/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/29/shiva-2026-01-29-17-58-15.jpg)
Mota Mahadev: মোটা মহাদেবের এই মন্দির ঘিরে নানা কাহিনী আজও লোকের মুখে মুখে ঘোরে। এক্সপ্রেস ফটো: শশী ঘোষ।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে জরাজীর্ণ এক আটচালা মন্দির। পলেস্তারা খসে পড়েছে, মন্দিরের গা বেয়ে মহাদেবের জটাজুটের মতোই নেমে এসেছে বটগাছের ঝুরি। কিন্তু এই মন্দিরের গর্ভগৃহেই লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়। এখানকার শিবলিঙ্গটি সাধারণ কোনো বিগ্রহ নয়, এর উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট! স্থানীয়দের দাবি, গোটা কলকাতায় এমন বিশাল শিবলিঙ্গ আর দ্বিতীয়টি নেই।
ইতিহাস ও জনশ্রুতি
আনুমানিক ১৭৯৪ সালে বা তার কাছাকাছি সময়ে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। হাটখোলার বিখ্যাত দত্ত পরিবারের রসিদলাল দত্ত এবং জহরলাল দত্তের উদ্যোগে তৈরি এই মন্দিরটি স্থানীয়দের কাছে ‘বুড়ো শিবতলা’ নামেই বেশি পরিচিত। প্রায় ৫০ ফুট উঁচু এই মন্দিরের শিবলিঙ্গটি তৈরি করেছিলেন ভাস্কর গদাধর দাস।
তবে এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে এক অদ্ভুত রহস্য। মন্দিরের বিগ্রহকে কেন লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়? স্থানীয় বাসিন্দা এবং শিবভক্ত সুমিত বিশ্বাসের কথায় উঠে এলো এক অলৌকিক কাহিনি। শোনা যায়, বহু বছর আগে একবার নাকি গর্ভগৃহের দরজা খুলে দেখা গিয়েছিল ভেতরে মহাদেব নেই! পরে তাঁকে গঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
ভক্তদের বিশ্বাস, মহাদেব যাতে পুনরায় পালিয়ে যেতে না পারেন, তাই তাঁকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। যদিও মন্দিরের পুরোহিতরা এই অলৌকিক তত্ত্বে বিশ্বাসী নন, তবুও প্রায় তিনশ বছর ধরে মন্দিরের এক কোণে পড়ে থাকা বিশাল লোহার শিকল সেই রহস্যকেই উসকে দেয়।
স্থাপত্যের ধাঁধাঁ
মন্দিরটি নিয়ে আরও একটি ধন্দ রয়েছে। মন্দিরের প্রবেশপথের দরজাটি উচ্চতায় বেশ ছোট, কিন্তু ভেতরের শিবলিঙ্গটি বিশাল। ভক্তদের প্রশ্ন, এত ছোট দরজা দিয়ে এত বিশাল বিগ্রহ ভেতরে ঢোকানো হলো কী করে? অনেকের ধারণা, মন্দিরটি তৈরি হওয়ার বহু আগে থেকেই এই শিবলিঙ্গটি এখানে বিদ্যমান ছিল। পরবর্তীকালে বিগ্রহকে কেন্দ্র করেই মন্দিরটি গড়ে ওঠে।
নিত্যসেবা ও ভক্তি
বিগ্রহের বিশালতার কারণেই একে ‘মোটা মহাদেব’ বলা হয়। শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালতে ভক্তদের লোহার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। জরাজীর্ণ অবস্থা হলেও ভক্তদের বিশ্বাসে এতটুকু চিড় ধরেনি। ভোরবেলা মঙ্গলারতি দিয়ে শুরু হয় দিন, দুপুরে ভোগ আরতি এবং রাত সাড়ে ৮টায় সন্ধ্যা আরতির মাধ্যমে মহাদেব শয়নে যান। আধুনিক কলকাতার বুকে এই মন্দির যেন এক পবিত্র প্রহরী। ঐতিহ্যের শিকড় আঁকড়ে আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছেন এই মোটা মহাদেব।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us