাষাকেই সম্মান করি। এটা আমার গর্ব যে, আমাদের সময়ে হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি, তেলুগু ভাষাকে আমরা সরকারি ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছি। সাদরি ভাষার মানোন্নয়নেও আমরা সচেষ্ট হয়েছি। হিন্দি আকাদেমি, রাজবংশী ভাষা আকাদেমি, কামতাপুরী ভাষা আকাদেমি, সাঁওতালি আকাদেমি – সব করা হয়েছে। এটাও সুনিশ্চিত করেছি যে, রাজ্যের প্রত্যেক ভাষা-ভাষী মানুষ তাদের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করার সুযোগ পায়।
একুশের এই পুণ্য দিনে আরও একবার অঙ্গীকার করছি যে-কোনো ভাষার ওপর যদি আক্রমণ আসে – আমরা সবাই মিলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো। সকল ভাষা সমান ভাবে সম্মাননীয়"।
আরও পড়ুন- হুমায়ুন কবীরের 'বাবরি' স্বপ্নে তৃণমূলের রঙ! শাসকদলের নেতার বিপুল অনুদানে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us