/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/15/mesi-kolkata-2025-12-15-13-28-30.jpg)
Messi India visit controversy: যুবভারতীতে লিওনেল মেসির আগমনে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল।
Messi Event Kolkata Chaos: ফুটবলের বরপুত্র মেসি কাণ্ডে মুখ পুড়েছে সারা পশ্চিমবঙ্গের। মেসি দর্শনে ম্যাসাকার নিয়ে সর্ব এখন ছিঃছিঃ চলছে। দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের অন্যত্র সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, লিওনেল মেসির এই অনুষ্ঠান প্রথমে হওয়ার কথা হয়েছিল ইডেন গার্ডেনে। অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু সেই মর্মে সিএবির কাছে আবেদনও করেছিলেন। এমনকী তা নিয়ে সিএবির এপেক্স মিটিংয়ে আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু কেন ইডেনের আয়োজন চলে গেল সল্টলেকের যুব ভারতীতে? ইডেনে মেসির অনুষ্ঠান হলে বাংলার সম্মানহানি হত না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন সিএবির প্রাক্তন সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন- মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে ধুন্ধুমার, গতকালের পর আজ যুবভারতীতে রাজ্যপাল, তুললেন বিরাট অভিযোগ
মেসির অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য প্রথমে একাধিকবার মৌখিক ভাবে সিএবির তৎকালীন সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়কে বলেছিলেন শতদ্রু দত্ত। তারপর লিখিত আবেদনও করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে প্রাক্তন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "মেসির অনুষ্ঠান নিয়ে আমাকে মৌখিক ভাবে অনেকবার বলেছিল শতদ্রু। আমি ওকে সিএবির ফিজের কথা জানিয়ে ছিলাম। প্রথমত সিএবির হোস্টিং ফিজ, দ্বিতীয়ত আর্মির ফিজ। আইপিএল ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে আর্মিকে একটা ফিজ দিতে হয়। কারণ, আইপিএল কমার্শিয়াল ভেঞ্চার। সেক্ষেত্রে আর্মি ম্যাচ প্রতি একটা ফিজ নেয়। কিন্তু ওয়ানডে, টেষ্ট, বিসিসিআইয়ের ম্যাচ বা বিশ্বকাপের খেলার ক্ষেত্রে কোনও ফিজ নেয় না আর্মি। আমি স্বাভাবিক নিয়মে ফিজের কথা বলেছিলম।"
আরও পড়ুন- ২ লাখ ছাড়ালো রূপার দাম, আজ ৫ কেজি রূপা কিনলে ২০৩০-এ কত রিটার্ন? পরিমাণ শুনলে চমকে যাবেন
ফিজ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এপেক্স কমিটিতেও। ইডেনে মেসির অনুষ্ঠানের অনুমতি দিতে অনেকটা এগিয়ে ছিল সিএবি। স্নেহাশিস বলেন, "এই বিষয় নিয়ে সিএবির এপেক্স মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আমি মৌখিক ভাবে শতদ্রুকে যে চার্জ বলেছিলাম এপেক্স মিটিংয়ে সেই চার্জও কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মেসির মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলার কলকাতায় আসছেন, সেই কথা বিবেচনা করে চার্জ কমিয়ে দিওয়া হয়েছিল। হোস্টিং ফিজ ছাড়া সিএবি তো মাঠ দিতে পারে না। শতুদ্রু বলেছিলেন, ১৮-১৯ কোটি টাকা টিকিট বিক্রিতে এসে যাবে। যাই হোক কোনও কারণে মেসির ম্যাচের ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি।" সম্ভবত ফিজ কমের জন্যই মাঠ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন সিএবি কর্তারা।
শনিবার যুবভারতীতে মেসির সঙ্গে মাঠে গিজ গিজ করছে মানুষজন। একেবারে গাঁয়ে সেটে থাকা আর কি! যার কারণে মেসির মুখ দর্শন করতে পারেনি হাজার হাজার মেসিভক্ত। এই থেকেই মাঠে রণক্ষেত্রের সুত্রপাত। ইডেনে আয়োজন হলে এমন ম্যাসাকারের ঘটনা ঘটত না বলেই অনেকে মনে করছেন। প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার স্নেহাশিষ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "কত বড় বড় খেলা আমরা আয়োজন করি। একদিকে সিএবির দায়িত্ব থাকতো, পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ ডাইরেক্ট কনডাক্ট করত। অনুষ্ঠান পরিকল্পনার প্রতিটা পদক্ষেপ আমরা জানতাম। এতো লোক মাঠে থাকার অনুমতি দিত না কলকাতা পুলিশ। ইডেন গ্রাউন্ডে এত লোকের ঢোকার অনুমতি কখনও থাকে না। সিএবির সভাপতি বা সম্পাদক ছাড়া অন্য কর্তাদেরও মাঠে ঢোকার অনুমতি নেই। মাঠে ঢোকার জন্য পৃথক অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকে। ফটোগ্রাফারদের জন্য আলাদা জোন থাকে। সেখান থেকে তাঁরা অন্যত্র যেতে পারে না। এভাবে মাঠে ঢোকার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। দু'রজন ছাড়া কেউ থাকে না। আমি যা দেখলাম মেসির সঙ্গে ২০০-২৫০ লোক ঘুরে বেড়াচ্ছিল।" সল্টলেকে যা হয়েছে এমন ম্যাসাকার ইডেনে কিছুতেই হত না বলে জোর দিয়ে বলেন স্নেহাশিষ।
আরও পড়ুন-'বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে', SIR আতঙ্কে আত্মঘাতী, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে বাংলায় তোলপাড়
মেসি কাণ্ড মুখ পুড়িয়েছে বাংলার, মর্যাদাহানি ঘটেছে এই রাজ্যের। মেসির গায়ে গায়ে শতদ্রু ও রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ছিলেন। প্রভাবশালী পরিবারের অনেক সদস্য সেখানে হাজির ছিলেন। যা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বও প্রশ্ন তুলেছে। মেসিকে এক ঝলক দেখতে না পাওয়ায় অনেকে কান্নাকাটিও জুড়ে দিয়েছেন। স্নেহাশিষ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "আজ মেসির মতো ফুটবল ব্যক্তিত্ব, একজন লিজেন্ড মাঠে থাকতে এত লোক তাঁর পাশে ঘোরাঘুরি করল। ম্যাসাকার হল। এরপর খ্যাতনামা খেলোয়াড়রা এখানে আর আসতে চাইবে না। তবে ইডেনে এই অনুষ্ঠান হলে নিশ্চিতভাবে এমন ঘটনা ঘটতো না।"
সব থেকে বড় প্রশ্ন, মেসির সঙ্গে এত লোক কিভাবে মাঠে ঢুকলো? অনুষ্ঠানের প্ল্যানিং কি ছিল? পুলিশ-প্রশাসন কি ভাবে এতো লোকের মাঠে থাকার অনুমতি দিল? আয়োজক শতদ্রুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এই অনুষ্ঠান ম্যাসাকার হওয়ার দায় কি আর কারও নয়? এই সব প্রশ্নই এখন সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us