/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/17/mamata-tmc-attacks-pm-modi-bangla-visit-immigration-security-issues-2026-01-17-19-10-36.jpg)
পহেলগাঁও, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) শনিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী মোদীকে 'ভোটপাখী' আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ তুলেছে। পাশাপাশি এদিন তাঁর বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
দলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ধারাবাহিক পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়। একটি পোস্টে টিএমসি দাবি করে, প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলায় জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও দাঙ্গা নিয়ে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গল্প' তৈরি করছেন। দলের বক্তব্য, 'ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে যাঁকে সবচেয়ে বড় দাঙ্গা-মদতদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাঁর বাংলাকে সম্প্রীতি নিয়ে উপদেশ দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার নেই'।
টিএমসি আরও অভিযোগ করেছে, 'প্রধানমন্ত্রী মোদীর গোটা রাজনৈতিক কর্মসূচি সাম্প্রদায়িক বিভাজন, ঘৃণার রাজনীতি ও মেরুকরণের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং বিজেপি মুর্শিদাবাদে অস্থিরতা তৈরির জন্য বিভাজনের রাজনীতি চালাচ্ছে'। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, 'নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই বাংলা সম্পর্কে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে'।
Political Tourist @narendramodi spun a fantasy about “demographic imbalance” and “riots” in Bengal, as if the biggest riot-mongerer in Indian politics has any moral authority to lecture Bengal on harmony.
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) January 17, 2026
Your entire political enterprise runs on communal poison, daily hate…
এছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে একাধিক প্রশ্নও তোলা হয়েছে । দলের তরফে বলা হয়েছে, 'যদি অবৈধ অনুপ্রবেশ সত্যিই এত বড় সংকট হয়, তবে কেন্দ্র সরকারকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে'। টিএমসি জানতে চেয়েছে সম্পূর্ণ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন নির্বাচন কমিশন কেন SIR-এর মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রকাশ করতে অস্বীকার করছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। টিএমসি দাবি করেছে, বিএসএফ, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, আইবি-সহ সীমান্ত নিরাপত্তার সমস্ত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত সুরক্ষায় কেন চরম ব্যর্থ কেন মোদী সরকার?
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তার গাফিলতির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশ্ন, পহেলগাঁওয়ের মতো পর্যটন এলাকায় কীভাবে জঙ্গিরা সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলা চালাতে সক্ষম হল। একই সঙ্গে রাজধানীতে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার থাকলেও কীভাবে দিল্লিতে বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল?
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিয়ে তাদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, এর ফলে রাজ্যের গরিব মানুষ তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ ও অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল অনুপ্রবেশ, যার জেরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাংলা সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কড়া আক্রমণ।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us