নতুন বছরে কোটি কোটি পূণ্যার্থীকে বিরাট উপহার মমতার , গঙ্গা সাগর নিয়ে এবার বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গনের’ শিলান্যাস হতেই মুখ্যমন্ত্রীকে বেনজির নিশানা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের। তাঁর অভিযোগ, “হিন্দু ভোট তুষ্ট করতে দুর্গা মন্দির বানানো হচ্ছে, আবার মুসলিম ভোট পেতে তাঁর ঘনিষ্ঠ হুমায়ুন কবিরকে দিয়ে বাবরি মসজিদ গড়ার কথা বলা হচ্ছে।”

নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গনের’ শিলান্যাস হতেই মুখ্যমন্ত্রীকে বেনজির নিশানা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের। তাঁর অভিযোগ, “হিন্দু ভোট তুষ্ট করতে দুর্গা মন্দির বানানো হচ্ছে, আবার মুসলিম ভোট পেতে তাঁর ঘনিষ্ঠ হুমায়ুন কবিরকে দিয়ে বাবরি মসজিদ গড়ার কথা বলা হচ্ছে।”

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Durga Angan Newtown, Mamata Banerjee Durga Angan, Dilip Ghosh BJP attack, Durga Angan controversy, West Bengal politics, Newtown Durga temple, Durga Angan foundation stone, Ganga Sagar bridge Mamata, employment generation Bengal, TMC BJP clash

নতুন বছরে কোটি কোটি পূণ্যার্থীকে বিরাট উপহার মমতার

নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গনের’ শিলান্যাস হতেই মুখ্যমন্ত্রীকে বেনজির নিশানা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের। তাঁর অভিযোগ, “হিন্দু ভোট তুষ্ট করতে দুর্গা মন্দির বানানো হচ্ছে, আবার মুসলিম ভোট পেতে তাঁর ঘনিষ্ঠ হুমায়ুন কবিরকে দিয়ে বাবরি মসজিদ গড়ার কথা বলা হচ্ছে।” দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, দুর্গা অঙ্গন প্রকল্প ঘিরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য জমি অধিগ্রহণ ও জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া নিয়ে মামলা পর্যন্ত হয়েছে।

Advertisment

আরও পড়ুন- West Bengal News LIVE Updates: আজই বঙ্গ সফরে মোদীর প্রধান সেনাপতি, তৃণমূলকে প্যাঁচে ফেলতে 'মাস্টারপ্ল্যান' রেডি অমিত শাহের?

এদিকে এদিনের শিলান্যাস পর্ব থেকেই বিজেপিকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গাসাগর মেলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “কুম্ভমেলায় রেল, বাস, বিমানে যাওয়ার ব্যাবস্থা রয়েছে। গঙ্গাসাগরে যেতে এখনও নদী পার হতে হয়, যা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। তবু এক কোটির বেশি পুণ্যার্থী সেখানে আসেন।” তিনি জানান, গত ১২ বছর ধরে তিনি কেন্দ্রের কাছে গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। যদিও শুভ দিনে কেন্দ্রকে দোষারোপ করতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মমতা জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই সেতু নির্মাণের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু হবে। নিউটাউনে এদিন দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্থর মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দু বছরের মধ্যে সেতু তৈরি হয়ে যাবে। কাউকে জল পেরিয়ে গঙ্গাসাগরে যেতে হবে না।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেউ যদি আমার কাছে ধর্মীয় সহায়তার জন্য আসে হিন্দু, মুসলিম, জৈন, খ্রিস্টান বা পারসি আমি সবার পাশেই দাঁড়াই। অনেকেই একে তুষ্টিকরণ বলে। আমি তুষ্টিকরণ করি না, আমি সঠিক ধর্মনিরপেক্ষতার পথে চলি।” মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২১ সালে দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ (Intangible Cultural Heritage) স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই সূত্র ধরেই সারা বছর দুর্গা উৎসবকে ঘিরে উদযাপনের ভাবনা থেকেই দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মমতার কথায়, “নকশা প্রস্তুত। আজ থেকেই কাজ শুরু হবে।” তিনি আরও বলেন, “ধর্ম ব্যক্তিগত, কিন্তু উৎসব সবার জন্য।”

আরও পড়ুন-SIR hearing: ‘কমিশনের জমিদারি মানব না’, SIR শুনানি বন্ধ করে দিয়ে হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের

প্রায় ২ লক্ষ বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত দুর্গা অঙ্গনে একসঙ্গে প্রায় ১,০০০ মানুষের সমাগমের ব্যবস্থা থাকবে। মূল গর্ভগৃহের উচ্চতা হবে ৫৪ মিটার, যেখানে ১০৮টি দেবদেবীর মূর্তি ও ৬৪টি সিংহমূর্তি স্থাপন করা হবে। কমপ্লেক্সের চারদিকে থাকবে ২০ ফুট চওড়া হাঁটার পথ।

নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গন’ প্রকল্পের ঘোষণা করে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির বিরাট আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই দিনটিকে রাজ্যের জন্য ‘ঐতিহাসিক’ একটি দিন বলে উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি পশ্চিমবঙ্গের মুকুটে আরেকটি পালক। এই দুর্গা অঙ্গন বছরে ৩৬৫ দিন খোলা থাকবে।”

প্রকল্পের বিশালতা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথমে ১২ একর জমির পরিকল্পনা থাকলেও পরে তার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গা অঙ্গন হিসেবে এই প্রকল্প গড়ে উঠবে।” নিউটাউনের এই দুর্গা অঙ্গন রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে বলে আশাবাদী তিনি।

আরও পড়ুন-Aadhaar PAN link: সময় ফুরোচ্ছে, আজই আধার-প্যান লিঙ্ক করিয়ে নিন, নইলে বিরাট সমস্যায় পড়তে পারেন!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই প্রকল্প সংস্কৃতি ও অর্থনীতির যুগপৎ বিকাশ ঘটাবে। তিনি জানান, “জগন্নাথ ধামে গতকালই ১ কোটি দর্শনার্থী এসেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেকেরই নিজস্ব ধর্ম ও উৎসব রয়েছে। এখানে বছরে ৩৬৫ দিন মা দুর্গার পূজা আরাধনার বিশেষ ব্যাবস্থা থাকবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, মানুষের আয় বাড়বে।”

mamata Gangasagar Mela