/indian-express-bangla/media/media_files/2025/07/28/mamata-banerjee-2025-07-28-16-13-44.jpg)
এসআইআর নিয়ে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনি ষষ্ঠবারের মতো চিঠি পাঠালেন। এই চিঠি পাঠানো হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সোমেই সাক্ষাৎ করতে চলেছে।
আরও পড়ুন- "জেল নয়, জরিমানা!" কর ফাঁকিতে বড় স্বস্তি দিলেন নির্মলা, ১ এপ্রিল থেকে নতুন আইন
৩১ জানুয়ারি তারিখে পাঠানো সর্বশেষ চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, বাংলায় SIR প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া হয়েছে, তা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধির গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন বলে তাঁর দাবি। মমতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতভাবে প্রায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং মানবাধিকার ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই কাজ করা হচ্ছে।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম কোনও রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ৮,১০০ মাইক্রো-অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁদের না রয়েছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, না রয়েছে কোনও আইনি ভিত্তি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ এবং ভোটার রেজিস্ট্রেশন বিধি, ১৯৬০ অনুযায়ী যাচাই, শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবলমাত্র ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং সহকারী ERO-দের হাতে। সেখানে মাইক্রো-অবজারভারদের ভূমিকা আইনসঙ্গত নয় বলেই তাঁর দাবি।
এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে নিয়মের প্রয়োগে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, অন্য কোনও রাজ্যে SIR চলাকালীন এই ধরনের মাইক্রো-অবজারভার মোতায়েন করা হয়নি। তিনি বাইরে থেকে অবজারভার আনার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন এবং অভিযোগ করেছেন, কিছু অবজারভার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকেই কাজ করে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে বেআইনিভাবে তথ্য বদল করছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, এই সমস্ত ঘটনা SIR প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে এবং অবিলম্বে তদন্ত প্রয়োজন। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এই চিঠি SIR শুরু হওয়ার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো একাধিক চিঠিরই ধারাবাহিকতা। ১২ জানুয়ারি পাঠানো পঞ্চম চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, শুনানির সময় ভোটারদের জমা দেওয়া নথির কোনও রসিদ বা স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না, ফলে ভোটাররা প্রমাণ ছাড়াই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন, যাঁদের শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সরাসরি বা উত্তরাধিকার সূত্রে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ যান্ত্রিক এবং প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটির উপর নির্ভর করছে। প্রথম ধাপে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ২০০২ সালের হাতে লেখা ভোটার তালিকা, বিশেষ করে আঞ্চলিক ভাষায় লেখা নথি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ইংরেজিতে রূপান্তর করার সময় ব্যাপক ভুল হয়েছে। নাম, বয়স, লিঙ্গ ও অভিভাবকের তথ্যের ত্রুটির কারণেই বহু প্রকৃত ভোটারকে ভুলভাবে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
মুখ্যমন্ত্রী বারবার দাবি করে আসছেন, এই SIR প্রক্রিয়া কার্যত পিছনের দরজা দিয়ে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC) চালুর চেষ্টা। এর মধ্যেই রাজ্যের একাংশ বুথ লেভেল অফিসার (BLO) মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় তাঁদের উপর অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন জেলায় একাধিক BLO-র মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে সাধারণ নাগরিক ও BLO-দের মৃত্যুর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই সর্বশেষ চিঠির কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই আবহেই সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিকেল ৪টেয় দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, SIR-এর বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই তিনি “শিগগিরই দিল্লিতে নিয়ে যাবেন।”
আরও পড়ুন- ধুমপায়ীদের মাথায় হাত, সিগারেটের দামে বিরাট লাফ, হুড়মুড়িয়ে কমল মোবাইল, ইলেকট্রিক গাড়ির দাম


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us