/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/18/mamata-banerjee-urges-judiciary-protect-constitution-democracy-jalpaiguri-2026-01-18-11-08-03.jpg)
জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন
'এজেন্সিগুলিকে অন্যায়ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে', বিরাট অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে বড় আবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "দয়া করে সংবিধান, গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ, দেশের ইতিহাস-ভূগোলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করুন"।
জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় বিচারব্যবস্থার সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানালেন। প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত ও একাধিক সিনিয়র বিচারপতির উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিচারব্যবস্থাই ভারতীয় সংবিধানের রক্ষক। আমি প্রধান বিচারপতি এবং বিচার বিভাগের সকল সদস্যকে অনুরোধ করব, সংবিধান, গণতন্ত্র, ইতিহাস ও ভূগোলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করুন। বিচারব্যবস্থা যেন মানুষের জন্য কাজ করে এবং আমরা সবাই যেন ঐক্যের স্বার্থে এগিয়ে আসি।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন আইপ্যাক-ইডি কান্ডে সুপ্রিম কোর্টের রাজ্য সরকারকে নোটিস জারি করেছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আবেদনের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে এই মামলায় নোটিস পাঠানো হয়। অভিযোগ, ৮ জানুয়ারি ইডি-র অভিযানের সময় তৃণমূল সুপ্রিমো ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের দফতরে গিয়ে নথি ছিনিয়ে নেন। ইডি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে সিবিআইকে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে, যেখানে চুরি, ডাকাতি, অনধিকার প্রবেশ মতো অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।
জলপাইগুড়ির মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানহানি ও বদনামের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সংস্থাগুলিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। আমি এটা নিজের জন্য বলছি না, মানুষের স্বার্থে বলছি।” একই সঙ্গে তিনি ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত এবং বিচারব্যবস্থাকেই গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।
আরও পড়ুন- '৪০ বার ভাঙন রোধে বাংলাকে টাকা, লুট প্রতিবারই', দুর্নীতি ইস্যুতে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় আইন ও বিচারমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্র রাজ্যে বিচার পরিকাঠামোর উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “কেন্দ্রের অর্থ ছাড়াই রাজ্য সরকার প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিচার ব্যাবস্থার আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে।” তিনি জানান, রাজ্যে ৮৮টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, ৭টি পকসো কোর্ট, ৪টি শ্রম আদালত, ১৯টি মানবাধিকার আদালত, ৬টি নতুন জেলা আদালত ও ৮টি মহকুমা আদালত গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজরহাট-নিউটাউনে কলকাতা হাই কোর্টের অতিরিক্ত পরিকাঠামো ও একটি ল’ অ্যাকাডেমির জন্য জমিও বরাদ্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জলপাইগুড়িতে ৪০.০৮ একর জমির উপর প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন নির্মিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন, এই সার্কিট বেঞ্চের ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষ দ্রুত ও সহজে বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।
আরও পড়ুন- অভিষেকের ‘গদ্দার’ মন্তব্যে 'অ্যাকশনে' হুমায়ুন কবীর, তুললেন বিরাট অভিযোগ, কেঁপে উঠল রাজ্য-রাজনীতি


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us