/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/05/dies-2026-02-05-13-52-23.jpg)
Migrant worker death: শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
নিজের ভিটেতে একটা পাকা ঘর হবে, সাত বছরের মেয়েটা নিশ্চিন্তে ঘুমাবে, এই সামান্য স্বপ্নটুকু সম্বল করে হাজার মাইল দূরে পাড়ি দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের শের মোহাম্মদ শেখ (৩২)। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই স্বপ্নের ভার পিঠে নিয়েই নিথর দেহে বাড়ি ফিরছেন তিনি। সোমবার মহারাষ্ট্রে কাজ করার সময় বহুতল থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বুধবার এই খবর গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শের মোহাম্মদের নিজস্ব কোনো পাকা বাড়ি ছিল না। এতদিন অন্যের জায়গায় অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাতেন তিনি। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে মাত্র চার মাস আগে মহারাষ্ট্রে রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়েছিলেন তিনি। হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে টাকা জমাতেন বাড়ি ফিরে ঘর তৈরির জন্য। ফোনে শেষবার কথা বলার সময়ও পরিবারকে জানিয়েছিলেন, কাজ প্রায় শেষের দিকে, ফিরেই ঘরের কাজ ধরবেন। কিন্তু সোমবার বিকেলের এক মুহূর্তের অসাবধানতা সব স্বপ্ন তছনছ করে দিল।
জানা গেছে, সোমবার বিকেলে মহারাষ্ট্রের একটি নির্মাণাধীন বহুতল আবাসন প্লাস্টারের কাজ করছিলেন শের মোহাম্মদ। কাজ করার সময় আচমকাই ভারসাম্য হারিয়ে তিনি ওপর থেকে সোজা নিচে পড়ে যান। সহকর্মীরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আইনি জটিলতা ও ময়নাতদন্তের কারণে পরিবারের কাছে খবর পৌঁছাতে বুধবার হয়ে যায়।
শের মোহাম্মদের অকাল প্রয়াণে সবথেকে করুণ দশা হয়েছে তাঁর সাত বছরের নাবালিকা কন্যার। অবুঝ শিশুটি এখনও জানে না, যে বাবা তার জন্য নতুন জামা আর ঘরের স্বপ্ন নিয়ে দূরে গিয়েছিলেন, তিনি আর কোনোদিন ফিরবেন না। অভাবের সংসারে শের মোহাম্মদই ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি এখন আক্ষরিক অর্থেই নিস্ব।
আরও পড়ুন-Da Case: বকেয়া ডিএ-র টাকা পাবেন অবসরপ্রাপ্তরাও? কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট?
চোখের জল মুছে তিনি বলেন, "শের মোহাম্মদ শুধু নিজের জন্য নয়, ওর মেয়ের একটা সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য লড়ছিল। সেই লড়াইটা এভাবে মাঝপথে শেষ হয়ে যাবে ভাবিনি।"
বুধবার এই মর্মান্তিক খবর গ্রামে চাউর হতেই শোকের ছায়া নেমে আসে বড়ঞার সুন্দরপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। গ্রামবাসীদের ক্ষোভ, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। অসহায় পরিবারটি এখন মৃতদেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের সাহায্য প্রার্থনা করছে। একইসঙ্গে পিতৃহারা শিশুটির পড়াশোনা ও বেঁচে থাকার জন্য সরকারি সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us