/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/05/field-2026-02-05-09-51-51.jpg)
Nokdara Kalimpong: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি।
Kalimpong offbeat villages: ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে, কালিম্পঙের নির্জন পাহাড়ের কোলে শান্তিতে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে আপনার গন্তব্য হতে পারে নোকদারা (Nokdara)। কালিম্পং জেলার এই ছোট্ট পাহাড়ি জনপদটি বর্তমানে পর্যটকদের কাছে এক নতুন বিস্ময়। নীল আকাশের নিচে সবুজ গালিচার মতো চা বাগান, পাইন বনের সারি আর মেঘেদের লুকোচুরি, সব মিলিয়ে নোকদারা যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত ছবি।
ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
নোকদারা পর্যটন কেন্দ্র (The Nokdara Tourist Complex)
নোকদারার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এখানকার নবনির্মিত নোকদারা পর্যটন কেন্দ্র। সরকারের উদ্যোগে এই পাহাড়ের ধাপগুলোতে অসাধারণ একটি বাগান এবং কৃত্রিম জলাধার তৈরি করা হয়েছে।কালিম্পং শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে লাভার কাছাকাছি অবস্থিত এই গ্রাম। নোকদারা মূলত একটি লেপচা প্রধান গ্রাম। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো এর নিস্তব্ধতা। চারদিকে পাহাড়ের ধাপ আর মাঝে ছোট্ট এই জনপদটি আধুনিক সভ্যতার কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ভোরের প্রথম আলো যখন পাহাড়ের চূড়ায় পড়ে, তখন চারপাশের দৃশ্য অপার্থিব হয়ে ওঠে।
বোট রাইডিং: পাহাড়ের কোলে এই লেকের শান্ত জলে নৌকাবিহার করার অভিজ্ঞতা আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
পিকনিক স্পট: পর্যটকদের জন্য এখানে সুন্দর বসার জায়গা এবং ছোট ছোট কটেজ রয়েছে, যেখানে বসে আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রকৃতির রূপ উপভোগ করতে পারেন।
হিমালয়ের দৃশ্য: আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্র শিখর দেখতে পাওয়া যায়, যা পর্যটকদের জন্য এক বাড়তি পাওনা।
কী কী করবেন নোকদারায়?
১. গ্রাম ভ্রমণ (Village Walk): পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে হেঁটে বেড়ানো এবং স্থানীয় লেপচা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া নোকদারার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পাহাড়ের ধাপচাষ আর স্থানীয় ফুলগাছে ঘেরা বাড়িগুলো দেখে আপনার মনে হবে সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন-Offbeat beaches: দীঘা-পুরীর দিন কি শেষ? কলকাতার কাছেই মিলল নীল জলের এক 'গোপন' স্বর্গরাজ্য!
২. পাখি দেখা (Bird Watching): এই এলাকাটি নানা প্রজাতির হিমালয়ী পাখির বাসভূমি। ভোরে পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙা এখানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
৩. লাভা ও রিশপ ভ্রমণ: নোকদারা থেকে খুব সহজেই লাভা, রিশপ এবং লোলেগাঁও ঘুরে নেওয়া যায়। নেওড়া ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের খুব কাছে হওয়ায় এখানকার জীববৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো।
থাকবেন কোথায়?
নোকদারায় বিলাসবহুল হোটেলের ভিড় নেই। এখানে থাকার জন্য প্রধান ভরসা হলো হোমস্টে (Homestay)। পাহাড়ের মানুষের আতিথেয়তা এবং তাঁদের হাতের তৈরি গরম পাহাড়ি খাবার আপনার ভ্রমণের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। স্থানীয় বাগান থেকে তোলা টাটকা সবজি দিয়ে তৈরি সাধারণ খাবারের স্বাদ আপনি দীর্ঘদিন মনে রাখবেন।
কীভাবে যাবেন?
শিলিগুড়ি বা এনজেপি (NJP) থেকে নোকদারার দূরত্ব প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করে গরুবাথান হয়ে লাভার পথে নোকদারা পৌঁছানো যায়। এছাড়া কালিম্পং শহর থেকেও প্রাইভেট ট্যাক্সি বা শেয়ার গাড়িতে নোকদারা যাওয়া সম্ভব।
যাওয়ার সেরা সময়
সারা বছরই নোকদারার আবহাওয়া মনোরম থাকে। তবে শীতকাল অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সেরা সময়। আবার মার্চ-এপ্রিল মাসে এলে আপনি দেখতে পাবেন পাহাড়ের বুকে রডোডেনড্রন আর অর্কিডের মেলা। বর্ষায় পাহাড় কিছুটা বিপদজনক হলেও, মেঘের আনাগোনা দেখতে যারা ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে এই সময়টা অনন্য।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us