/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/07/bangladesh-hindu-violence-suvendu-adhikari-2026-01-07-13-32-44.jpg)
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে অযথা ভয় ছড়ানো হচ্ছে
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই মতুয়া সমাজকে আশ্বাসের বার্তা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় মতুয়াদের শক্তঘাঁটিতে এক জনসভায় তিনি স্পষ্ট জানান, কোনও প্রকৃত মতুয়া ভোটারের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে না।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে অযথা ভয় ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, যাঁরা নোটিস পেয়েছেন শুধুমাত্র তাঁদেরই বিডিও অফিসে হাজিরা দিতে হবে। ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের কোনওভাবেই অফিসে যেতে হবে না; প্রয়োজনে নির্বাচন দফতরের আধিকারিকরাই বাড়িতে গিয়ে যাচাইয়ের কাজ করবেন।
Dzongu: যেখানে প্রকৃতি কথা বলে, মানুষ শোনে! হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা স্বর্গ ‘জোঙ্গু’
ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়লে কীভাবে প্রতিকার মিলবে, সে সম্পর্কেও ধাপে ধাপে নির্দেশিকা দেন শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রথমে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে। সেখানে সমস্যা মিটলে না হলে বিষয়টি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে বিষয়টি নিয়ে আবেদন করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় তিনি নিজে দায়িত্ব নেবেন বলেও আশ্বাস দেন শুভেন্দু। স্থানীয় সমন্বয়কারীর দায়িত্বে বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার নামও ঘোষণা করেন তিনি।
রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “কোনও হিন্দুর গায়ে আঁচড় দেওয়ার সাহস কারও নেই।” পাশাপাশি মতুয়া সমাজের পরিস্থিতিকে দেশভাগের যন্ত্রণার সঙ্গে তুলনা করে রাজ্য সরকারকে দুষে রাজ্যে ‘জামাতিদের শাসন’ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, তাঁর ‘এক চোখ খোলা, এক চোখ বন্ধ’।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর আস্থা রেখে শুভেন্দু দাবি করেন, কোনও মতুয়া শরণার্থীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না। পাশাপাশি তিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর দাবি, মতুয়া পরিবারের শংসাপত্র দিয়েই CAA-র আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। শুভেন্দুর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ CAA-র জন্য আবেদন করেছেন এবং এক হাজারের বেশি মানুষ ইতিমধ্যেই শংসাপত্র পেয়েছেন। “কারও চাকরি বা স্কুলে ভর্তি বাতিল হয়েছে কি?” প্রশ্ন তুলে CAA নিয়ে আগের ভয়ের প্রচারকে ‘ভ্রান্ত’ বলে দাবি করেন তিনি।
বিজেপির এই কর্মসূচির মধ্যেই মতুয়া সমাজকে কাছে টানতে সক্রিয় তৃণমূল কংগ্রেসও। দলের তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত মতুয়া নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মতুয়া সমাজের প্রতিবাদে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর অনশনেও বসেছিলেন এবং কলকাতার রাজপথে বিক্ষোভ হয়।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার SIR শেষে ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা ঘিরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ থেকে কমে ৭ কোটি ৮ লক্ষে নেমেছে এবং প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ভোটারের শুনানি হওয়ার কথা, যার মধ্যে ১ কোটি ৩৬ লক্ষের তথ্যে গরমিল এবং ৩১ লক্ষের ম্যাপিং সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের জেরে বিভিন্ন সময়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া দলিত হিন্দু মতুয়া সমাজের কাছে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের এই রাজ্যজুড়ে SIR নতুন করে পরিচয়, নথি ও নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশে শক্ত প্রভাব থাকা এই সমাজ প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বিধানসভা আসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব এবং মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
শতাব্দী প্রাচীন পুরসভায় শ'য়ে শ'য়ে কর্মী ছাঁটাই, নিয়োগ করল কে? বিরাট মন্তব্যে তোলপাড় ফেললেন মহুয়া
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us