/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/24/pathsathi-motel-converted-into-police-station-shaktigarh-east-burdwan-2026-01-24-21-31-08.jpg)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের ‘পথসাথী মোটেল’ এবার শক্তিগড়ে থানায় রূপান্তর, শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক
পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের ও সাধের প্রকল্প ‘পথসাথী মোটেল’ শেষ পর্যন্ত থানায় রূপান্তরিত হওয়ায় জোর রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শক্তিগড় থানার উদ্বোধন করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শক্তিগড় ও সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-তে কত নাম বাদ? সুপ্রিম নির্দেশের পর আজই তালিকা প্রকাশ কমিশনের?
দূরপাল্লার যাত্রীদের, বিশেষ করে মহিলাদের কথা মাথায় রেখে রাজ্য ও জাতীয় সড়কের ধারে সুলভ মূল্যে খাবার, নিরাপদ বিশ্রাম, রাত্রিযাপন এবং পরিষ্কার শৌচাগারের ব্যবস্থা করতেই মুখ্যমন্ত্রী ‘পথসাথী মোটেল’ প্রকল্পের সূচনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শক্তিগড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ২০১৮ সালে পথসাথী মোটেল নির্মাণ করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত ও আবাসন দপ্তরের উদ্যোগে এবং তৎকালীন বর্ধমান-২ ব্লকের বিডিও কমলিকা ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে মোটেলটি চালু হয়। পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে। অল্প সময়ের মধ্যেই খাবারের গুণমান ও পরিষেবার জন্য মোটেলটি জনপ্রিয়তা পায় এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের রোজগারও ভালোই চলছিল।
রাজ্যে ডিজিপি নিয়োগ নিয়ে ফের নতুন বিতর্ক, রাজীব কুমারের নাম সুপারিশেই 'তোলপাড়'!
তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ে পথসাথী মোটেল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে পর্যটন দপ্তর দায়িত্ব নিলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে শক্তিগড়ের পথসাথী মোটেলকে থানায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিষয়ে ডিজি রাজীব কুমার মন্তব্য করতে অস্বীকার করে বলেন, যা বলার তা জেলা পুলিশ সুপারই বলবেন। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সায়ন দাসও মন্তব্য এড়িয়ে যান।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই স্বপ্নের প্রকল্প থানায় রূপান্তরিত হওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র এই ঘটনাকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর তুঘলকী সিদ্ধান্তের ফল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে কোটি কোটি টাকা খরচ করে পথসাথী মোটেল তৈরি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য সফল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেটিকে থানায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। শক্তিগড়ের ‘মিষ্টি হাব’ ও পথসাথী মোটেলের মতো প্রকল্পগুলি সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
যদিও বিজেপির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, পথসাথী মোটেল চালু হওয়ার পর থেকেই তা তেমনভাবে সফল হয়নি। পরে পর্যটন দপ্তর অধিগ্রহণ করলেও ভালোভাবে চলেনি। তাই প্রশাসনিক প্রয়োজনেই সেখানে থানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খেলা শুরু! ভোটের কৌশল নির্ধারণে ভার্চুয়াল বৈঠক অভিষেক, দিলেন বড় নির্দেশ


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us