/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/04/po-2026-02-04-12-44-11.jpg)
Weekend destination: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি।
Weekend destination from Kolkata: দার্জিলিং মানেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ম্যাল রোড, ক্যাভেন্ডার্স, আর ভিড়ে ঠাসা টয় ট্রেন। কিন্তু পাহাড়ের আসল রূপ কি সেই কোলাহলে পাওয়া যায়? একদমই না। আপনি যদি ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে পাহাড়ের নিস্তব্ধতা আর কুয়াশার চাদরে মোড়া এক রূপকথার জগতে হারিয়ে যেতে চান, তবে আপনার গন্তব্য হতেই পারে দার্জিলিং থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরের এক ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ, মানেভঞ্জন। সান্দাকফু ট্রেকের 'প্রবেশদ্বার' হিসেবে পরিচিত হলেও, নিছকই ট্রানজিট পয়েন্ট নয়, বরং দু-তিনটে দিন নির্জনে কাটানোর জন্য মানেভঞ্জন এক আদর্শ অফবিট ডেস্টিনেশন।
কুয়াশা আর পাইনের লুকোচুরি
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মানেভঞ্জন যেন মেঘ আর রোদ্দুরের খেলাঘর। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, দু’পাশে ঘন পাইন আর রডোডেনড্রনের জঙ্গল, আর তার মাঝেই লুকিয়ে থাকা কাঠের বাড়িঘর, সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মায়া কাজ করে এই জায়গায়। এখানকার বাতাস ভারী হয় পাইনের গন্ধে। ভোরবেলা জানলা খুললেই হয়তো দেখবেন কাঞ্চনজঙ্ঘা উঁকি দিচ্ছে, অথবা পুরো গ্রাম ঢেকে গেছে সাদা মেঘের চাদরে। এখানের সকালগুলো শুরু হয় পাখির কিচিরমিচির আর বৌদ্ধ গুম্ফার ঘণ্টাধ্বনিতে।
আরও পড়ুন- Garuchira: টুরিস্টদের ভিড় নেই, শুধুই প্রকৃতির রাজত্ব! গারুচিরা, বাংলার এক গোপন হীরের টুকরো
ব্রিটিশ আমলের 'লোহার ঘোড়া' ও ল্যান্ড রোভারের আভিজাত্য
মানেভঞ্জনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর ঐতিহ্যবাহী ল্যান্ড রোভার গাড়ি। ১৯৫৭ সালের আগে তৈরি ব্রিটিশ আমলের এই জিপগুলো আজও এখানকার পাহাড়ি রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায়। সান্দাকফু বা ফালুট যাওয়ার একমাত্র নির্ভরযোগ্য বাহন এই গাড়িগুলো। স্থানীয়রা একে ভালোবেসে বলেন 'পাহাড়ের বাঘ' বা 'লোহার ঘোড়া'। পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই এত পুরনো গাড়ি সচল অবস্থায় দেখা যায়। এবড়োখেবড়ো খাড়া রাস্তায় যখন এই গাড়িগুলো গর্জন করে ওঠে, তখন মনে হয় আপনি যেন সময়ের চাকা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে পুরনো কোনো যুগে ফিরে গিয়েছেন। পর্যটকদের কাছে এই ভিন্টেজ গাড়িগুলো এখন মানেভঞ্জনের আইকন।
ভারত-নেপাল মৈত্রী ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন
মানেভঞ্জনের ভৌগোলিক অবস্থান একে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। এই জনপদটি ভারত ও নেপাল সীমান্তের একদম গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে। রাস্তার একপাশ ভারত, অন্যপাশ নেপাল। স্থানীয় বাজার বা 'হাট'-এ ঘুরতে ঘুরতে কখন যে আপনি অজান্তে নেপালে পা দিয়ে ফেলবেন, তা টেরই পাবেন না। দুই দেশের মানুষ এখানে মিলেমিশে একাকার। এখানকার সংস্কৃতিতে নেপালি, শেরপা এবং তিব্বতি ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিশেল দেখা যায়। স্থানীয় বৌদ্ধ মঠ বা গুম্ফাগুলোতে গেলে এক অনাবিল শান্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে 'সামতেন চোলিং' গুম্ফাটি পর্যটকদের খুব প্রিয়।
আরও পড়ুন-Offbeat beaches: দীঘা-পুরীর দিন কি শেষ? কলকাতার কাছেই মিলল নীল জলের এক 'গোপন' স্বর্গরাজ্য!
খাবার ও আতিথেয়তা
শীতের সন্ধ্যায় মানেভঞ্জনের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ধোঁয়া ওঠা মোমো আর থুক্পার স্বাদ না নিলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এখানকার ছোট ছোট খাবারের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় নেপালি আচারের সঙ্গে গরম নুডলস। পাহাড়ের হাড়কাঁপুনি ঠান্ডায় হাতে গরম চায়ের ভাঁড় আর স্থানীয় মানুষদের আন্তরিক ব্যবহার, এই দুইয়ে মিলে আপনার মন ভালো হতে বাধ্য। এখানকার হোমস্টেগুলোর আতিথেয়তা বড় বড় হোটেলকেও হার মানাবে।
কখন যাবেন ও কীভাবে যাবেন?
মানেভঞ্জন যাওয়ার সেরা সময় হলো মার্চ থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর। মার্চ-এপ্রিলে গেলে রডোডেনড্রনের লাল আবির দেখতে পাবেন। আর আকাশ পরিষ্কার পেতে হলে অক্টোবর বা নভেম্বর সেরা সময়। নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) বা বাগডোগরা থেকে মিরিক হয়ে সুকিয়াপোখরি, সেখান থেকে খুব কাছেই মানেভঞ্জন। চাইলে দার্জিলিং থেকেও গাড়ি ভাড়া করে ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us