"দিদি-মোদী দু’জনেই নির্বাচিত স্বৈরাচারী শাসক”, মনিরুল কাণ্ডে কমিশনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল, গর্জে উঠলেন অধীর

ফারাক্কা বিডিও দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনও এফআইআর দায়ের হয়নি।

ফারাক্কা বিডিও দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনও এফআইআর দায়ের হয়নি।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Adhir Ranjan Chowdhury  ,SIR controversy West Bengal  ,Special Intensive Revision SIR  ,Congress protest against SIR  ,Trinamool Congress SIR issue  ,Adhir Chowdhury press conference  ,Rahul Gandhi Congress court case,  West Bengal election commission news  ,TMC vs Congress political clash,  Berhampore former MP Adhir Chowdhury,অধীর রঞ্জন চৌধুরী,  এসআইআর বিতর্ক  ,স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন , এসআইআর বিরোধিতা কংগ্রেস,  তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর  ,অধীর চৌধুরীর সাংবাদিক বৈঠক  ,রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস  ,পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশন,  তৃণমূল বনাম কংগ্রেস , বহরমপুর প্রাক্তন সাংসদ অধীর

Adhir Ranjan Chowdhury: প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী।

ফারাক্কা বিডিও দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনও এফআইআর দায়ের হয়নি। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশনের নির্দেশের ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এই বিষয়ে কোনও মামলা রুজু হয়নি, যা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরেই এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এনিয়েই এবার শাসক দলকে নিশানা কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর। 

Advertisment

এক সাংবাদিক সম্মেলনে অধীরবাবু এদিন বলেন, "মনিরুলের বিরুদ্ধে FIR করবে প্রশাসনের বাবার ক্ষমতা আছে? প্রশাসনের বাবা হচ্ছে মনিরুলরা। আর তাদের বাবা-মা হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাইন রিঅ্যাকশন, ওপর থেকে যা বলছে তাই হচ্ছে। এখনও ডিএম কে মেরে বের করে দেয়নি বাবার ভাগ্য ভালো। এখন কদিন লোক দেখানো খেলা চলবে। ডিএম এসডিওকে বলবে। এসডিও আইসিকে বলবে। কমিশনের কোপ থেকে বাঁচার জন্য সকলেই নিজের ঘাড় থেকে দায় ছেড়ে ফেলার চেষ্টা করবে"। 

আরও পড়ুন- ২৬ জানুয়ারি দেশকে 'আতঙ্কিত' করার বড়সড় ষড়যন্ত্র, সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হল নিরাপত্তা

চলতি ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময় গত ১৪ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা ব্লক উন্নয়ন দফতরে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিধায়ক মনিরুল ইসলাম তাঁর সমর্থকদের নিয়ে সেখানে বিক্ষোভ দেখান এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরই দফতরের ভিতরে ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিককে নির্দেশ দেয়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে বিধায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে।

তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানান, “আমাদের কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। সেই কারণে এখনও এফআইআর রুজু করা সম্ভব হয়নি।” এই অবস্থায় কমিশনের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

আরও পড়ুন- ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ আদৌ অংশ নেবে ভারত? কোন কোন বিষয়ে অস্বস্তি নয়াদিল্লির?

উল্লেখ্য, ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি রাজীব কুমারের সঙ্গে কথা বলে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছিল। প্রথমে যে এফআইআর রুজু হয়, তাতে মনিরুল ইসলামের নাম ছিল না। এরপরই কমিশন স্পষ্টভাবে বিধায়কের নাম উল্লেখ করে নতুন এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, “আইন তার নিজের পথেই চলবে। বিচারব্যবস্থার দরজা সবার জন্য খোলা।” অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “এই রাজ্যে কি আধিকারিকদের এফআইআর দায়ের করার ক্ষমতাই নেই? এমন কি জেলাশাসকও এফআইআইরের নির্দেশ দিতে অক্ষম।”

তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের বিরোধিতা করেছে। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “প্রতিবাদ হওয়াটা স্বাভাবিক। মানুষ প্রতিবাদ না করলে করবে কে?” অপরদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই রাজ্যে অশান্তি ছড়াতে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কোটি কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লেও কোথাও এমন অশান্তি হয়নি, যেটা কেবল পশ্চিমবঙ্গেই দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন- আদমশুমারির প্রস্তুতি দেশজুড়ে, জারি বিজ্ঞপ্তি, ৩৩ প্রশ্নের উত্তর না দিলে নাগরিকত্ব হারাবেন? কী জানালো সরকার?

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এফআইআর দায়ের না করে শুক্রবার জেলা প্রশাসন সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তে কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বারবার হিংসার ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, যে সব কেন্দ্রে অশান্তি হচ্ছে সেখানে এসআইআর শুনানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি, শুনানি কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যে রাজ্য সরকারেরই, সে কথাও স্পষ্ট করেছে কমিশন।

মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় কমিশন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। নির্দেশ মানা না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।

এদিন ফের একবার মোদী-মমতা আঁতাতের অভিযোগ তুলে রাজ্য-রাজনীতিরতে তোলপাড় ফেললেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী। কংগ্রেস নেতা এদিন বলেন, "দিদি আর মোদীর মধ্যে কোন ফারাক নেই। দুজনেই নির্বাচিত স্বৈরাচারী। দুজনের চিন্তা-ভাবনার মধ্যে কোন ফারাক নেই। পাশাপাশি বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী এদিন বলেন, "আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা গ্রামান্তরে পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাদের উপর অত্যাচার একটি অপরাধ।" তাদের কথা শোনার মত নেই। তাদের দাবিটা কি খুব অন্যায়? তাদের ডান্ডা মারার লোক আছে কিন্তু দাবি-দাওয়া শোনার লোক নেই। একই সঙ্গে বাংলায় এসআইআর শুনানিপর্বে একের পর এক অশান্তির ঘটনায় মুখ খুলেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, যা কারচুপি করার হয়ে গেছে, তাই তৃণমূল এখন SIR প্রক্রিয়াকে বানচাল করে দিতে চাইছে ।”

আরও পড়ুন- "আদৌ কোনও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ?” বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়...

mamata Adhir Chowdhury