এসআইআর-কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মমতা, পুরনো ভোটার তালিকায় নির্বাচন চেয়ে পিটিশন

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Mamata Banerjee Supreme Court PIL, SIR voter roll challenge, West Bengal Assembly election 2026, elections on old voter list, Election Commission SIR controversy, mass disenfranchisement voters claim, Mamata vs ECI Supreme Court, Special Intensive Revision electoral rolls, voter list transparency issue, West Bengal poll row

এসআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মমতা

এসআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মমতা, পুরনো ভোটার তালিকায় নির্বাচন চেয়ে পিটিশন।

Advertisment

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করেছেন। পাশাপাশি দাবি করেছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যেন গত বছর প্রস্তুত করা ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হয়।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তড়িঘড়ি চালানো এই এসআইআর প্রক্রিয়া যোগ্য ভোটারদের ‘গণহারে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা’ তৈরি করছে। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে ২০২৬ নাগাদ শেষ হচ্ছে। ফলে বড়সড় ভুল বা নাম বাদ পড়ার ঘটনা ঘটলে সংশোধনের জন্য ভোটারদের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে না, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

মমতার যুক্তি, তাড়াহুড়ো করে এসআইআর শেষ করে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দিলে তা গুরুতর অবিচার হবে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ‘অস্বচ্ছ, অসাংবিধানিক ও বেআইনি’ পদক্ষেপের ফলে তৈরি হওয়া ভুল সংশোধনের সুযোগ সময়ের অভাবে মিলবে না। এতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে তিনি দাবি করেন। 

দাখিল করা পিটিশনে বলা হয়েছে, এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ ভোটার ভোটাধিকার হারাতে পারেন এবং রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হবে। মমতার অভিযোগ, ২০০২ সালকে একটি খামখেয়ালি কাট-অফ তারিখ ধরে বিদ্যমান ভোটারদের আবার নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা সংবিধান এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ ও ১৯৫১-এর পরিপন্থী।

পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে ৯০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে এই সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকরা সমস্যায় পড়বেন, যাঁরা কাজের সূত্রে রাজ্যের বাইরে থাকেন এবং শুনানি বা নথি যাচাইয়ের সময়সীমা মিস করতে পারেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নথি খারিজ, অসংগত শুনানি, বিভ্রান্তিকর নির্দেশিকা ও অস্পষ্ট নিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অপরীক্ষিত অ্যালগরিদম ও সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা একেবারে তৃণমূল স্তরে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, নামের বানান বা সামান্য গরমিলকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ দেখিয়ে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা যেন না হয় এবং উপলব্ধ নথির ভিত্তিতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করা হয়। পাশাপাশি সব 'বৈধ কর্তৃপক্ষ' কর্তৃক জারি করা নথিকে পরিচয় প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে। 

এছাড়াও পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত আগের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্বাচন আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ তালিকাভুক্ত ভোটারদের নাম অনলাইনে প্রকাশ না করায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

মালদার মতো কয়েকটি জেলার উদাহরণ তুলে ধরে মমতার দাবি, ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কয়েক দিনের মধ্যেই, ২২ জানুয়ারি প্রায় ২০ হাজার নতুন মামলাকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পরে বিশাল তালিকা প্রকাশের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে গরমিলের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, যা বেআইনি এবং শীর্ষ আদালতের নির্দেশের প্রকাশ্য অবমাননা।

আরও পড়ুন- ‘অশোভনীয় আচরণ’ মমতার, পাল্টা দাবি ইসিআইয়ের, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ভিত্তিহীন, বিবৃতি দিয়ে জানালো দিল্লি পুলিশ

mamata Supreme Court of India SIR