সৌদি-পাকিস্তানের দহরম-মহরমের মাঝেই ভারতের বড় চাল! আরব আমিরশাহির সঙ্গে কী চুক্তি করলেন মোদী?

India-UAE Relations: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যেই ভারতে ইউএই প্রেসিডেন্ট। মোদী-বিন জায়েদ বৈঠকে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা, পরমাণু ও এলএনজি চুক্তি। লক্ষ্য ২০০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য। জানুন বিস্তারিত।

India-UAE Relations: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যেই ভারতে ইউএই প্রেসিডেন্ট। মোদী-বিন জায়েদ বৈঠকে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা, পরমাণু ও এলএনজি চুক্তি। লক্ষ্য ২০০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য। জানুন বিস্তারিত।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
India-UAE Relations, PM Narendra Modi, Sheikh Mohamed bin Zayed Al Nahyan, India-UAE Agreements 2026, Bilateral Trade Target $200 Billion,Strategic Defence Partnership, LNG Supply Agreement (ADNOC-HPCL), Civil Nuclear Cooperation, Small Modular Reactors (SMRs), GIFT City Investment, West Asia Crisis, Saudi-UAE Rivalry,নরেন্দ্র মোদী, শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ, ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বৈঠক, প্রতিরক্ষা চুক্তি, পরমাণু শক্তি সহযোগিতা,এলএনজি চুক্তি, ২০০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য, পশ্চিম এশিয়া সংকট, গিফট সিটি, ভারত-ইউএই সম্পর্ক, মোদী-বিন জায়েদ বৈঠক, আন্তর্জাতিক সংবাদ

India-UAE Agreements 2026: দিল্লিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। (পিটিআই)

PM Narendra Modi-Sheikh Mohamed bin Zayed: পশ্চিম এশিয়ায় ফের বাড়ছে উত্তেজনার পারদ। একদিকে গাজায় শান্তি ফেরাতে ভারতের অংশগ্রহণ চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) মধ্যে বাড়ছে স্বার্থের সংঘাত। এই কূটনৈতিভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়েই ঝটিকা সফরে ভারতে এলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, এলএনজি (LNG) এবং পরমাণু শক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মোট পাঁচটি চুক্তি এবং সাতটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছল দুই দেশ।

Advertisment

গুরুত্বপূর্ণ ৫ চুক্তি ও সিদ্ধান্ত

সোমবার ৭, লোক কল্যাণ মার্গে মোদী ও বিন জায়েদের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা তৈরি হয়। 

১. প্রতিরক্ষা: 

দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ‘লেটার অফ ইনটেন্ট’ (Letter of Intent) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে আমিরশাহির এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন- West Bengal News Live: রাজনীতি নাকি নিছকই সেবা? ভোটের মুখে আজ 'সেবাশ্রয়' পরিদর্শনে অভিষেক

২. বাণিজ্য:

বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০৩২ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণ করে ২০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।

৩. জ্বালানি:

ভারতের হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL) এবং আমিরশাহির অ্যাডনক (ADNOC) গ্যাসের মধ্যে ১০ বছরের জন্য একটি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৮ সাল থেকে প্রতি বছর ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি পাবে ভারত। এর ফলে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ হতে চলেছে ইউএই।

আরও পড়ুন-বাবার রিক্সা, মায়ের সেলাই, দারিদ্র্যকে হারিয়ে জাতীয় মঞ্চে ব্রোঞ্জ জয় বাংলার চন্দনের!

৪. পরমাণু শক্তি:

ভারতে ‘শান্তি’ (SHANTI) আইন পাস হওয়ার পর এই প্রথম দুই দেশ ছোট মডিউলার রিয়্যাক্টর (SMR) এবং বড় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছে।

৫. অন্যান্য:

মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সুপার-কম্পিউটিং ক্লাস্টার তৈরি এবং গুজরাটের গিফট সিটিতে (GIFT City) ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক সংঘাতে জড়াাবে না ভারত

বৈঠকের পর ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই বৈঠক ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তবে সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের আবহে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের কোনো দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর সহযোগিতার অর্থ এই নয় যে, ভারত সেই দেশের আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে।” দুই নেতাই সন্ত্রাসবাদ, বিশেষ করে সীমান্তপারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

আরও পড়ুন-মাত্র ৩৫-এ নিভল জীবন প্রদীপ, চোখে স্বপ্ন নিয়ে ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েই সব শেষ...! পরিযায়ী ইস্যুতে গর্জে উঠল তৃণমূল

কূটনৈতিক উষ্ণতা

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে নয়াদিল্লি। প্রোটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে বিমানবন্দরে গিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। গত সাড়ে এগারো বছরে এই নিয়ে অষ্টমবার প্রধানমন্ত্রী প্রোটোকল ভেঙে কোনো রাষ্ট্রনেতাকে রিসিভ করলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “দিল্লিতে শেখ মহম্মদের এই সফরে আমি অভিভূত। ভারত-ইউএই বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।” পালটা পোস্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইউএই-র প্রেসিডেন্টও। ফেরার সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাঁকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান।

ভবিষ্যতের রূপরেখা

বৈঠকে ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়নে বিনিয়োগ এবং আবুধাবিতে ‘হাউস অফ ইন্ডিয়া’ তৈরির কথাও ঘোষণা করা হয়। এছাড়া দুই দেশের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে সংযুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যাতে সীমান্তপারের লেনদেন আরও সহজ হয়। গাজা এবং ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কথা হয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর।

pakistan PM Narendra Modi India-UAE Agreements 2026 Sheikh Mohamed bin Zayed Al Nahyan India-UAE Relations