/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/12/nipa-2026-01-12-20-22-20.jpg)
Nipah virus: প্রতীকী ছবি।
বাদুড়বাহিত মারণ ভাইরাস ‘নিপা’ বাংলায় থাবা বসানোয় রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষেধক না থাকায় স্বাস্থ্য দফতর সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের এক তরুণী নার্স বর্তমানে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই নড়েচড়ে বসে জেলা ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই নার্সের সংস্পর্শে আসা সকলের খোঁজ শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের অন্তত ১০ জন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও অ্যাম্বুল্যান্স চালক-সহ মোট ৬০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের সকলকে আগামী ১৪ থেকে ২১ দিন বাড়িতে নিভৃতবাসে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে কল্যাণীর এইমসে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
'৮৪ মৃত্যু’তে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব মমতা, বিজেপির বিরাট ষড়যন্ত্র ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী
বর্ধমান মেডিক্যাল সূত্রে খবর, শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে বর্ধমান মেডিক্যালের এক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন, যাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। তাঁকে ছুটি দিয়ে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্ধমান মেডিক্যালের এক নার্সের শরীরেও নিপা সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাঁকে বুধবার মেমারি থেকে বর্ধমান মেডিক্যালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়েছে। এই দুই জনের সংস্পর্শে আসা আরও ১২ জনকে নিভৃতবাসে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
এদিকে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। একই সঙ্গে মঙ্গলকোটের ওই আক্রান্ত নার্সের সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিলেন, তাঁদের শনাক্ত করার কাজও চলছে। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের টিম এক্ষেত্রে সব তথ্য সংগ্রহে এখনও পুরোপুরি সফল না হওয়ায় পুলিশকে বিষয়টি তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, নিপা আক্রান্ত ওই তরুণী বারাসাতের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মা মঙ্গলকোটের একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তিনি জানান, গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে মেয়ের শরীর খারাপ হতে শুরু করলেও ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সে কাজে যোগ দিয়েছিল। পরীক্ষার কারণে এক দিনের জন্য বাড়ি এলেও পরে ফের বারাসাতে ফিরে যায়। সেখানে ফের জ্বরে আক্রান্ত হলে ২ জানুয়ারি সে বাড়ি ফিরে আসে এবং কাটোয়ায় চিকিৎসকের কাছে দেখানো হয়। ওই দিনই বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়ায় পরদিন সকালে তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বর্ধমান মেডিক্যাল হয়ে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন।
Dev: “বয়স্কদের হয়রানি নয়, ভোটার অধিকার সুরক্ষিত হোক”, SIR শুনানিতে গিয়ে আর্জি দেবের
অন্যদিকে, আক্রান্ত নার্সের প্রতিবেশীদের দাবি, তাঁর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরার পরদিন সকালেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, ফলে গ্রামবাসীদের কারও সঙ্গে তাঁর সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়নি। তবে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা সকলের তালিকা তৈরিতে জোর দেওয়ায় জেলা স্বাস্থ্য দফতর ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
ইতিমধ্যেই বর্ধমান মেডিক্যালের ৮ জন চিকিৎসক, কয়েকজন নার্স, সিসিইউ টেকনিশিয়ান ও কর্মী মিলিয়ে মোট ৩৮ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ২ জন চিকিৎসক, ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুল্যান্স চালক এবং আক্রান্ত তরুণীর মা, বাবা ও ভাইয়ের নাম ওই তালিকায় রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর আরও জানতে পেরেছে, আক্রান্ত তরুণী গত ১৫ ডিসেম্বর নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানবাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাঁর সংস্পর্শে আসা আরও ১৩ জনকেও শনাক্ত করা হয়েছে। গোটা তালিকা ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম জানান, আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের সবাইকে নিভৃতবাসে থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন ফোন করে নিভৃতবাসে থাকা প্রত্যেকের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে স্বাস্থ্য দফতর।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us