/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/29/sir-2026-01-29-15-37-29.jpg)
SIR Hearing: দলিলের পুঁটলি ও বাবার কবরের মাটি নিয়ে শুনানিকেন্দ্রের পথে প্রৌঢ়।
পরিচয় প্রমাণের দায় যে মানুষকে কতটা অসহায় করে তুলতে পারে, তার এক চরম ও মর্মস্পর্শী নজির দেখল মুর্শিদাবাদের ভরতপুর ১ নম্বর ব্লক। ভোটার তালিকার বিশেষ সমীক্ষা বা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত শুনানিতে বাবার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে কেবল নথিপত্রই নয়, খোদ বাবার কবরের মাটি হাতে নিয়ে ব্লক অফিসে হাজির হলেন এক ব্যক্তি। ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কেবির সেখের এই করুণ দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন খোদ সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি ভোটার তালিকা ও নাগরিক তথ্যের যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় কেবির সেখ-কে তাঁর বাবার সমস্ত নথি নিয়ে ব্লক অফিসে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়। প্রশাসনের সেই নির্দেশ পালন করতে গিয়েই তৈরি হয় এক অভাবনীয় দৃশ্য। দেখা যায়, কেবির সেখ মাথার ওপর একটি কাপড়ের বড় পুঁটলি নিয়ে আসছেন, যার ভেতরে রয়েছে তাঁর বাবা, দাদু ও পরদাদুদের আমলের জমির দলিল, রেকর্ডের পর্চা এবং বহু পুরনো ব্যক্তিগত কাগজপত্র।
আরও পড়ুন- 'রাজ্যে নো গভর্নমেন্ট পরিস্থিতি' আনন্দপুরে অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে 'ম্যান মেড' বলে কটাক্ষ শুভেন্দুর
শুধুমাত্র কাগজের নথিতে হয়তো তাঁর মন মানেনি, কিংবা ভয় ছিল, যদি হারানো বাবার পরিচয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে? সেই আশঙ্কায় আর প্রবল আবেগের বশে তিনি হাতে করে নিয়ে আসেন বাবার কবরের একমুঠো মাটি। তাঁর কথায়, এটিই তাঁর শেকড়ের শেষ চিহ্ন, যা তিনি প্রমাণ হিসেবে প্রশাসনের সামনে তুলে ধরতে চান। ব্লক অফিস চত্বরে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়। উপস্থিত অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
আরও পড়ুন-'মৃত্যু নিয়ে নোংরা, সস্তার রাজনীতি', মমতার মন্তব্যের পাল্টা ফড়নবিশ, আজই অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য
ঘটনার ভিডিওটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এই দৃশ্য দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, "কাগজে-কলমে বংশ পরিচয় প্রমাণ করতে গিয়ে একজন মানুষকে কেন এতটা অসহায় হতে হবে?" অনেকের মতে, এই ঘটনাটি আসলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সামনে সাধারণ মানুষের দিশেহারা অবস্থার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
স্থানীয়দের দাবি, কেবির সেখ কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং একজন অতি সাধারণ মানুষ। তাঁর এই পদক্ষেপ আসলে ভিটেমাটি আর পরিচয় হারানোর এক গভীর ভয়ের বহিঃপ্রকাশ। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় মানবিকতার অভাব রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিউতি আলোচনা শুরু হয়েছে ভরতপুর চত্বরে। ভরতপুরের ডাঙ্গাপাড়ার এই ঘটনা এখন আর কেবল একটি ভিডিও নয়, বরং ব্যবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us