বড় খবর

জিন বদলেছে করোনা ভাইরাস! অচিরেই দেশে দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রহর গুনছেন চিকিৎসকরা

জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে। একটা সময়ে দৈনিক সংক্রমণ ২০০-রও নীচে আর দৈনিক মৃত্যু ১০-এর নীচে নেমেছিল। তার পর আবার বুধবার রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০২ জন।

ফাইল ছবি।

এ যেন শেষ হয়েও হইল না শেষ। একদিকে সংক্রমণ গ্রাফ প্রতিদিন নিম্নমুখী, অন্যদিকে গণতিকাকরণ। এই আবহে স্বাস্থ্য মন্ত্রককে স্বস্তি দিয়ে যখন অতিমারির শেষের শুরু শুধু ঘোষণার আশঙ্কা। ঠিক তখনই জিন বদলাতে শুরু করল করোনা ভাইরাস। ফলে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বদলে ফের আঘাত হানার প্রহর গুনছে এই অণুজীব। এমন দাবি জিনের ‘সিকোয়েন্স’ করে জানিয়েছেন গবেষকরা। সুত্রের খবর, ভারতে করোনার নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলেছে। মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, কেরল, কর্নাটক, ছত্তীসগঢ়ে যে ভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে, তাতে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ (সেকেন্ড ওয়েভ) আছড়ে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। সে কথা মাথায় রেখেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে প্রতিটি হাসপাতালকে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। করোনা পরীক্ষা আরও বাড়ানোর উপরেও নতুন করে জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যভবন জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, কেরল, কর্নাটক, ছত্তীসগঢ়ের কোনও বাসিন্দা কলকাতা বিমানবন্দরে নামলেই তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার বলেন, “আমরা সব রকমের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। সংশ্লিষ্ট রাজ্য থেকে যাঁরা বিমানবন্দর হয়ে আসবেন, তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। আরও পরীক্ষা এবং টিকাকরণের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। করোনা যুদ্ধ জয় করতে হলে রাজ্যবাসীকেও সচেতন হতে হবে।”

চিকিৎসকদের মতে, “লকডাউন পর্বে মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস নিয়ে যে সচেতনতা গড়ে উঠেছিল। যে আতঙ্ক ছিল, তা এখন নেই। অনেকেই ভাবছেন, আমরা করোনাকে জয় করে ফেলেছি। কিন্তু কেরল, মহারাষ্ট্র এবং পঞ্জাবে যে ভাবে করোনা আবার থাবা বসিয়েছে, তা দেখে সচেতন না হলে বড় খেসারত দিতে হবে।”

রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, ১ জানুয়ারি বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজারের উপর। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে। একটা সময়ে দৈনিক সংক্রমণ ২০০-রও নীচে আর দৈনিক মৃত্যু ১০-এর নীচে নেমেছিল।  তার পর আবার বুধবার রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০২ জন। তার আগে শেষবার ওই সংখ্যা ২০০-র উপর ছিল গত ১২ ফেব্রুয়ারি। তার পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকায় রাজ্যে সুস্থতার হার  পৌঁছে গিয়েছিল ৯৭.৬৩ শতাংশে। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এখনই সচেতন না হলে আবার লকডাউন পর্বের মতোই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে ফিরতে পারে রাজ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসকের কথায়, ‘রাজ্যেবিধানসভা ভোট নিয়ে যতটা ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে, করোনা নিয়ে যদি সরকারি স্তরে প্রচারে সেই গুরুত্ব দেওয়া হলে মানুষের মধ্যে টিকা নিয়ে ভয় কমে যেত। সকলেই টিকা নিতেন।’

ওই চিকিৎসক আরও জানাচ্ছেন, রাজ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে দৈনিক করোনা পরীক্ষার হারও অনেকটা কমে গিয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সুত্রেও এমন ইঙ্গিত মিলেছে। দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে দৈনিক করোনা পরীক্ষার সংখ্যা আগের থেকে অনেক কমেছে। যেমন বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি করোনা পরীক্ষা হয়েছে ২০,২১২ জনের। আগের থেকে যা অনেক কম।

জানুয়ারির শুরুতেও দৈনিক প্রায় ৪০,০০০ করোনা পরীক্ষা হত। তবে স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার যুক্তি, রাজ্যে সংক্রমণ কম হচ্ছে বলেই পরীক্ষা কম হচ্ছে। ল্যাবরেটরির সংখ্যা কিন্তু আগের থেকে বেড়েছে।‘

এই মুহূর্তে মোট ১০৫টি ল্যাবরেটরিতে করোনা টেস্ট করানো যাচ্ছে। রাজ্যের জনসংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। কিন্তু তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৮৪,৮৩,০২১ জনের করোনা পরীক্ষা করা গিয়েছে। মোট আক্রান্ত এখনও পর্যন্ত ৫ লক্ষ ৭৪ হাজার। সুস্থ হয়েছেন সাড়ে ৫ লক্ষের বেশি। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজারের বেশি মানুষের।

Get the latest Bengali news and Westbengal news here. You can also read all the Westbengal news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Newly mutant corona virus may lead second wave in the country says experts state

Next Story
অনলাইন সেমিনারের নিয়ম বদল নিয়ে মোদীকে কড়া চিঠি মমতার
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com