'তিলকে তাল করার চেষ্টা', বেলডাঙা হিংসা নিয়ে NIA তদন্তে কেন এমন মন্তব্য করলেন অধীর?

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার হিংসার ঘটনার তদন্তভার হাতে নিল জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিংসার ঘটনার তদন্ত এখন থেকে করবে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার হিংসার ঘটনার তদন্তভার হাতে নিল জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিংসার ঘটনার তদন্ত এখন থেকে করবে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Adhir Ranjan Chowdhury, West Bengal Police, Central Forces, ED CBI Raid, Federal Structure,I-PAC ED Search, Bengal Politics News, Adhir Chowdhury Press Conference, Center-State Conflict, Political Unrest Bengal,অধীর রঞ্জন চৌধুরী , রাজ্য পুলিশ বনাম কেন্দ্রীয় বাহিনী, ইডি সিবিআই হানা , আইপ্যাক ইডি তল্লাশি , যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো,বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ, পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি, অধীর চৌধুরীর বিস্ফোরক মন্তব্য, পুলিশ সংঘাত, কেন্দ্র-রাজ্য বিবাদ

Adhir Ranjan Chowdhury: বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার হিংসার ঘটনার তদন্তভার হাতে নিল জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের  এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিংসার ঘটনার তদন্ত এখন থেকে করবে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা।

Advertisment

আরও পড়ুন-‘মিশন বাংলা’কে সামনে রেখে বিরাট স্ট্র্যাটেজি বিজেপির, নিউ টাউনে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শাহ  

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দু’দিনের বঙ্গ সফরের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঠিক যে দিনে অমিত শাহ ব্যারাকপুর ও শিলিগুড়িতে বিজেপির কর্মী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা, সেদিনই রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে তদন্তভার নেয় এনআইএ। উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি বেলডাঙা থানা এলাকার সুজাপুর কুমারপুর গ্রামের বাসিন্দা আলাই শেখ (৩০)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। 

ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাই শেখ। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, নির্মম নির্যাতনের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে জাতীয় সড়ক ১২ এবং রেললাইন অবরোধ করেন, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। হিংসার সময় পুলিশের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। 

পরদিনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন AIMIM-এর এক নেতাও । সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই এই গ্রেপ্তারি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন-আগামীকালই বাজেট পেশ নির্মলা সীতারমণের, কোন কোন ক্ষেত্রে বিরাট ঘোষণায় বড় চমক দেওয়ার পথে মোদী সরকার? 

হিংসার দিনই শান্তির আবেদন জানিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। দলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বেলডাঙা এলাকায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েন এবং এনআইএ তদন্তের দাবি জানান। মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রকে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার স্বাধীনতা দেয়।

প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, এলাকায় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে না আসা পর্যন্ত CAPF মোতায়েন রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে আরও বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সর্বোত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে ১৫ দিনের মধ্যে এলাকার মানুষ ও সম্পত্তির নিরাপত্তার দায়ভার গ্রহণ করে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, “এর আগেও মুর্শিদাবাদে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তখনও আমি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন তা মানেনি। এরপর বেলডাঙায় ফের হিংসা হয়েছে। এনআইএ তদন্ত শুরু করায় আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। বেলডাঙার ঘটনা কোনও প্রতিবাদ নয়, এটি দেশবিরোধী কার্যকলাপ। নিষিদ্ধ সংগঠন পিএফআই ও সিমির যোগ থাকতে পারে।”

এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই সিদ্ধান্তকে আমরা সবাই স্বাগত জানাই। যেভাবে সেদিন হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে স্পষ্ট যে এর পিছনে বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। এনআইএ রাজ্য পুলিশের আওতার বাইরে। আশা করছি তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনবে।”

এদিকে বেলডাঙ্গা কাণ্ডে NIA তদন্ত নিয়ে মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, "গ্রামের ছেলের মৃত্যুতে একটা স্বতঃফুর্ত আন্দোলনের বহিঃ প্রকাশ। মুর্শিদাবাদে পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। এনআইএ তদন্তে তিলকে তাল করার চেষ্টা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। NIA তদন্ত করতে হলে পুলিশের বিরুদ্ধেই তদন্ত করা উচিত। যা ঘটেছে তা NIAএর তদন্তের মত বড় ঘটনা নয়। তাদের মনে হয়েছে গ্রামের ছেলেটাকে মেরে দেওয়া হয়েছে, তারা বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিল। সেখানে আমি নিজেও গেছিলাম। বনধ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে সেটা পুলিশ-প্রশাসনের ব্যার্থতা। অবরোধ তুলতে প্রশাসন কোন উৎসাহ দেখায় নি। সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে পুলিশের উদাসীনতার কারণে"।

আরও পড়ুন- "আনন্দপুরে ২৫ মৃত্যুর দায় মুখ্যমন্ত্রীর হলে SIR-এ ১৪০ মৃত্যুর দায় কার"? বিরাট প্রশ্নে তোলপাড় ফেললেন অভিষেক

adhir choudhury NIA Beldanga Violence