/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/04/mamata-banerjee-supreme-court-sir-voter-list-west-bengal-2026-02-04-14-16-39.jpg)
২৯ বছর পর ফের আদালতে সওয়াল মমতার, সাদা শাড়ি, গলায় কালো চাদর, SIR নিয়ে মমতার সুপ্রিম গর্জন
বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষ আদালতে শুনানির সময় তিনি বলেন, “আমি বাংলা চিনি। এটা আমার ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এটা মানুষের লড়াই।” নিজের উদ্বেগ ও অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার জন্য সময় চান তিনি। আদালত তাঁর বক্তব্য শোনার অনুমতি দেয়।
আরও পড়ুন-Banglar Bari: ভাড়া বাড়ির দিন শেষ! মাত্র ২৫ হাজার টাকা খরচ করলেই শহরে মিলবে নিজের পাকা ছাদ
শুনানিতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে নামের বানান ও অমিলের কারণে যে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় প্রধান বিচারপতির সামনে। সিনিয়র আইনজীবী শ্যাম দিবান যুক্তি দেন, যাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাঁদের অবশ্যই জানাতে হবে কেন সেই নোটিস দেওয়া হয়েছে। শুধু নামের বানান অমিলের ভিত্তিতে জারি করা নোটিস প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।
নাম ও বানান সংক্রান্ত বিতর্কে আদালতেও আলোচনা তীব্র হয়। শ্যাম দিবান দাবি করেন, প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ এই ধরনের নোটিস পেয়েছেন। বিচারপতি বাগচি পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলায় উচ্চারণের পার্থক্যের কারণেই নামের বানানে ভিন্নতা দেখা যায়। প্রধান বিচারপতি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে শুনানি এখনও চলছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে কয়েকটি নতুন দিক উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আদালত নিশ্চিত করতে চায় যাতে কোনও যোগ্য ভোটার ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন। উচ্চারণজনিত বানান বিভ্রান্তির বিষয়টি তুলে ধরার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
শুনানির সময় বক্তব্য রাখার অনুমতি চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে নাম বাদ দেওয়া। তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর স্বামীর পদবির কারণে লাখ লাখ মহিলার নামও ‘মিসম্যাচ’-এর অজুহাতে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আদালতের উদারতার কারণেই তিনি কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন এবং অভিযোগ তোলেন যে ভোটের আগে বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, একাধিক বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এসআইআরের কারণে মারা গিয়েছেন, এমনকি কয়েকজন আত্মহত্যাও করেছেন।
আরও পড়ুন-Humayun Kabir: মাটিতে পা পড়বে না নেতার! ভোটের প্রচারে শুধুই হেলিকপ্টারে উড়বেন হুমায়ুন কবীর
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আদালতের আগের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাংলায় আধার কার্ড গ্রহণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন একই ধরনের প্রক্রিয়া অসমে চালানো হচ্ছে না। আদালতের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধান বিচারপতি জানান, আধার সংক্রান্ত বিষয়সহ অন্যান্য দিকগুলি বিবেচনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন এই আবেদনের জবাব দিতে সময় চেয়েছে এবং আদালত একদিনের সময় বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
এদিন আদালতে শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে আরও বলেন, “আমরা কোথাও ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। নির্বাচন কমিশনকে ছ’বার চিঠি লিখে সব বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আমি খুব সাধারণ পরিবার থেকে এসেছি। ন্যায়বিচারের জন্য আমি কাঁদছি। এটা কোনও দলের হয়ে লড়াই নয়।” শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অসম ও উত্তর-পূর্বে কেন একইভাবে SIR চালানো হচ্ছে না?” তাঁর দাবি, চাষের মরশুমে মানুষ যখন মাঠে চাষের কাজে ব্যস্ত তখন তাদের নোটিস পাঠানো হয়েছে, তারা সামাল দিতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে একাধিক বুথ লেভেল অফিসার (BLO) আত্মহত্যা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আধারের পাশাপাশি অতিরিক্ত শংসাপত্র চাওয়া হচ্ছে, যা অন্য রাজ্যে কোথাও চাওয়া হয়নি । নির্বাচনের ঠিক আগে মাত্র দু মাস আগে এই এসআই আর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে যেটা সাধারণত দু বছর সময় লাগার কথা।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে বিহারেও SIR-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। নিজের রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই তাঁর প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে। এই মামলার শুনানি চলছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলির বেঞ্চে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি মোস্তারি বানু, তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়ান এবং দোলা সেনের আবেদনেরও শুনানি হচ্ছে।
A Supreme Court bench comprising Chief Justice Surya Kant and Justices Joymalya Bagchi and Vipul M. Pancholi hears matters relating to the SIR issue in West Bengal. CM Mamata Banerjee is present in the courtroom and is expected to make submissions. pic.twitter.com/MnsD4Ryzdf
— ANI (@ANI) February 4, 2026
উল্লেখ্য মুখ্যমন্ত্রী আইনে স্নাতক (এলএলবি) এবং ২৯ বছর আগে শেষবার আইনজীবী হিসেবে আদালতে সওয়াল করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ আদালতে সওয়াল করেছিলেন ৬ জুলাই ১৯৯৭ সালে।
৬ জুলাই রথযাত্রার দিন গুপ্তপাড়ায় রথযাত্রা চলাকালীন পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালালে গুপ্তপাড়ার লালপুকুর এলাকার বাসিন্দা হলধর মণ্ডল এবং বুড়ো বাগ গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত হলধর মণ্ডল পরে মারা যান।
ঘটনার পরদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুপ্তপাড়ায় পৌঁছে নিহত হলধর মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পুলিশ মৃতদেহ দ্রুত দাহ করার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি জানার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি চুঁচুড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যান।
সে সময় রাজ্যের পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। চুঁচুড়া আদালতে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ভূমিকা ও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো যুক্তি পেশ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করা মমতা রাজনীতিতে আসার আগে কিছুদিন আইনি পেশায় যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী সোমবার।
আরও পড়ুন- West Bengal News Live: 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেলে পাঠান', মোদী মন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড়


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us