/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/05/nadia-krishnaganj-sir-notice-cpim-leader-political-row-2026-01-05-10-14-17.jpg)
দাপুটে নেতাকেই এবার SIR-এর নোটিস, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
নদিয়ার সীমান্তবর্তী কৃষ্ণগঞ্জের টুঙ্গি ভাজনঘাট পঞ্চায়েত এলাকায় ৭৪ বছরের এক প্রাক্তন শিক্ষক ও সিপিআইএমের একাধিকবারের পঞ্চায়েত সদস্য তথা প্রাক্তন প্রধানকে এসআইআর (SIR) নোটিস পাঠানোকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউত্তর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তরজা চরমে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টুঙ্গি ভাজনঘাট পঞ্চায়েতের ১৭৮ নম্বর অংশের পরিচিত মুখ নারায়ণ চন্দ্র ঘোষের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। তাঁর কাছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে। তবে নদিয়া জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ৮১ হাজার ‘নো ম্যাপিং’ ভোটারের তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নথিতে ‘নো রেকর্ড ফাউন্ড’ দেখানো হওয়ায় তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি নারায়ণ চন্দ্র ঘোষকে এসআইআর শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
৭৪ বছরের নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ এক সময় টুঙ্গি ভাজনঘাট পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন এবং একাধিকবার পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকায় তিনি একজন শিক্ষক হিসেবেও সুপরিচিত। এই অবস্থায় তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক হওয়ার কারণেই তাঁকে হেনস্তা করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই বৃদ্ধ বয়সে তাঁর কাছে এসআইআর নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন- মৌসমকে নিয়ে কটাক্ষ করেই বিতর্কের মুখে জেলা দাপুটে কংগ্রেস নেতা, তুঙ্গে চর্চা
নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ বলেন, “আমার জন্ম এখানেই। আমি ভারতের নাগরিক। তা সত্ত্বেও আমাকে এসআইআর নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিস পেয়েছি, তবে আমার সমস্ত নথিপত্র নিয়ে আমি শুনানিতে হাজির হব।” তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ ও আক্ষেপ।
এই ঘটনায় নারায়ণবাবুর স্ত্রী স্বপন কুমারী ঘোষও ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস কোনওভাবেই তাঁদের পরিবারের কাউকে দলে টানতে না পারায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, “এরা হিন্দু-মুসলমান নিয়ে রাজনীতি করে, আর আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। তৃণমূল সরকারের কাজই সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা। ভারতের নাগরিক হয়েও এসআইআর নোটিস পাওয়াই তার প্রমাণ।”
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ও তৃণমূল নেতা অনুপ দাস বলেন, “নারায়ণবাবুর ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এসআইআর নোটিস পাঠানোর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সম্পর্ক নেই।” তবে তিনি স্বীকার করেন, বৃদ্ধ বয়সে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তা দুর্ভাগ্যজনক। তিনি আরও বলেন, “এই বিষয় নিয়ে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।”
এদিকে কৃষ্ণগঞ্জের বিজেপি নেতা রূপ কুমার ঘোষ অভিযোগ করেন, সিপিএমের রাজনৈতিক অস্তিত্ব প্রায় না থাকলেও তাদের পরিবারের সদস্যদের দলে টানতে ব্যর্থ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিহিংসার পথে হাঁটছে। তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কর্মচারীরা নির্বাচন কমিশনকে বদনাম করার চেষ্টা করছেন। আমরা আগেও এ কথা বলেছি, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।”
আরও পড়ুন- প্রবল শীতের দাপটে কাঁপছে কলকাতা সহ গোটা বাংলা, ঠান্ডার দোসর বৃষ্টিও? রইল ওয়েদারের ব্রেকিং আপডেট
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us