/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/mamata-banerjee-murshidabad-sir-nrc-babri-row-2025-12-04-16-49-12.jpg)
সাসপেন্ড হতেই মমতাকে বেনজির নিশানা হুমায়ুনের
Humayun Kabir: মুর্শিদাবাদে এসআইআর-বিরোধী সমাবেশ থেকে বৃহস্পতিবার বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যত হুঙ্কার ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, রাজ্যে কখনও এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প চালু হতে দেবেন না। তাঁর কথায়, “গলা কেটে নিলেও বাংলায় এনআরসি হবে না, কাউকে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না"। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, "এসআইআরকে কেন্দ্র করে বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করছে"। তিনি দাবি করেন, এসআইআর-এর কারণে রাজ্যে যে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে অর্ধেকই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। মমতার কথায়, “ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবেন না। যেই ডালে বসে আছেন, সেই ডাল কেটে ফেলবেন না।” এদিনের সভা থেকে মমতা নির্বাচন কমিশনকেও বার্তা দেন। তিনি বলেন, "সুষ্ঠু ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির স্বার্থে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কমিশনের উচিত কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মাইক্রো-অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা। সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াক্ফ সম্পত্তি রক্ষারও আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, রাজ্যে কোনও সংখ্যালঘুর জমি দখল করা হবে না এবং রাজ্যে এ নিয়ে নানান অপপ্রচার চলছে, এ সবই ভিত্তিহীন মিথ্যা।”
আরও পড়ুন- বাংলাদেশের পাশাপাশি চিনে জোরালো কম্পন, ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক
মুর্শিদাবাদে সভা থেকে ফের রাজ্যের জনগণকে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং কারও নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্য থেকে কেউ বিতাড়িত হবেন না। যদি কাউকে বাংলাদেশ পাঠিয়েও দেওয়া হয়, মৎস্যজীবীদের যেভাবে ফিরিয়ে এনেছি, সেভাবেই ফিরিয়ে আনব।” আজকের সভায় তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সোনালি খাতুনের ঘটনাটি। গর্ভবতী সোনালিকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছিল। সেই মামলায় রাজ্য আদালতে যায় এবং সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় তাঁকে ফিরিয়ে আনার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সোনালি খাতুনের জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। উনি গর্ভবতী মা। কেস করে বলেছি, তাঁকে ফিরিয়ে আনতেই হবে।”
এর পাশাপাশি এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে জনমানসে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “SIR নিয়ে ভয় পাবেন না। শুধু কাগজপত্র ঠিক মতো জমা দিন। বিজেপি সময় এমনভাবে বেছেছে যাতে চাপ তৈরি হয়। যদি আমরা এসআইআর করতে না দিতাম, তাহলে ভোট বন্ধ করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হত। এটাই অমিত শাহের চালাকি।”
আরও পড়ুন- লক্ষ্মীবারেই লক্ষ্মীলাভের বিরাট সুযোগ, কমল সোনার দর, কলকাতার দাম জানলে চমকে যাবেন
এদিকে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে চলমান বিতর্কের জেরে তৃণমূল কংগ্রেস ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে সাসপেন্ড করে। এরপর এদিন মমতা বলেন, "মুর্শিদাবাদ, বিভিন্ন ধর্মের মিলনভূমি। তাই এই জেলা কখনই দাঙ্গার রাজনীতিকে মেনে নেবে না। “তৃণমূল কোনওভাবেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে না এবং তা বরদাস্তও করবে না।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “এ জেলা নবাবদের ভূমি, যেখানে সব ধর্মের পবিত্র স্থান রয়েছে। মুর্শিদাবাদের মানুষ ঐক্যের ইতিহাস ভুলতে পারে না।”
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার ঠিক আগেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হুমায়ুন কবীর জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তাঁর অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও সরছেন না। ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাস তিনি করবেনই। এরপরই নাম না করে হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, " মুর্শিদাবাদের মানুষ কখনও "দাঙ্গার রাজনীতি" মেনে নেবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করে তিনি জেলার বহুত্ববাদী ইতিহাস তুলে ধরেন। মমতা বলেন, “আমরা মুর্শিদাবাদের ইতিহাস ভুলতে পারি না। সিরাজউদ্দৌলাকে এখানকার প্রতিটি ঘরেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এই জেলা নবাবদের ভূমি। এখানে সকল ধর্মের পবিত্র স্থান রয়েছে। মুর্শিদাবাদের মানুষ দাঙ্গার রাজনীতি মেনে নেবে না,”।
আরও পড়ুন- West Bengal News Live Updates: 'ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করে তাদের সঙ্গে দলের সম্পর্ক নেই', হুমায়ূনকে তাড়িয়ে সাফ বললেন ফিরহাদ
এদিকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই হুমায়ুন কবীর বলেন, "আগামীকালই দল থেকে পদত্যাগ করব"।পাশাপাশি ২২ ডিসেম্বর নিজের দল ঘোষণা করবেন বলেও হুঙ্কার ছোঁড়েন তিনি কয়েকদিন আগে, ভরতপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মুর্শিদাবাদ জেলায় বাবরি মসজিদের (অযোধ্যা) আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন। কবীর জোর দিয়ে বলেছিলেন যে তিনি ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদের 'শিলান্যাস' করবেন । এদিন সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা বলেন, “আমাকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, এমএলএ পদ থেকে নয়। জেলা সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের জন্য এসেছি। বৈঠক শেষে প্রতিক্রিয়া দেব।” পাশাপাশি তিনি এও বলেন, "মুর্শিদাবাদের মানুষ এর জবাব দেবে। আমি বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ব।"
সাসপেন্ড হওয়ার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে তৃণমূলের বরখাস্ত বিধায়ক হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, রাজ্যে মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ সরকারি অর্থে একের পর এক মন্দির তৈরি হচ্ছে। তাঁর কথায়, “নিউটাউন-রাজারহাটে ১১০০ কোটি টাকার জমি মুখ্যমন্ত্রী মন্দির তৈরির জন্য বরাদ্দ করেছেন। ক্ষমতা কতদিন থাকে দেখব… বেশ করেছি। ক্ষমতা থাকলে রুখে নেবে। এরকম আরএসএস মার্কা মুখ্যমন্ত্রীর থেকে বরং সরাসরি বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলে স্বাগত জানাব।” তিনি আরও বলেন, তৃণমূল মুসলমানদের “বোকা বানাচ্ছে”। মুসলমানদের ভোটে ক্ষমতায় এলেও দলের মধ্যে মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের কোনও গুরুত্ব নেই বলেও তোপ দাগেন ভরতপুরের বিধায়ক।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us