/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/03/sikkim-2026-02-03-13-12-15.jpg)
Nimachen Sikkim: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি।
Weekend Getaway from Kolkata: শহরের যান্ত্রিক কোলাহল আর ধুলোমাখা বাতাস থেকে মুক্তি পেতে মন যখন পাহাড়ের নির্জনতা খোঁজে, তখন আপনার গন্তব্য হতেই পারে পূর্ব সিকিমের এক অখ্যাত অথচ অপরূপ জনপদ, নিমাচেন। সিল্ক রুটের যাত্রাপথে জুলুক বা নাথাং ভ্যালির নাম অনেকেই শুনেছেন, কিন্তু লিংতাম ও পদমচেনের ঠিক পরেই লুকিয়ে থাকা এই নিমাচেন অনেকের কাছেই এখনও অজানা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড়ি গ্রামটি যেন প্রকৃতির কোলে এক টুকরো শান্তি।
প্রকৃতির রূপ:
নিমাচেনের প্রধান আকর্ষণ হলো এর নিস্তব্ধতা এবং সবুজের সমারোহ। চারপাশ ঘন পাইন ও ধূপি গাছে ঘেরা। পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে বাঁকে মেঘ আর রোদ্দুরের লুকোচুরি খেলা চলে সারাদিন। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার এক মায়াবী রূপ দৃশ্যমান হয়। বিশেষ করে ভোরের আলো যখন তুষারশৃঙ্গে পড়ে, তখন এক অলৌকিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বসন্তকালে এই এলাকা রডোডেনড্রন ফুলে ছেয়ে যায়, আর শীতকালে বরফের চাদরে ঢাকা পড়ে গোটা গ্রাম।
আরও পড়ুন- Garuchira: টুরিস্টদের ভিড় নেই, শুধুই প্রকৃতির রাজত্ব! গারুচিরা, বাংলার এক গোপন হীরের টুকরো
কী দেখবেন?
নিমাচেন মূলত প্রকৃতির সান্নিধ্যে অলস সময় কাটানোর জায়গা। তবে এখান থেকে সিল্ক রুটের জনপ্রিয় দ্রষ্টব্যগুলো খুব সহজেই ঘুরে নেওয়া যায়।
১. থাম্বি ভিউ পয়েন্ট: এখান থেকে সূর্যোদয় এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার প্যানোরামিক ভিউ দেখা যায়। এখান থেকেই বিখ্যাত 'জিগ-জ্যাগ' রাস্তা বা আঁকাবাঁকা পথটি দেখা যায়।
২. কুচিখোলা ফলস: পাহাড়ি ঝর্ণার কলতান শুনতে শুনতে কিছুক্ষণ সময় কাটানো যায়।
৩. নাথাং ভ্যালি ও কুপুপ লেক: নিমাচেন থেকে কিছুটা ওপরে উঠলেই বরফে ঢাকা নাথাং ভ্যালি এবং হাতি লেক বা কুপুপ লেক। এছাড়াও পুরনো বাবা মন্দির ঘুরে আসা যায় সহজেই।
আরও পড়ুন-Lingtam: বড় বড় ট্যুরিস্ট স্পট ফেল! সিল্ক রুটের 'লুকনো রত্ন'! সিকিমের এক টুকরো স্বর্গ লিংটাম
পাখিদের কিচিরমিচি ছাড়া এখানে বিশেষ কোনো শব্দ নেই। হিমালয়ান মোনাল বা ব্লাড ফিজ্যান্টের মতো পাহাড়ি পাখি দেখার সুযোগও মিলতে পারে এখানে।
থাকা-খাওয়া:
নিমাচেনে থাকার জন্য মূলত হোমস্টে বা ইকো-রিসর্ট ভরসা। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের আতিথেয়তা আপনাকে মুগ্ধ করবে। কাঠের তৈরি ঘরগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও তাতে মাটির গন্ধ লেগে থাকে। হোমস্টেগুলোতে মিলবে গরম গরম ঘরোয়া খাবার, ভাত, ডাল, সবজি, ডিম বা চিকেন। কনকনে ঠান্ডায় পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা খাওয়ার অনুভূতিই আলাদা।
আরও পড়ুন-Offbeat beaches: দীঘা-পুরীর দিন কি শেষ? কলকাতার কাছেই মিলল নীল জলের এক 'গোপন' স্বর্গরাজ্য!
কখন যাবেন?
সারা বছরই নিমাচেন যাওয়া যায়। তবে বরফ দেখতে চাইলে জানুয়ারি থেকে মার্চ হলো আদর্শ সময়। আর যদি আবহাওয়া মনোরম এবং রডোডেনড্রনের শোভা দেখতে চান, তবে এপ্রিল-মে মাসে যাওয়া ভালো। বর্ষাকালে পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামার সম্ভাবনা থাকে, তাই ওই সময়টা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কীভাবে যাবেন?
শিলিগুড়ি বা এনজেপি স্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে রংপো হয়ে রংলি পৌঁছতে হবে। পূর্ব সিকিমের সিল্ক রুটে প্রবেশের জন্য ইনার লাইন পারমিট (Inner Line Permit) প্রয়োজন হয়, যা রংলি এসডিও অফিস থেকে পাওয়া যায় (সঙ্গে সচিত্র পরিচয়পত্র ও ছবি রাখা আবশ্যক)। রংলি থেকে লিংতাম হয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় নিমাচেন।
যাঁরা নির্ভেজাল অবসর আর প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে চান, তাঁদের পরবর্তী গন্তব্য হোক নিমাচেন। ভিড় থেকে দূরে, মেঘেদের দেশে দু-দণ্ড শান্তির খোঁজে এর চেয়ে ভালো বিকল্প আর হয় না।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us