/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/29/newtown-durga-angan-project-mamata-banerjee-bjp-controversy-2025-12-29-20-31-35.jpg)
নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গনের’ শিলান্যাস
নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গন’ প্রকল্পের ঘোষণা করে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির বিরাট আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই দিনটিকে রাজ্যের জন্য ‘ঐতিহাসিক’ একটি দিন বলে উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি পশ্চিমবঙ্গের মুকুটে আরেকটি পালক। এই দুর্গা অঙ্গন বছরে ৩৬৫ দিন খোলা থাকবে।”
প্রকল্পের বিশালতা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথমে ১২ একর জমির পরিকল্পনা থাকলেও পরে তার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গা অঙ্গন হিসেবে এই প্রকল্প গড়ে উঠবে।” নিউটাউনের এই দুর্গা অঙ্গন রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে বলে আশাবাদী তিনি।
আরও পড়ুন- SIR hearing: ‘কমিশনের জমিদারি মানব না’, SIR শুনানি বন্ধ করে দিয়ে হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই প্রকল্প সংস্কৃতি ও অর্থনীতির যুগপৎ বিকাশ ঘটাবে। তিনি জানান, “জগন্নাথ ধামে গতকালই ১ কোটি দর্শনার্থী এসেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেকেরই নিজস্ব ধর্ম ও উৎসব রয়েছে। এখানে বছরে ৩৬৫ দিন মা দুর্গার পূজা আরাধনার বিশেষ ব্যাবস্থা থাকবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, মানুষের আয় বাড়বে।”
আরও পড়ুন-West Bengal News LIVE Updates: ফের মেট্রোয় ঝাঁপ, যান চলাচলে বিভ্রাট! ভয়ঙ্কর ভোগান্তি নিত্যযাত্রীদের
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২ লক্ষ বর্গফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হবে দুর্গা অঙ্গন। মূল প্রাঙ্গণে একসঙ্গে প্রায় ১,০০০ জন মানুষের বসার ব্যবস্থা থাকবে। প্রধান গর্ভগৃহের উচ্চতা হবে ৫৪ মিটার, যেখানে ১০৮টি দেবদেবীর মূর্তি ও ৬৪টি সিংহ মূর্তি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শিব, কার্তিক ও সরস্বতীর জন্য আলাদা মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। গোটা কমপ্লেক্সের চারদিকে থাকবে ২০ ফুট চওড়া হাঁটার পথ এবং একটি আলাদা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। রাজ্যের শিল্প, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো স্বীকৃতি এই প্রকল্পের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব আরও বাড়াবে বলে আশাবাদী সরকার।
আরও পড়ুন-২.৫০ লাখ পার রূপা, বছর শেষে সোনার দামেও 'আগুন'
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্প পরিচালনার জন্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে। পাশাপাশি শিল্পীদের জন্য দোকান ও কাজের সুযোগ তৈরি হবে, যা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে।
এদিকে নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালো বিজেপি। বিজেপি অভিযোগ করেছে, এই প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রীর তথাকথিত ‘তুষ্টিকরণ রাজনীতি’-র আরেকটি উদাহরণ। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে দাবি করেন, 'সল্টলেক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর এবার মা দুর্গার ভাবমূর্তিকেও ‘কলুষিত’ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী'।
মালব্য তাঁর পোস্টে লেখেন, “মেসি ইভেন্টকে প্রহসনে পরিণত করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার 'মা দুর্গার পবিত্রতাকে'ও আঘাত করছেন। তাঁর তথাকথিত 'দুর্গা অঙ্গন' প্রকল্প তুষ্টিকরণ ও ভণ্ডামিতে ভরা, যা তাঁর রাজনীতির চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য। এটি বাঙালি হিন্দুদের বিশ্বাস ও আস্থাকে উপহাস করে এবং ভক্তিকে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত করে।”
আরও পড়ুন-দীপু চন্দ্র দাস, অমৃত মণ্ডল হত্যাকাণ্ড নিয়ে ওয়াইসির বড় বক্তব্য, কী বলেছেন জানেন?
আরও পড়ুন-টাটা-এর্নাকুলাম এক্সপ্রেসে ভয়াবহ আগুন! দুটি বগি পুড়ে ছাই...একজন নিহত, আহত একাধিক
মালব্য দাবি করেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে, অথচ প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি চোখে পড়েনি। তাঁর অভিযোগ, আগের নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে তড়িঘড়ি নতুন একটি জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে, যা আগে শিল্পাঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেখানে কোনও শিল্প গড়ে না ওঠায় জমিটি ‘সহজেই দখল’ করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই জমির ক্ষেত্রে কোনও সরকারি জমির ব্যবহার পরিবর্তন বা মাস্টার প্ল্যানে সংশোধন করা হয়নি। বিজেপি নেতার আরও অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে রক্ষা করতে এবং সংখ্যালঘু তুষ্টির উদ্দেশ্যেই শেষ মুহূর্তে দুর্গা অঙ্গনের স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য সরকার।
অমিত মালব্য জানান, আগের ঘোষণা অনুযায়ী, নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা সরণিতে, ওয়েস্টিন হোটেলের বিপরীতে ও ইকো পার্কের কাছে স্বাস্থ্য দপ্তরের জমিতেই দুর্গা অঙ্গন নির্মাণের কথা ছিল। প্রায় দু’মাস ধরে প্রস্তুতি চলছিল, দরপত্র ডাকা হয় এবং প্রায় ৪ কোটি টাকার মাটি ভরাটের কাজও তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ সংস্থাগুলির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। নিউ টাউনের ওয়েস্ট ইন হোটেলের পিছনে, ইকো পার্ক সংলগ্ন এলাকায় জমি অধিগ্রহণও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই জমি নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, যার জেরে শিলান্যাসের স্থান বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, "যে জমিতে দুর্গাঙ্গন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেই জমির মালিকানায় কিছু মুসলিম পরিবারের অংশীদারিত্ব ছিল। তাঁদের পরিবার এবং স্থানীয় মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয় কেন তাঁদের অধিগ্রহণ করা জমিতে সরকারি অর্থে একটি হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি করা হবে। এই আপত্তির জেরেই সরকার চাপে পড়ে যায়"।
আরও পড়ুন- BLO death: স্কুলঘরেই ঝুলন্ত দেহ BLO-প্রধান শিক্ষকের, সুইসাইড নোটে ‘অমানবিক চাপ’-এর অভিযোগ
আরও পড়ুন- ১ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক, পুলিশি অ্যাকশনের বিরুদ্ধে সরব হুমায়ুন
বিজেপির তরফে দাবি করা হয়, দুর্গাঙ্গন, মহাকাল মন্দিরের মতো প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, কিন্তু একই সঙ্গে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকিও নিচ্ছেন না মমতা।” সবশেষে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেন, আতঙ্কনির্ভর শাসনব্যবস্থা, পরিকল্পনার বদলে তুষ্টিকরণ রাজনীতি এবং রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় সব মিলিয়ে এর খেসারত দিতে হচ্ছে রাজ্যের মানুষকে।
After making a spectacle of the Messi event, Mamata Banerjee has now turned her gaze to defiling the sanctity of Maa Durga.
— Amit Malviya (@amitmalviya) December 29, 2025
Her so-called Durga Angan project is steeped in appeasement and fakery, the very hallmarks of her politics. It mocks the faith and beliefs of Bengali… https://t.co/LN8nRes4Vo
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us