/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/15/nitin-nabin-2025-12-15-13-14-11.jpg)
নড্ডার স্থলাভিষিক্ত নীতিন নবীন
Nitin Nabin Education: ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এক বিরাট সাংগঠনিক রদবদলের মাধ্যমে বিহারের জোট সরকারের মন্ত্রী নীতিন নবীনকে দলের সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি হিসাবে মনোনীত করেছে। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে নীতিন নবীন দায়িত্ব পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। নবীনকে দলের সর্বভারতীয় কার্যকারী সভাপতি পদে নিয়োগ কি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বে প্রজন্ম বদলের ইঙ্গিত নাকি আসন্ন নির্বাচনী মরশুমকে সামনে রেখে এটা দলের সুপরিকল্পিত কৌশল? দলীয় সূত্রের মতে, নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত নীতিন নবীন এই দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা সংগঠনের উপর আস্থা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নির্বাচনী দক্ষতাকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এই রদবদলের মাধ্যমে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এবং অন্যান্য রাজ্যগুলির দিকে তাকিয়ে বিজেপি যে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে, এই সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত বলে মত পর্যবেক্ষকদের। উল্লেখ্য, নীতিন নবীনের নাম ঘোষণা হওয়ার ঠিক একদিন আগেই উত্তরপ্রদেশে নতুন রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হয়।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর জেপি নাড্ডাকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী করার পর থেকেই বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি পদে নতুন মুখের সন্ধান শুরু হয়েছিল। নাড্ডার মেয়াদ জুন ২০২৪-এ শেষ হলেও তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন। নীতিন নবীনের নিয়োগে স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন কোর টিমের আস্থাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। ছত্তিশগড়ে সংগঠনের দায়িত্বে থাকাকালীন বুথ-স্তরের ব্যবস্থাপনা, সংগঠন বিস্তার এবং নির্বাচনী সমন্বয়ে তাঁর ভূমিকা শীর্ষ নেতৃত্বকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছিল।
নীতিন নবীনের নিয়োগকে বিজেপির ‘জেনারেশন নেক্সট’ রাজনীতির সূচনা হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও সভাপতি পদের দৌড়ে তৃতীয় সারির আরও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত আরএসএস ও বিজেপির সমন্বয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব নীতিন নবীনের উপরই ভরসা রাখে। সামাজিক সমীকরণের দিক থেকেও এই নিয়োগ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কায়স্থ সম্প্রদায়ভুক্ত নীতিন নবীন এমন এক ভোটব্যাঙ্কের প্রতিনিধিত্ব করেন, যা সংখ্যায় কম হলেও বিজেপির ঐতিহ্যবাহী ও নির্ভরযোগ্য ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত। যশবন্ত সিনহার পর দীর্ঘদিন পরে এই সম্প্রদায়ের কোনও নেতাকে এত উচ্চ সাংগঠনিক পদে বসালো বিজেপি।
নীতিন নবীনের রাজনৈতিক জীবন সম্পূর্ণরূপে বিজেপিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। তাঁর বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহা ছিলেন দলের একজন প্রভাবশালী নেতা ও বাঁকিপুরের প্রাক্তন বিধায়ক। বাবার মৃত্যুর পর ২০০৬ সালে পাটনা পশ্চিম (বর্তমানে বাঁকিপুর) উপনির্বাচনে প্রথমবার বিধায়ক হন নীতিন নবীন। এরপর ২০১০, ২০১৫, ২০২০ এবং ২০২৫ টানা পাঁচবার ওই আসন থেকে জয়লাভ করে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করেন।
বিহার সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নীতিন নবীন একজন দক্ষ সংগঠক ও প্রশাসক হিসাবে এক আলাদাই পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। দলীয় সংগঠনে তিনি বিজেপি যুব মোর্চার জাতীয় সাধারণ সম্পাদক, বিহার রাজ্য সভাপতি, সিকিমের ইনচার্জ এবং ছত্তিশগড়ের সহ-ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।এই সব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে, তৃণমূল স্তর থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনকে আরও মজবুত করার ক্ষমতা নীতিন নবীনের রয়েছে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৪ ডিসেম্বর থেকে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নিয়োগ বিজেপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের দিকেই একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যেখানে তরুণ, সংগঠক ও প্রশাসনিক দক্ষ নেতাদের উপর আরও বেশি ভরসা রাখছে দল। নীতিন নবীনের শিক্ষাজীবন শুরু পাটনার সেন্ট মাইকেল হাই স্কুলে। সেখান থেকেই তিনি ১৯৯৬ সালে বা দশম শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনার জন্য তিনি দিল্লিতে যান। নয়াদিল্লির সিএসকেএম পাবলিক স্কুল থেকে ১৯৯৮ সালে তিনি দ্বাদশ শ্রেণি সম্পন্ন করেন। তাঁর এই শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য নির্বাচনী হলফনামাতেও উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন-মারাত্মক দূষণের কবলে দিল্লি, একিউআই ৫০০ ছাড়িয়েছে!
আরও পড়ুন-'বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে', SIR আতঙ্কে আত্মঘাতী, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে বাংলায় তোলপাড়
আরও পড়ুন-রক্তাক্ত প্রতিশোধ! ভাইকে খুনের বদলা নিতে অভিযুক্তকে কুপিয়ে খুন দাদা
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us