২ বছর পর মণিপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী, 'উন্নয়ন নয়, স্রেফ তামাশা' কটাক্ষ কংগ্রেসের

দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত হিংসার আগুনে পুড়ছে মণিপুর। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে কুকি এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত হিংসার আগুনে পুড়ছে মণিপুর। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে কুকি এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
modi manipur visit

মণিপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী

PM MODI MANIPUR VISIT: দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত হিংসার আগুনে পুড়ছে মণিপুর। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে কুকি এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। প্রায় দু বছর পর,অবশেষে মণিপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী। 

Advertisment

West Bengal News Live Updates: দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে সহপাঠীকে খুন, ভিনরাজ্যে পালানোর আগেই জালে অভিযুক্ত

এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈরাবি-সাইরাং রেলপথ উদ্বোধনের মাধ্যমে মিজোরামের রাজধানী আইজল থেকে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেন। সাইরাং-কলকাতা এক্সপ্রেসের উদ্বোধন মণিপুর ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করবে এবং সেই সঙ্গে উত্তর-পূর্বের পর্যটনকে উৎসাহিত করবে নয়া এই রেল প্রকল্প। 

Advertisment

Top 10: বর্তমানে বিশ্বের সেরা ধনী কে? দেখুন, ভারতীয় শিল্পপতিরা তালিকায় কত নম্বরে

নরেন্দ্র মোদী ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘর্ষের পর প্রথমবারের মতো মণিপুর সফরে পৌঁছেছেন। তাঁর এই সফরকে রাজ্যে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফরকালীন সময়ে মণিপুরকে উপহার হিসাবে দিতে চলেছেন ৮,৫০০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প। চুরাচাঁদপুরে ৭,৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। এটি মূলত কুকি অধ্যুষিত এলাকা। অন্যদিকে, মেইতেই অধ্যুষিত ইম্ফলে ১,২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে উন্নয়ন ও শান্তির প্রক্রিয়ায় উভয় সম্প্রদায়কেই সঙ্গে নেওয়া নিয়ে এগোতে চায় কেন্দ্র সরকার। 

JU: ছাত্রী-মৃত্যুর পর শেষমেষ কঠিন সিদ্ধান্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের! জারি একগুচ্ছ নির্দেশিকা

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩ মে মেইতেই সম্প্রদায়ের তফসিলি উপজাতি মর্যাদার দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘উপজাতি সংহতি মার্চ’। এর পরপরই রাজ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হয়। বিরোধীরা তখনও প্রশ্ন তুলেছিল—কেন প্রধানমন্ত্রী এত বড় সংকটের সময় মণিপুর সফরে আসেননি। এবার মোদীর সফরকে তাই নতুন ভোরের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাঝ আকাশে বেলুনে আগুন, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব

শনিবার বেলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  মণিপুরের চুরাচাঁদপুরে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তার ধারে তাঁকে দেখতে রীতিমত মানুষের ঢল নামে। ভিড় থেকে মোদীর উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। তিনিও পথচলতি মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী চুরাচাঁদপুরে ৭,৩০০ কোটিরও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ৩,৬০০ কোটির মণিপুর আরবান রোডস, ড্রেনেজ ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট, যা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসেবার মান উন্নত করতে সাহায্য করবে। এছাড়া প্রায় ২,৫০০ কোটির পাঁচটি জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, যা রাজ্যের বড় শহরগুলির মধ্যে সংযোগ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করবে।

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী ‘মণিপুর ইনফোটেক ডেভেলপমেন্ট (MIND) প্রজেক্ট’-এর সূচনা করেন, যা রাজ্যের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে কর্মরত মহিলাদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে নয়টি স্থানে ‘ওয়ার্কিং উইমেন হোস্টেল’-এরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

উত্তাল সামসেরগঞ্জ, যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার চরম চাঞ্চল্য

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে মণিপুরের জন্য এক নতুন উন্নয়নের দিগন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পরিকাঠামো, যোগাযোগ এবং ডিজিটাল উন্নয়নের পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

মোদীর এই সফরের তীব্র সমালোচনা করছে। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন যে মণিপুর দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর এখন সফর কোনও বড় বিষয় নয়। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এটিকে রাজ্যের জনগণের প্রতি অপমান বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে এই সফর শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য নয়, বরং তামাশার জন্য।

Manipur modi