ফের SIR নিয়ে কমিশনকে নিশানা, আরও বেপরোয়া তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম

মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় ফারাক্কা বিধায়ক মানিরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে এখনও এফআইআর দায়ের না হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে প্রশ্ন উঠছে।

মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় ফারাক্কা বিধায়ক মানিরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে এখনও এফআইআর দায়ের না হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে প্রশ্ন উঠছে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Murshidabad news, Farakka BDO office vandalism, Manirul Islam, Farakka MLA, West Bengal SIR, voter list special intensive revision, Election Commission Bengal, FIR delay Farakka, Trinamool Congress MLA, Farakka protest, Murshidabad administration, SIR controversy Bengal, Suvendu Adhikari reaction

ফের SIR নিয়ে কমিশনকে নিশানা, আরও বেপরোয়া তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম

মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় ফারাক্কা বিধায়ক মানিরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে এখনও এফআইআর দায়ের না হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে এফআইআর দায়েরের সময়সীমা বেঁধে দিলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

Advertisment

প্রসঙ্গত, গত ১৪ জানুয়ারি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত শুনানিকে কেন্দ্র করে ফারাক্কার বিডিও অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের একটি অংশ ওই হিংসায় জড়িত ছিল এবং বিধায়ক মানিরুল ইসলাম নিজেই বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দেন। প্রশাসনের একাংশের মতে, শাসক দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে গেলে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার আশঙ্কা থেকেই এফআইআর দায়ের নিয়ে দোলাচল তৈরি হয়েছে।

এফআইআর না হওয়ায় আরও 'বেপোরোয়া' হয়ে  উঠেছেন মানিরুল ইসলাম এমনই অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ফারাক্কায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ফের নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। মানিরুল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যত মামলা বা অভিযোগই করা হোক না কেন, আমি পিছিয়ে যাব না। মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। ওদের যদি আদালত থাকে, আমারও আছে।”

‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-তে কত নাম বাদ? সুপ্রিম নির্দেশের পর আজই তালিকা প্রকাশ কমিশনের?

ভাঙচুরের ঘটনার দিন ফারাক্কা বিডিও অফিসে সিসিটিভি ফুটেজ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একাধিক জায়গায় মানিরুল ইসলামকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও পুলিশ ওই ঘটনায় আগেই একটি মামলা রুজু করে ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে, এফআইআরে বিধায়কের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই বিষয়টি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের নজরে আসে এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের কাছে বিষয়টি তোলা হয় বলে সূত্রের খবর।

সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া ছ’জনকে বুধবার জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে এই গোটা বিষয়ে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার আধিকারিকরা বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাউ বলেন, “এখনও পর্যন্ত বিধায়ক  মানিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”

West Bengal News Live: সুপ্রিম-স্বস্তির পরেই ‘মেগা ক্লাস’! আজ অভিষেকের ভার্চুয়াল বৈঠকে কী গোপন বার্তা? 

যদিও প্রকাশ্যে কড়া ভাষায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে আক্রমণ করলেও, পরে জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসকের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে কিছুটা সংযত সুরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মানিরুল ইসলাম। তিনি চিঠিতে লেখেন, তাঁর বক্তব্যে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য, উসকানি বা আইনভঙ্গের বিষয় ছিল না। নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব খাটো করা বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, তিনি সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন রক্ষার লক্ষ্যেই কথা বলেছেন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে।

লেপ-কম্বল কি এবার সত্যিই আলমারিতে? রবিবার থেকেই আবহাওয়ায় বড় চমক!

সূত্রের খবর, ১৪ জানুয়ারির ঘটনার পর কয়েকদিন মানিরুল ইসলাম কার্যত আড়ালেই ছিলেন এবং দলীয় বা সামাজিক কোনও কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা যায়নি। প্রায় এক সপ্তাহ পর শুক্রবারই তিনি ফের প্রকাশ্যে আসেন এবং দাবি করেন, তিনি শুধু মানুষের জন্য ‘লড়াই’ করেছেন।

এদিকে, মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিক নীতিন সিংহানিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, “সংবিধানের ৩২৪ থেকে ৩২৯ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। তা সত্ত্বেও কমিশনের এই নরম মনোভাব বিস্ময়কর। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমি সুপ্রিম কোর্টে যাব।”

মোদীর দৃঢ়তাকেই কী অহঙ্কার চূর্ণ ট্রাম্পের? ভারতের উপর আরোপিত শুল্ক আরোপ হ্রাসের বিরাট ইঙ্গিত

tmc SIR