/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/10/mamata-banerjee-letter-cec-gyanesh-kumar-bengal-sir-voter-list-intimidation-2026-01-10-18-03-21.jpg)
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর নামে বাংলায় যা ঘটছে তা সাধারণ মানুষের মর্যাদা, জীবিকা এবং সাংবিধানিক অধিকারের উপর এক “ভয়াবহ আক্রমণ”। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়া এখন ভোটারদের “ভয় দেখানো এবং নাম বাদ দেওয়ার” হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতের নির্বাচন কমিশন ধীরে ধীরে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে বিপজ্জনকভাবে সরে যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গণতন্ত্র ভয়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকে না। জোরজবরদস্তি করে ভোটার তালিকা 'শুদ্ধ' করা যায় না।” তাঁর মতে, এসআইআর-এর আওতায় যেভাবে শুনানি চালানো হচ্ছে, তাতে মানবিক সংবেদনশীলতা এবং বাস্তবতার কোনও প্রতিফলন নেই।
মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে এসআইআর নোটিস পাঠানোর ঘটনাকে উল্লেখ করে একে ‘প্রাতিষ্ঠানিক ঔদ্ধত্যের’ উদাহরণ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি অমর্ত্য সেনের মতো বিশিষ্ট মানুষও রেহাই না পান, তাহলে গরিব মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক, দিনমজুর ও মহিলাদের কী অবস্থা হচ্ছে?” তাঁর বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার জেরে ভয়, আতঙ্ক ও মানসিক চাপে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিগুলি যান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সহানুভূতি বা বিবেচনাবোধ ছাড়াই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যার পরিণতিতে মৃত্যু, আত্মহত্যার চেষ্টা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই ভয় ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে।
West Bengal Weather: হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাংলাজুড়ে, শীতের ঝোড়ো ইনিংস আর কতদিন চলবে?
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উচিত জবাবদিহিতার মধ্যে থেকে কাজ করা। “অহংকারী শাসকের মতো আচরণ করে কোনও প্রতিষ্ঠান সম্মান অর্জন করতে পারে না,” মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখনও সময় আছে সংশোধনের পথে ফেরার এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর।
প্রসঙ্গত, এসআইআর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের সংঘাত চলছে। খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৮.৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। এই প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছেন, SIR নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
ইডির অভিযান নিয়ে মমতার প্রতিবাদের পরই তড়িঘড়ি বিবৃতি সংস্থার, কী জানালো IPAC?
এদিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার নিজেদের নির্বাচনী প্রচার-গান প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। গানটির মাধ্যমে টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে শাসকদল। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই গান প্রকাশের ঘটনা ঘটল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অভিযানের জেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থার তীব্র সংঘাতের ঠিক দু’দিন পর। প্রচার-গানের মূল কথায় উঠে এসেছে, “সব আক্রমণ সত্ত্বেও বাংলা আবার জিতবে।” গানের ভিডিওতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবি লাল আভায় দেখানো হয়েছে। গানের কথায় দাবি করা হয়েছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা হয়েছে এবং ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে। এর পাল্টা জবাবে বলা হয়েছে, “বাংলা তার জবাব দিতে জানে।” পাশাপাশি, ঝড়ঝঞ্ঝা সত্ত্বেও রাজ্যে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে এবং সামাজিক ঐক্য অটুট থাকবে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বছরের শুরুতেই কেঁপে উঠল চম্পাহাটি! বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ
Our campaign song for #AbarJitbeBangla is finally here, ready to ignite every corner of Bengal!
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) January 10, 2026
Tune in and feel the raw power of our land; the defiant pulse of Bengal beating strong, the unbreakable resolve of millions who refuse to be silenced, the thunderous roar of a people… pic.twitter.com/oC9zmv99RM
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us