/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/04/mamata-banerjee-sir-supreme-court-impeachment-cec-ec-row-2026-02-04-17-41-19.jpg)
SIR ইস্যুতে ইসিআইকে অপসারণের ক্ষমতা আছে মমতা-তৃণমূলের?
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি সফরে গিয়ে তিনি এসআইআরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি বুধবার সুপ্রিম কোর্টে হাজির থেকে SIR সংক্রান্ত তাঁর ও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য আবেদনের শুনানিতেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রস্তাবিত পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ইমপিচমেন্টের পথেও হাঁটতে আপত্তি নেই তাঁর দলের। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যদি জনস্বার্থে কোনও বাস্তব ও যৌক্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে আমরাও সেই প্রক্রিয়ায় পাশে থাকব। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও ইমপিচমেন্টের বিধান আছে, অন্তত তা নথিভুক্ত হবে।” তিনি আরও জানান, কংগ্রেস এ ধরনের উদ্যোগ নিলে তৃণমূলের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মমতার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে হলে সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার। সেই ক্ষমতা তৃণমূল বা বিরোধীদের নেই। মানুষ আপনাকে দেশের শাসনভার দেয়নি।” তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর ও মন্তব্যকে রাজনৈতিক 'নাটক' বলেও কটাক্ষ করা হয়।
আরও পড়ুন- আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ফের উদ্ধার টাকার পাহাড়, ১০ স্থানে একযোগে ফের অভিযান ইডির
সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের মতোই কঠোর। লোকসভায় কমপক্ষে ১০০ জন বা রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষরে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে হয়। সেই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হলে সংসদে আলোচনার পর উভয় কক্ষে মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনে তা পাশ হতে হয়।
প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি অশোক কুমার গাঙ্গুলি জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের এককভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু করার মতো সাংসদ সংখ্যা নেই। কংগ্রেস সমর্থন করলে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে, তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব সংসদে ওঠেনি। তাঁর মতে, গোটা প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আদতে প্রতীকী প্রতিবাদ। সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম বলেন, “সংসদে বিষয়টি নথিভুক্ত করাই মূল লক্ষ্য। বিরোধীদের হাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় অপসারণ কার্যত অসম্ভব। তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এমন কোনও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ নেই, যার ভিত্তিতে ইমপিচমেন্ট গ্রহণযোগ্য হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং কমিশন আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ মেনেই কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও ইমপিচমেন্টের প্রসঙ্গ তোলার মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে জাতীয় স্তরে একজন লড়াকু বিরোধী নেত্রী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। অধ্যাপক ইসলাম বলেন, “এটি এক ধরনের ‘পারফরমেটিভ পলিটিক্স’। নিজের ভোটব্যাঙ্ককে বার্তা দেওয়া যে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে তিনি দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রের শক্তিশালী সরকারের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে প্রস্তুত।” একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্য ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
আরও পড়ুন- 'এসআইআরকে ভন্ডুল করার চেষ্টা, উনি আদালতে সওয়ালই করেন নি', শুভেন্দুর আগুনে আক্রমণের মুখে মমতা


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us