Mamata-Suvendu: 'এসআইআরকে ভন্ডুল করার চেষ্টা, উনি আদালতে সওয়ালই করেননি', শুভেন্দুর আগুনে আক্রমণের মুখে মমতা

Mamata-Suvendu: বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, "গতকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়াল নিয়ে প্রচারের ঝড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। যেন 'বড় বিস্ফোরণের' অপেক্ষায় ছিল ভারত।

Mamata-Suvendu: বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, "গতকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়াল নিয়ে প্রচারের ঝড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। যেন 'বড় বিস্ফোরণের' অপেক্ষায় ছিল ভারত।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Suvendu Adhikari, Mamata Banerjee, BJP, TMC, Bengal Assembly Election, Parivartan Yatra, Kalighat, SIR controversy, political clash, Bengal politics, electoral politics, Tata Singur issue, Kanyashree, governance promises

শুভেন্দুর আগুনে আক্রমণের মুখে মমতা

Mamata-Suvendu: 'বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে! অসমে SIR নয় কেন?' সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন 'আইনজীবী' মমতার। আর এনিয়েই মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। 

Advertisment

ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ নাম বাদের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল খোদ মুখ্যমন্ত্রীর। নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে তোপ। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ভোটার তালিকা 'সংশোধনের' নামে আসলে ভোটারদের  নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে এবং নির্বাচন কমিশন কার্যত ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশনে’ পরিণত হয়েছে। এনিয়ে এবার মমতাকেই নিশানা রাজ্যের বিরোধী দলনেতার।

আরও পড়ুন-Mamata Banerjee: "সুবিচারের জন্য কাঁদছি..." SIR মামলা নিজেই লড়লেন! আইনজীবীর পোশাকে সুপ্রিম কোর্টে ঝড় তুললেন মমতা 

এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "গত ২-৩ দিন ধরে SIR নিয়ে নাটক ও মিথ্যা প্রচার চালানোর চেষ্টা চলছে। প্রথম দিন কমিশনকে নিশানা, দিল্লি পুলিশকেও আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উলটে দিল্লি পুলিশ ওনার মিথ্যাচার ফাঁস করেছেন। উনি ইসিআইকে নিশানা করেছিলেন। মুখ্যনির্বাচন কমিশনারকে অহংকারী, মিথ্যাবাদী বলে তোপ দাগেন তিনি। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে থেকেও উনি এসআইআরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন"। 

বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, "গতকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়াল নিয়ে প্রচারের ঝড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। যেন 'বড়  বিস্ফোরণের' অপেক্ষায় ছিল ভারত। কিন্তু আজকে কোর্টে মমতা 'রসগোল্লা' পেলেন। আইন বা রাজনীতি নিয়ে যারা খোঁজ রাখেন তারা সকলেই জেনেছেন আজ শুনানি পর্বে ঠিক কী কী হয়েছে"। শুভেন্দু বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী নিজে এদিন সওয়াল করেননি। তিনি পিটিশনার হিসাবে কোর্টে হাজির ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ঘুরিয়ে তাঁকে  থামানোর চেষ্টা করেছেন। তারপরেও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উনি ওনার কাজ করেছেন। ওনার অনুবাদক নিয়ে যাওয়া উচিত ছিলেন। সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জী ওটাকে সংশোধন করছিলেন। যেভাবে ভুল ইংরাজি বলছিলেন, তা রাজ্যের পক্ষে লজ্জার। মূলত উনি বা ওনারা প্রথম দিন থেকে দুটো কাজ করার মরিয়া চেষ্টা করছেন, এক এসআইআরকে ভন্ডুল করা। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালে বাংলাদেশি ও মৃত ভোটার তালিকায় নির্বাচন করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা ইতিমধ্যে ওনার বিএলও-রাই বাদ দিয়েছেন। তাদের সুপারিশেই পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ হয়েছে"।

আরও পড়ুন-Humayun Kabir: মাটিতে পা পড়বে না নেতার! ভোটের প্রচারে শুধুই হেলিকপ্টারে উড়বেন হুমায়ুন কবীর 

'SIR এর বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা মমতার, উনি আজকে যেগুলো চেয়েছেন শূণ্য হাতে ফিরেছেন' দাবি রাজ্যের বিরোধী দলনেতার। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary) বলেন, "সব পক্ষকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল টার্গেট যেটা ছিল মাইক্রো অবজারভার আটকানো। মাইক্রো অবজারভার নিয়োগে অসুবিধাটা কোথায়? ভারতের ১২ রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে কেন বাংলায় মাইক্রো অবজারভার? কারণ, এসডিও র‍্যাঙ্কের ইআরও, কমিশনের নির্দেশ মেনে নিয়োগ করেনি রাজ্য। ২২৫ জন যারা ইআরও হতে পারেন না তাদের নিযুক্ত করেছেন মমতা প্রশাসন। কানাগলিতে ঢুকেছেন মমতা ও তার প্রশাসন"। কমিশনের গাইডলাইন না মেনে ERO নিয়োগ নিয়েও এদিন তোপ দাগেন বিরোধী দলনেতা। "আপনি নিয়ম ভেঙেছেন। কমিশনকে সহযোগিতা করেননি"। অভিযোগ শুভেন্দুর।  

এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে প্রবীণ আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আইনি যুক্তি পেশ করলেও, মমতা নিজে আদালতের কাছে কিছু বলার অনুমতি চান। তিনি বলেন, “সমস্যা হলো, আমাদের আইনজীবীরা লড়ছেন, আমরা শুরু থেকেই লড়ছি। কিন্তু সব শেষ হওয়ার পরও যখন আমরা বিচার পাচ্ছি না, যখন বিচার দরজার আড়ালে কাঁদছে, তখন বাধ্য হয়েই আমাকে আসতে হলো। আমি সাধারণ পরিবারের মেয়ে, আমি আমার দলের জন্য লড়ছি না, লড়ছি সাধারণ মানুষের জন্য।”

মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াটি অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য নয়, বরং নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে (Deletion, not inclusion)। তিনি আদালতে জানান, মহিলারা বিয়ের পর পদবী পরিবর্তন করে শ্বশুরবাড়ি গেলে ‘তথ্য অমিল’-এর অজুহাতে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২৪ বছর পর হঠাৎ কী এমন তাড়া পড়ল যে দু’মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে হবে? উৎসবের মরসুম এবং ধান কাটার সময়ে সাধারণ মানুষকে নোটিস পাঠিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। ১০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন, বিএলও-রা (BLO) মারা যাচ্ছেন।”

এদিকে সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সওয়ালকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, "দিল্লিতে ড্রামা করলেন মমতা ব্যানার্জি। প্রথমে বঙ্গভবনের সামনে ড্রামা করলেন তারপর তার নাটক চলল নির্বাচন কমিশনে ও একেবারে শেষে সুপ্রিম কোর্টে। মমতা ব্যানার্জি সুপ্রিম কোর্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্বাচন কমিশনকে হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলে দিলেন। বিচারপতির অনুমতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে বলেছিল আপনার আইনজীবী অত্যন্ত দক্ষ আমরা তাঁদের কথাই শুনবো। এর থেকে খারাপ শব্দে সুপ্রিম কোর্ট একজন মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে পারেন না যে আপনি চুপ থাকুন, আপনার কথা আমরা শুনতে চাইছি না।"

আরও পড়ুন- Gold Price Today: ৩০ হাজার ৩০০ টাকা দাম কমার পর আজ কলকাতায় সোনার দর জানলে চমকে যাবেন! রূপা সস্তা নাকি দামি? 

mamata Suvendu Adhikary