/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mela-2025-11-26-17-29-37.jpg)
Malda Juari Mela: মেলায় উপচে পড়া ভিড়।
Mokattipur mela history: শতাব্দী-প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে পুরাতন মালদার মোকাতিপুর এলাকায় বুধবার মুলা ষষ্ঠীর দিন অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী ‘জুয়াড়ি মেলা’। ভোর থেকেই বেহুলা নদী সংলগ্ন আমবাগানে ভিড় জমাতে থাকেন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এবারও প্রকাশ্য দিবালোকে তাস, গটি বোর্ড, লটারি ও বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলায় অংশ নিলেন অসংখ্য নারী-পুরুষ।
মেলার রীতি অনুযায়ী, দিনটি শুরু হয় স্থানীয় দেবীর থানে বিশেষ পুজো দিয়ে। পুজো সেরে মহিলারা কেউ তাস খেলতে বসেন, কেউ বা পাশায় বাজি ধরেন। মেলায় অংশ নেওয়া বহু মহিলার বিশ্বাস, মুলা ষষ্ঠীর পুজো দিয়ে এই জুয়ায় অংশ নিলে সংসারে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং আর্থিক উন্নতি আসে।
আরও পড়ুন- Partha Chattopadhyay: বিচারকের তোপে জামিন ঝুঁকিতে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সতর্ক করল আদালত
স্থানীয়ভাবে ‘লেউড়ি মেলা’ নামেও পরিচিত এই আসর। লেউড়ি এখানকার বিখ্যাত এক ধরনের মিষ্টি। মেলা প্রাঙ্গণে তাস ও পাশার পাশাপাশি বিক্রি হয় জিলিপি, লেউড়ি, পাঁপরভাজা এবং অন্যান্য মিষ্টান্ন। নাগরদোলা বা সাধারণ মেলার সরঞ্জাম না থাকলেও, জুয়ার পর্দায় জমে ওঠে আলাদা উৎসব।
পুরনো কাহিনী থেকেই মেলার উৎপত্তি
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, মেলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পৌরাণিক কাহিনী। বলা হয়, স্বামী লখিন্দরের নিথর দেহ নিয়ে বেহুলা যখন কলার ভেলায় ভেসে যাচ্ছিলেন, তখন মোকাতিপুরের নদীপাড়ে কিছু মানুষ পাশা খেলতে খেলতে বেহুলাকে দেখে ঠাট্টা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বেহুলা নাকি এই অঞ্চলকে ‘বিধবা এলাকা’ হওয়ার অভিশাপ দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন-Sonarpur News: সোনারপুরে দুঃস্বপ্ন! রাতের ভয়াবহতা ধরা পড়ল ভোরে, দুই কিশোরের নিথর দেহ উদ্ধার
পরে পাশাখেলায় ব্যস্ত পুরুষরা ওই মহিলাদের তাড়িয়ে দিলে বেহুলা খুশি হয়ে বর দেন—বছরে অন্তত একদিন এই নদীপাড়ে বিপুল মানুষের জড়ো হবে পাশা খেলার জন্য। সেই প্রথারই আধুনিক রূপ আজকের জুয়াড়ি মেলা।
ধর্মীয় আবেগে প্রশাসনের নীরবতা
জুয়ার আসর প্রকাশ্য হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ বা প্রশাসনের আপত্তি নেই। কারণ, এই মেলার সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের ধর্মীয় আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ফলে ঐতিহ্য বজায় রেখেই চলে এই একদিনের উৎসব।
মেলায় ভিড় মহিলাদের
মঙ্গলবাড়ীর গৃহবধূ নয়না পাল বলেন, “বেহুলার অভিশাপ মোচন করতেই নাকি এই পুজো ও জুয়ার রীতি চালু। আজ স্বামীর হাত ধরেই মেলায় এসে খেললাম।”
গাজোলের সুজাতা দাস জানালেন, “প্রতি বছরই মুলা ষষ্ঠীর পুজো দিই এবং জুয়ায় অংশ নিই। আমাদের বিশ্বাস, এতে সংসারে মঙ্গল হয়, ব্যবসায়ও উন্নতি আসে।”
পুরাতন মালদা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্বপ্না হালদার বলেন, “মানুষের বিশ্বাস ও আবেগ এই মেলাকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে। মালদা ছাড়াও জেলার বাইরে থেকে বহু মানুষ এখানে আসেন।”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us