/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/22/toll-rises-to-30-in-karachi-fire-2026-01-22-10-18-04.jpg)
করাচির শপিং মলে বিধ্বংসী অগ্নিকান্ড
পাকিস্তানের করাচির গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ক্রমশই বড় বিপর্যয়ের রূপ নিচ্ছে। বুধবার একটি দোকান থেকে ৩০টিরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধারের পর এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ ছাড়িয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সূত্রের দাবি, এখনও ৭০ থেকে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে।
আরও পড়ুন- ভিআইপি রোডে ৭০ ফুটের মেসি মূর্তি, নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলল খোদ হাইকোর্ট
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, গুল প্লাজার মধ্যতলায় অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারি’ নামে একটি দোকান থেকে একসঙ্গে প্রায় ৩০টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। সিন্ধু পুলিশের মতে, দোকানের শাটার বন্ধ করে আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন দোকানদার, কর্মী ও ক্রেতারা। কিন্তু ঘন ধোঁয়া ও আগুনের তীব্রতায় তাঁদের আর বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। বেশিরভাগ মৃতদেহই মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনা বহু দেহ সম্পূর্ণ ঝলসে গিয়েছে। ফলে মৃতদের পরিচয় নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার মতো পদ্ধতির সাহায্য নিতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর থেকে বহু পরিবার হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলের মধ্যে ছুটোছুটি করছেন নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে।
গুল প্লাজা ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, বাজারের প্রবেশপথগুলি অবরুদ্ধ ছিল না এবং জরুরি র্যাম্পও খোলা ছিল। সময়মতো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল বলেও তাদের বক্তব্য। তবে প্রশ্ন উঠছে যদি সব প্রবেশপথ খোলা থাকত, তাহলে কীভাবে এত মানুষ একটি দোকানের মধ্যেই আটকে পড়লেন?
আরও পড়ুন- SIR শুনানির নোটিস পেতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন বৃদ্ধ, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই সব শেষ
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ও প্রশাসন বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত শুরু করেছে। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ভবনের একাধিক অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। যদিও সিন্ধু পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে এখনও পর্যন্ত কোনও নাশকতার যোগসূত্র মেলেনি।
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সাহায্য করবে। করাচির দক্ষিণ জেলার ডেপুটি কমিশনার জাভেদ নবী জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৪৮টি মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, বাকিদের পরিচয় জানার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ৭৩ জন নিখোঁজ।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিন্ধু সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও করাচির কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল এবং নির্ধারিত মানদণ্ড মানা হয়নি।
আরও পড়ুন- রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে I-PAC নিয়ে প্রকাশ্যে 'চাঞ্চল্যকর' তথ্য, দেশজুড়ে তোলপাড়
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ১০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী পুরুষ, মহিলা ও শিশুরা রয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ১৬ জন নাবালক, যারা ওই প্লাজার দোকানগুলিতে কাজ করত অথবা কেনাকাটা করতে এসেছিল।
করাচির মেয়র মুর্তজা ওহাব জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, দোকানদার ও কর্মচারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেই নিখোঁজদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। করাচি মেট্রোপলিটন কর্পোরেশনের মুখ্য অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা হুমায়ুন খানের মতে, ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধার করতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us