"এত উন্নয়ন সারা পৃথিবীতে কোথাও হয়নি", ২৬-এর নির্বাচনে বিপুল জয়ে বিরাট 'আত্মবিশ্বাসী' মমতা, দলকে দিলেন বড় বার্তা

ভোটের আগে বিহারে বিজেপির ১০ হাজার টাকার পালটা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, "বাংলায় লক্ষ্মী ভান্ডার পাচ্ছে ২ কোটি ২১ লাখ পরিবার। ৫ বছরে ৬০ হাজার টাকা দিচ্ছি, সংখ্যালঘুরা লক্ষ্মী ভাণ্ডারের মাধ্যমে পেয়েছে ৭০ হাজার টাকা"।

ভোটের আগে বিহারে বিজেপির ১০ হাজার টাকার পালটা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, "বাংলায় লক্ষ্মী ভান্ডার পাচ্ছে ২ কোটি ২১ লাখ পরিবার। ৫ বছরে ৬০ হাজার টাকা দিচ্ছি, সংখ্যালঘুরা লক্ষ্মী ভাণ্ডারের মাধ্যমে পেয়েছে ৭০ হাজার টাকা"।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Mamata Banerjee, Cooch Behar rally, Ras Mela ground, Trinamool Congress, BJP attack, 100 days work dues, pending funds, Rs 51,617 crore, Rajbanshi community, Panchanan Barma, Lakshmi Bhandar scheme, Karmashree scheme, SIR issue, NRC controversy, Bengal vs BJP politics, West Bengal Election 2026, Centre-state conflict, Modi Bankim remark, Bengal icons insult, political rally speech

২৬-এর নির্বাচনে বিপূল জয়ে বিরাট 'আত্মবিশ্বাসী' মমতা

কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে দলীয় জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র নিশানা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে শর্ত সাপেক্ষে গত পরশু চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠির তীব্র বিরোধীতায় এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহারের সভা থেকে কাগজ ছিঁড়ে প্রতিবাদ। হুঙ্কার ছুঁড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "২০২৬-এ আবার আমরা ক্ষমতায় আসব। ১০০ দিনের কাজ বাংলাই করে দেখাবে। তোমাদের ভিক্ষে আমরা চাইনা"। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন কেন্দ্রের কাছ থেকে ১০০ দিনের কাজের জন্য ৫১,৬১৭ কোটি পাওনা রয়েছে রাজ্যের। হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও সেই টাকা আটকে রেখে রাজ্যকে বিপাকে ফেলার চক্রান্ত করছ বিজেপি, অভিযোগ মমতার।

Advertisment

আরও পড়ুন- SIR পর্বে কত ভোটারকে ডাকা হতে পারে যাচাই পর্বে? কমিশনের পরিসংখ্যান বুকে কাঁপুনি ধরাবে

আজকের সভায় রাজবংশী সমাজের প্রাণপুরুষ পঞ্চানন বর্মাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভাষণ শুরু করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর ভাষণে মমতা বলেন, "পুরো এক বছর সময় লেগেছে আগের সিপিএম সরকারের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে। আমি টাকা দিয়ে ভোট কিনি না, ভালোবাসা দিয়ে ভোট কিনি"। বিহারের উদাহরণ টেনে বিজেপিকে এদিন নিশানা করেন দলনেত্রী। পাশাপাশি ভোটের আগে বিহারে বিজেপির ১০ হাজার টাকার পালটা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, "বাংলায় লক্ষ্মী ভান্ডার পাচ্ছে ২ কোটি ২১ লাখ পরিবার। ৫ বছরে ৬০ হাজার টাকা দিচ্ছি, সংখ্যালঘুরা লক্ষ্মী ভাণ্ডারের মাধ্যমে পেয়েছে ৭০ হাজার টাকা"।

১০০ দিনের কাজ বন্ধ নিয়ে ফের একবার কেন্দ্রীয় সরকারের অমানবিক আচরণের উদাহরণ টেনে মমতা বলেন, "হাইকোর্ট অর্ডার দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অর্ডার দিয়েছে। তাও বিজেপি সরকার ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে। সেই টাকা আদায়ে যখন আমাদের সাংসদরা দিল্লি গিয়েছিল তখন তাদের নামে কেস দেওয়া হয়েছে"। বাংলার সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূল নেত্রী বলেন, 'আবাস যোজনায় এক নম্বরে, গ্রামীণ সড়ক যোজনতেও শীর্ষে ছিল বাংলা। সব বন্ধ করে দিয়েছে। ভালো কাজ করা অপরাধ? রিভিউয়ের নামে ১৮৬টা কেন্দ্রীয় টিম পাঠিয়েছিল। আমি নিজে অনেকবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসেছি। ১০০ দিনের কাজের জন্য ৫১,৬১৭ কোটি এখনও পাইনি"।

আরও পড়ুন- 'তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ফিনিশ, পিকচার এখনও বাকি', ভোটের আগে বিরাট হুঙ্কার হুমায়ুনের 

আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "আমাদের দয়ার দানের দরকার নেই। মা-বোনেরা জানে কোথা থেকে অথিতিদের খাবারটা দিতে হবে। ১০০ দিনের বিকল্প কর্মশ্রী প্রকল্প ইতিমধ্যে রাজ্য চালু করেছে। ৭৮ লক্ষের বেশি মানুষকে জব কার্ড দেওয়া হয়েছে। বাংলা কোনওদিন মাথা নত করেনি, করবেও না। আবার আমরা ক্ষমতায় আসব। ১০০ দিনের কাজ এবার বাংলা নিজে করে দেখাবে। তোমাদের ভিক্ষে আমরা চাই না। তোমরা এখন হাটি হাটি পা পা করে করে যাও, বাংলাকে ভুলে যাও"।

SIR ইস্যুতে এদিন ফের একবার কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, "সামনে SIR-পিছনে NRC-এর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি বাংলাকে বিভেদ করতে দেব না। এসআইআর করো কোন অসুবিধা নেই। ২ বছর সময় নাও। যদি SIR-এর অনুমতি না দিতাম তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত ওরা। ডবল ইঞ্জিন সরকার উত্তর প্রদেশ, অসমে ডিটেশন ক্যাম্প চালু করে দিয়েছে। ওড়িশা থেকে রাজস্থান চলছে বাঙালিদের উপর অত্যাচার। বাংলার মানুষের উপর অত্যাচার করে বাংলা দখল করার শখ। শুধু মিথ্যা প্রচার। এক কোটি লোকের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত। মারা যায়নি অথচ মৃত দেখানো হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজের ভোটের নামটা তুলতে বলুন। প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতে MAY I HELP YOU ক্যাম্প হবে। এত খিদে! আর কত খাবে। বাংলা মাথা নত করতে জানে না"।

আরও পড়ুন-মহম্মদ আলি জিন্নার সঙ্গে তুলনা টানলেন হুমায়ুনের, “মৌলবাদী উগ্রতার প্রকাশ”, বিস্ফোরক শুভেন্দু 

গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রী মোদীর 'বঙ্কিম দা' প্রসঙ্গ টেনে তীব্র নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "যেন মনে হচ্ছে হরি দা, শ্যাম দা, আপনাদের মাথা নিচু করে নাক ক্ষত দেওয়া উচিত। স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলা পথ দেখিয়েছে। কোথায় ছিলেন আপনারা? রামমোহন থেকে ক্ষুদিরাম বাংলার মনীষীদের ইচ্ছাকৃত অপমান করা হচ্ছে। বাংলাকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাংলেন, বাংলার মানুষ আপনাদের ক্ষমা করে না। ভোটের সময় রাজবংশীদের কথা বলেন, আর আগে অসম থেকে নোটিশ পাঠায়, কেউ যাবেন না। একটা রাজ্য আরেকটা রাজ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না"।

এদিনের সভা থেকে সোনালি বিবিকে বাংলাদেশে পুশ ব্যাকের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রকে নিশানা করে দলনেত্রী বলেন, "সোনালি বিবিকে আমরা জেল থেকে ছাড়িয়ে এনেছি। খাবার টাকা পাঠিয়েছি। আরও চারজন এখনও আটকে রয়েছে। তাদেরও ছাড়িয়ে আনব। পাশাপাশি তিনি বলেন, "এত উন্নয়ন সারা পৃথিবীতে কোথাও হয়নি। এ রাজ্যে জন্ম থেকে মৃত্যু সব কিছুতেই প্রকল্প আছে। ক্ষমতা থাকলে করে দেখান"।

পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে প্রকাশ্যে দলের একাংশকে নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "ভোটের আগে দলও যেন ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে। কারণ যখন কোন বড় লড়াই সামনে থাকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়"।

আরও পড়ুন-'মমতাকে আর আমি বোন বলতে পারি না', একথা কেন বললেন জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য? 

বিজেপিকে নিশানা করে মমতা আরও বলেন, "বিজেপি এজেন্সি গুলোকে হাতের পুতুল বানিয়ে রেখেছে। আমি আজ এখানে ভোট চাইতে আসিনি। বুকে শক্তি নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। কেউ আপনাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় সরকার অত্যাচারী, স্বৈরাচারীর সরকার। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এরা সংবিধান গণতন্ত্র বিচার ব্যাবস্থাকে শেষ করতে চাইছে"।

mamata Cooch Bihar SIR