/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/20/dooars-2026-01-20-11-01-15.jpg)
Offbeat Destinations: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি।
Offbeat Destinations in North Bengal: শহুরে কোলাহল, নিত্যদিনের ইঁদুর দৌড় আর দূষণ থেকে মুক্তি পেতে মন যখন হাঁপিয়ে ওঠে, তখন বাঙালির প্রথম পছন্দ পাহাড় কিংবা জঙ্গল। আর এই দুইয়ের মেলবন্ধন যদি এক জায়গায় পাওয়া যায়? ডুয়ার্স মানেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে গরুমারা, জলদাপাড়া কিংবা বক্সার জঙ্গল। কিন্তু চেনা ছকের বাইরে, পর্যটকদের ভিড় থেকে অনেক দূরে, কালিম্পং জেলার কোলে লুকিয়ে আছে এক মায়াবী গ্রাম নিমং (Nimong)। কুয়াশা মাখা পাহাড়, ধাপে ধাপে নেমে আসা চা বাগান আর চেল নদীর কুলকুল শব্দ, সব মিলিয়ে নিমং যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক সজীব ছবি।
কোথায় এই নিমং?
ভৌগোলিক দিক থেকে কালিম্পং জেলায় অবস্থিত হলেও, নিমং মূলত ডুয়ার্স এবং পাহাড়ের সংযোগস্থল। সমতল থেকে পাহাড়ের দিকে ওঠার পথেই পড়ে এই ছোট্ট জনবসতি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি এখনও বানিজ্যিক পর্যটনের গ্রাসে হারিয়ে যায়নি। তাই এখানে নেই হোটেলের আড়ম্বর বা মলের ভিড়। আছে কেবল বুকভরা বিশুদ্ধ বাতাস আর নিস্তব্ধতা।
যাত্রাপথের সৌন্দর্য্য
নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) বা বাগডোগরা থেকে নিমং যাওয়ার পথটিই আপনাকে রোমাঞ্চিত করবে। মালবাজার হয়ে চেল নদীর পাশ দিয়ে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগিয়ে চলা। রাস্তার দু’পাশে কখনো ঘন জঙ্গল, কখনো বা পাইন ও ওক গাছের সারি। কিছুটা ওপরে উঠলেই চোখে পড়বে দিগন্তবিস্তৃত চা বাগান। ফাগু টি-এস্টেট পার করে যখন আপনি নিমং-এর পথে ঢুকবেন, তখন মেঘেরা আপনাকে স্বাগত জানাবে।
আরও পড়ুন- Lingtam: বড় বড় ট্যুরিস্ট স্পট ফেল! সিল্ক রুটের 'লুকনো রত্ন'! সিকিমের এক টুকরো স্বর্গ লিংটাম
কী দেখবেন? কী করবেন?
নিমং মূলত তাদের জন্য, যারা ‘কিছু না করার’ উদ্দেশ্যে বেড়াতে যান। এখানে নির্দিষ্ট কোনো ‘সাইট সিন’ বা দর্শনীয় স্থান দেখার তাড়া নেই।
১. চেল নদী: গ্রামের গা ঘেঁষেই বয়ে চলেছে চেল নদী। অনেকটা নিচে দেখা যায় নদীর রুপোলি রেখা। পায়ে হেঁটে বা গাড়ি নিয়ে নদীর পাড়ে কিছুটা সময় কাটানো যায়। শীতকালে নদীর জল স্বচ্ছ কাঁচের মতো, আর বর্ষায় তা ভয়ংকর সুন্দর।
আরও পড়ুন-Dhuluk: অফবিট পাহাড়ি স্বর্গ ধুলুক: অপরূপ-অসাধারণ ছোট্ট গ্রামের জাদুতে মুগ্ধ পর্যটকরা
২. চা বাগান: নিমং-এর চারপাশে রয়েছে নামী-দামি সব চা বাগান। তার মধ্যে অন্যতম ‘সামাবিয়ং টি এস্টেট’। পাহাড়ের ধাপে ধাপে সাজানো সবুজ গালিচার মতো এই চা বাগানে হাঁটলে মন ভালো হতে বাধ্য।
৩. পাখির কলতান: যারা পাখি দেখতে ভালোবাসেন, নিমং তাদের জন্য স্বর্গরাজ্য। হিমালয়ের বহু দুষ্প্রাপ্য পাখি, যেমন, স্কারলেট মিনিভেট, ভার্ডিকটার ফ্লাইক্যাচার বা হর্নবিলের দেখা মিলতে পারে বাড়ির বারান্দায় বসেই।
৪. গ্রাম্য জীবন: এখানকার স্থানীয় মানুষ মূলত গোর্খা সম্প্রদায়ের। তাঁদের সহজ-সরল জীবনযাপন, আতিথেয়তা এবং পাহাড়ি সংস্কৃতি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে। গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাঁটলে দেখা মিলবে পাহাড়ি ফুল আর অর্কিডের।
থাকা ও খাওয়া:
যেহেতু নিমং এখনও পুরোপুরি পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠেনি, তাই এখানে থাকার জন্য বড় কোনো হোটেল নেই। ভরসা একমাত্র হোমস্টে। স্থানীয়রা তাঁদের বাড়ির অতিরিক্ত ঘরগুলি সাজিয়ে দিয়েছেন পর্যটকদের জন্য। এই হোমস্টেগুলির আতিথেয়তা পাঁচতারা হোটেলকেও হার মানাবে। ঘরের জানলা খুললেই পাহাড় আর মেঘের খেলা। খাবারেও মিলবে ঘরোয়া স্বাদ। স্থানীয় খামারের টাটকা সবজি, দেশি মুরগির ঝোল আর ধোঁয়া ওঠা দার্জিলিং চা, নিমং সফরের অন্যতম পাওনা।
কখন যাবেন?
সারা বছরই নিমং যাওয়া যায়। তবে অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত আবহাওয়া সবথেকে মনোরম থাকে। শীতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলতে পারে। আর বর্ষায় নিমং সেজে ওঠে গাঢ় সবুজে, মেঘেরা তখন ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ে।
কীভাবে যাবেন?
ট্রেনে করে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) বা নিউ মাল জংশনে নামতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে মালবাজার, গোরুবথান হয়ে পৌঁছানো যায় নিমং। এনজেপি থেকে দূরত্ব প্রায় ৬৫-৭০ কিলোমিটার, সময় লাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। যারা নির্জনতাকে ভালোবাসেন, যারা চান জানলার পাশে বসে প্রিয় বইয়ের পাতা উল্টাতে কিংবা পাহাড়ি রাস্তায় হারিয়ে যেতে, তাদের পরবর্তী গন্তব্য হতেই পারে ডুয়ার্সের এই গোপন রত্ন, নিমং।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us