/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/22/humayun-mamata-2025-12-22-14-56-08.jpg)
'সাসপেন্ড না করবে রাজনৈতিক সুবিধা শাসক দলই পেত', হুমায়ুনের মন্তব্যে তোলপাড়
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের কাজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কোরান পাঠের মাধ্যমে নিজের হাতে ইট গেঁথে নির্মাণকাজ শুরু করেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে মসজিদের নির্মাণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য কেরলের একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে এবং আনুমানিক ব্যয় হবে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা। কবীরের হুঁশিয়ারি, “বাংলা তথা দেশের কোনও শক্তি নেই যে এই বাবরি মসজিদ নির্মাণ আটকাতে পারে।” তাঁর কথায়, এই উদ্যোগ কারও উপর কিছু চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়, বরং ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই এই প্রয়াস।
আরও পড়ুন-হাসিনার কেন্দ্রে ত্রিশঙ্কু লড়াই, চাপে বিএনপি, ৮০ হিন্দুকে প্রার্থী করে বড় চমক তারেক রহমানের
উল্লেখ্য, অযোধ্যায় ১৯৯২ সালে ভেঙে ফেলা ১৬ শতকের বাবরি মসজিদের আদলে নতুন করে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে। ঘোষণার পরপরই তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। এরপর তিনি ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং গত বছরের ৬ ডিসেম্বর শিলান্যাস কর্মসূচিও পালন করেন। তাঁর দাবি, তিনি তৃণমূলে থাকলে এই উদ্যোগের রাজনৈতিক সুবিধা শাসক দলই পেত, আর আগামী নির্বাচনে এর খেসারত দিতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
এদিকে আগামীকাল পলাশি থেকে ইটাহার পর্যন্ত প্রস্তাবিত ‘বাবরি যাত্রা’ কর্মসূচি পরীক্ষার কারণে স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। মালদা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তার বদলে পলাশি থেকে বেলডাঙা পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার পদযাত্রা করার ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। রাজনৈতিক মহলে এই কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৯৪টির মধ্যে ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে বলেও হুঙ্কার দেন ভরতপুরের বিধায়ক। একদিকে হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও দাবি করেছেন, তিনি আর আগের মতো নেই। অন্যদিকে বিজেপি এই মসজিদ নির্মাণকে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ তুলেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, হুমায়ুন কবীর আসলে তৃণমূলের সঙ্গেই গোপনে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভোট ভাগ করার কৌশল হিসেবেই বাবরি মসজিদের মত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “কবীর বড় কোনও ফ্যাক্টর হবেন না, শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সঙ্গেই পরাজিত হবেন।”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us