/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/14/bari-2026-02-14-08-47-50.jpg)
Nandigram youth returns housing money: সরকারের দেওয়া বাড়ির টাকা ফেরালেন যুবক।
East Midnapur News: যখন রাজ্যজুড়ে ‘আবাস যোজনা’ বা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের ঘর পাওয়া নিয়ে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির ভুরিভুরি অভিযোগ সামনে আসছে, ঠিক তখনই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের যুবক সুব্রত মণ্ডল। নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সরকারি ঘরের প্রথম কিস্তির টাকা সসম্মানে ফিরিয়ে দিয়ে সততার নতুন সংজ্ঞা লিখলেন তিনি।
নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পূর্ব ঘোলপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত মণ্ডল। একটা সময়ে চরম অভাবের মধ্যে দিন কাটত তাঁর। মাটির একচিলতে ঘরে কোনওরকমে বাবা, মা, ভাই, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গাদাগাদি করে থাকতেন। সুব্রত মণ্ডল সেই সময়ে পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে (লেবার)। সেই কঠিন সময়েই মাথার ওপর একটা পাকা ছাদের আশায় সরকারি আবাস যোজনায় নাম নথিভুক্ত করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন- ১৪ ফেব্রুয়ারি: ক্যালেন্ডারের পাতায় ভালোবাসা নয়, আজ বীর জওয়ানদের রক্তে ভেজা এক কালো দিন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চার বার সার্ভে হওয়ার পর চলতি বছর সুব্রত মণ্ডলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা জমা পড়ে। কিন্তু এর মধ্যেই সুব্রতের জীবনে এসেছে বড় বদল। কঠোর পরিশ্রমে তিনি এখন ভারতীয় রেলের গ্রুপ-ডি (Group-D) পদে কর্মরত। বর্তমানে সুব্রত কেন্দ্রীয় সরকারের স্থায়ী কর্মী এবং সচ্ছল।
টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার পরই সুব্রত সিদ্ধান্ত নেন, এই টাকা তিনি নেবেন না। সুব্রতের কথায়, "আমি এখন রেলের চাকরি করছি, আগামীতে নিজের উপার্জনেই বাড়ি বানিয়ে নিতে পারব। এই টাকাটা যদি কোনো প্রকৃত অসহায় মানুষের কাজে লাগে, তবেই আমি খুশি হব। যাদের ঘর সত্যিই প্রয়োজন, তারা পাক।"
বিডিও-র হাতে চেক প্রদান
ছেলের ইচ্ছেকে সম্মান জানিয়ে সুব্রতের বাবা সুশীল মণ্ডল নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও শুভদীপ চৌধুরীর দফতরে গিয়ে সেই ৬০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আসেন। সুব্রত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রকল্পের পরবর্তী কিস্তির টাকাও তাঁর প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন- মায়ের চক্ষুদান ঘিরে বিতর্ক, অবশেষে জামিন পেলেন আমীরচাঁদ, আই.সির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
সুব্রত মণ্ডলের এই পদক্ষেপে আপ্লুত ব্লক প্রশাসন। বিডিও শুভদীপ চৌধুরী বলেন, "সুব্রতবাবুর এই কর্মকাণ্ডে আমরা ভীষণ খুশি। তিনি নিজে থেকে টাকা ফেরত দিয়েছেন।"
সরকারি নিয়ম মেনে ইতিমধ্যেই ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। সুব্রত মণ্ডলের আইডি (WB126920355) পাকাপাকিভাবে বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে যাতে এই সুযোগ অন্য কোনো যোগ্য উপভোক্তা পেতে পারেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us