“ভবানীপুরে মমতাকে হারিয়ে প্রাক্তন করবই", শুভেন্দুর আগুনে হুঙ্কারে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি

পশ্চিম মেদিনীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যে।

পশ্চিম মেদিনীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
SIR West Bengal, Suvendu Adhikari statement, Shuvendu Adhikari, 2026 elections Bengal, voter list controversy, BJP protest Nagarkata, Khagen Murmu attack, PC-Vaipo allegation, এসআইআর পশ্চিমবঙ্গ, শুভেন্দু অধিকারী, ভোটার তালিকা বিতর্ক, নাগরাকাটা মিছিল, খগেন মুর্মু, পিসি-ভাইপো, ২০২৬ নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গ, বিরোধী দলনেতা মন্তব্য

Suvendu Adhikari-Mamata Banerjee: শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পশ্চিম মেদিনীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (এমএইচএ) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দফতরের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে বলে রবিবার বিজেপি সূত্রে জানা গেছে।

Advertisment

বাংলাদেশে ফের হিন্দু যুবককে বিষ খাইয়ে হত্যা, ইউনূসের দেশে আতঙ্ক বাড়ছে 

শনিবার রাতে চন্দ্রকোণা থানা এলাকার ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে চন্দ্রকোণা রোডে তাঁর কনভয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা হামলা চালায়। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু ও গ্রেপ্তারের দাবিতে তিনি চন্দ্রকোণা থানার ভিতরে ধর্নায় বসেন। শুভেন্দুর দাবি, ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

ধর্নাস্থল থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা ন্যায়ের জন্য এখানে বসেছি। নির্বাচন আর বেশি দূরে নয়। তৃণমূল বুঝে গেছে তারা হারতে চলেছে। তাই বিজেপিকে রাজ্য থেকে মুছে দিতে চাইছে। কারা কারা এই হামলায় যুক্ত, তাদের নাম আমি পুলিশকে জানিয়েছি। অবিলম্বে এফআইআর রুজু ও গ্রেপ্তার চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল যুব সভাপতি ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও এই হামলায় যুক্ত ছিলেন।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর উপর “নৃশংস হামলা” চালানো হয়। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে তৈরি হওয়া “হিংসা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি”র জোরেই এই হামলা হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা ছিল নীরব দর্শকের মতো। তিনি লেখেন, এটি শুধু তাঁর উপর হামলা নয়, রাজ্যের বিরোধী কণ্ঠস্বরের উপর আঘাত।

এই ঘটনার আগে শনিবারই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শুধু আইনশৃঙ্খলার অভাবই নয়, সাংবিধানিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। অবিলম্বে দিল্লিকে হস্তক্ষেপ করে রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট তলবকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত যে আরও তীব্র হচ্ছে, তা স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিপুল ভিড়, উষ্ণ অভ্যর্থনায় আবেগাপ্লুত মৌসম , নিজের ভুল স্বীকার করে 'ঘরের মাঠে' লড়াইয়ের বিরাট অঙ্গীকার

এদিকে আই-প্যাক কাণ্ডকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা কর্মসূচির পর এবার রাজপথে নামলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ইডি-র অভিযানে বাধা ও তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বুধবার যাদবপুর থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত মিছিলের আয়োজন করে বিজেপি। মিছিলের সামনের সারিতেই নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি ধীরে ধীরে দেশপ্রিয় পার্কের দিকে এগোতে থাকে। পথে পথে মিছিল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী একাধিক স্লোগান ওঠে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, আই-প্যাক সংক্রান্ত ইডি তদন্তে রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে।

মিছিল চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র ভাষায় রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “এখানে কোনও ফিল্ম স্টার নেই। রুদ্রনীল ঘোষ এখন একজন রাজনৈতিক কর্মী। সেদিন যা হয়েছিল, সেটা ছিল সরকারের সাজানো শো। আর আজকের মিছিলটা সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত।”

শুভেন্দু আরও বলেন, “ভবানীপুরে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রাক্তন করার পরেই আমি থামব। যা পারে করে নিক।” একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “সবাই দেখেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে ফাইল কেড়ে নিয়ে গিয়েছেন এবং গর্বের সঙ্গে তা স্বীকারও করেছেন। সব কিছুই ছিনতাই করে নিয়ে গিয়েছেন।”

ফের রাজ্যে BLO-মৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে কমিশন, পরিবারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুলকালাম

I-PAC কাণ্ডকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। সেদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ রবিবার পথে নামে বিজেপি। এই ইস্যুতেই রবিবার যাদবপুর থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মিছিলের সামনের সারিতে থেকেই নেতৃত্ব দেন তিনি। মিছিল শেষে ভাষণ দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষের সুরে বলেন, “আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রাণভোমরা হলো আই-প্যাক। একুশের আগে ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে সহানুভূতি আদায় করার চেষ্টা হয়েছিল। 'চোর মাচায়া শোর', এটাই তৃণমূলের রাজনীতি।”

শুভেন্দু আরও দাবি করেন, গোয়া নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করেছিল। সেই সময় বিভিন্ন হোটেল থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় যারা দলের সঙ্গে ছিলেন, আজ তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। প্রশান্ত কিশোর প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, “প্রশান্ত কিশোরের দলকে বিহারের মানুষ জামানত বাজেয়াপ্ত করে দিয়েছে। আর আজ প্রতীক জৈন আইপ্যাকের ডাকাত।”একই সঙ্গে বিজেপির ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে এবং প্রতি বছর পিএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা নিয়মিত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় আরবি সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাইছেন। ইডির দায়ের করা পিটিশনে এক নম্বরেই তাঁর নাম রয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন করার ডাক দেন বিরোধী দলনেতা"। 

Suvendu Adhikari