/indian-express-bangla/media/media_files/2025/09/09/nepal-2025-09-09-10-19-28.jpg)
Nepal youth protest: সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে অসান্তির আগুন জ্বলে ওঠে নেপালে।
Nepal Protest: সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে উত্তপ্ত নেপাল। ফেসবুক-ইন্সটাগ্রাম সহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধের প্রতিবেদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন যুবসম্প্রদায়। ধীরে ধীরে সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়, যার ফলে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর প্রভাবে ইন্ডিগো, স্পাইসজেট ও এয়ার ইন্ডিয়া কাঠমান্ডু গামী সমস্ত ফ্লাইট ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাতিল করেছে ।
ইন্ডিগো জানিয়েছে, "কাঠমান্ডুতে আসা এবং যাত্রা করা সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। যাত্রীরা বিকল্প ফ্লাইট বেছে নিতে পারেন বা আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থ ফেরত দাবি করতে পারেন। আমাদের টিম পরিস্থিতির উপর ক্রমাগত নজর রাখছে, এবং বিমান চলাচলের অনুমতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের সময়মতো আপডেট দেওয়া হবে।"
স্পাইসজেটও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, "নেপালে ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কাঠমান্ডু যাওয়া এবং আসা সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রিফান্ড বা পুনঃবুকিংয়ের জন্য হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।"
এয়ার ইন্ডিয়াও কাঠমান্ডু রুটে চারটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলির মধ্যে রয়েছে AI2231/AI2232, AI2219/AI2220, AI217/AI218 এবং AI211/AI212। এয়ার ইন্ডিয়ার এক ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে এক বিমানের পাইলট মাঝ আকাশে দিল্লিতে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এয়ার ইন্ডিয়া যাত্রীদের সতর্ক করে দিয়েছে, আপডেটের জন্য তাদের ওয়েবসাইটে নজর রাখারও পরামর্শ জারি করেছে।
নেপালের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। গত দুই দিনে কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ চলাকালীন কোমপক্ষে ২২ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনসহ সরকারি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতির তীব্রতার কারণে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন। খবর অনুসারে, কাঠমান্ডুর মেয়র বেলেন্দ্র শাহকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী করা হতে পারে।
Suvenddu-Mamata: 'পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানাতে চাইছেন', মমতাকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর
কাঠমান্ডু সহ দেশের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা আংশিকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য প্রশাসন বারবার অনুরোধ করেছে।
ক্রমবর্ধমান হিংসা এবং চাপের কারণে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি গতকালই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর থেকে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে। বিশেষত কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ বা ‘বালেন’ অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
৩৫ বছর বয়সী বালেন একজন প্রাক্তন র্যাপার এবং নির্দল প্রার্থী, যিনি ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। জেনারেল জেড আন্দোলনের বিক্ষোভকারীরা তাকে দুর্নীতিবিরোধী নেতা হিসেবে সমর্থন করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় #BalenForPM এর মতো প্রচার চলছে এবং অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, তিনি নেপালের এক সম্ভাব্য একজন ‘কিংমেকার’ হতে পারেন।
ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স এবং আরও ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ৪ঠা সেপ্টেম্বর নিষিদ্ধ করে সেদেশের সরকার। তরুণ প্রজন্ম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরকারি আক্রমণ হিসেবে দেখেছেন। যদিও মঙ্গলবার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, ততক্ষণে হিংসা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে রাষ্ট্রসংঘও নেপালের বর্তমান পরিস্থিতির তদন্তের দাবি জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি মঙ্গলবার বিকেলে পদত্যাগপত্র করেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভের কারণে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি হওয়ায় তিনি দুঃখিত, তবে বিক্ষোভকে তিনি “ষড়যন্ত্র” হিসেবে অভিহিত করেছেন। পদত্যাগের পরপরই বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনেরই পরিণতি, যা এখন দুর্নীতি এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us