/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/16/rabi-2026-01-16-09-44-44.jpg)
Rabindranath Bhattacharya: রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।
একসময়ের তপ্ত সিঙ্গুর, যা দেখেছিল এক ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন, সেই বহুল চর্চিত জমিতেই এবার জীবনের প্রথম রাজনৈতিক সভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ১৮ জানুয়ারি এই হাইভোল্টেজ সভাকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব সিঙ্গুর জুড়ে। অথচ, এই মেগা ইভেন্টের আবহে কার্যত উপেক্ষিতই রয়ে গেলেন সিঙ্গুর আন্দোলনের ‘মাস্টারমশাই’ রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।
ব্রাত্য মাস্টারমশাই: দুচোখে ক্ষোভ নয়, বরং আক্ষেপ
বুধবার থেকেই সিঙ্গুরের ঘরে ঘরে মোদীর সভার আমন্ত্রণপত্র বিলি করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, ৯৩ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ঘরে পৌঁছায়নি কোনো আমন্ত্রণ। শিবরামবাটির ভট্টাচার্য পাড়ায় নিজের ছোট্ট ঘরে আজ তিনি শয্যাশায়ী। পায়ে গুরুতর সংক্রমণ, দৃষ্টিশক্তিও ক্ষীণ। বিজেপি থেকে আমন্ত্রণ না আসা প্রসঙ্গে মাস্টারমশাইয়ের মন্তব্য, "আমায় কেউ খবর দেয়নি তো কী হয়েছে? শরীর সঙ্গ দিলে আমি দর্শক হিসেবেই মোদীজির কথা শুনতে যেতাম।"
বিছানার এক কোণে বইয়ের স্তূপের মাঝে শুয়ে থাকা প্রবীণ এই নেতা বর্তমানে রাজনীতির মূল স্রোত থেকে দূরে থাকলেও, তাঁর মানসিক দৃঢ়তা আজও অটুট। উল্লেখ্য, তৃণমূল থেকে টিকিট না পেয়ে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রতীকে লড়াই করেছিলেন তিনি, তবে পরাজিত হন নিজেরই ভাবশিষ্য বেচারাম মান্নার কাছে।
আরও পড়ুন-West Bengal Weather: মারকাটারি মেজাজে শীত! এবার কি ঝটপট বিদায়? জানুন হাওয়া অফিসের বড় আপডেট
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক মাস্টারমশাই
মোদীর এই সভা তৃণমূলের জন্য ‘মোক্ষম আঘাত’ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রবীন্দ্রনাথ বাবু। তাঁর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি এবং মন্ত্রীদের জেলযাত্রার ফলে তৃণমূলের প্রতি জনসমর্থন আগের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। মাস্টারমশাইয়ের দাবি, আগামী নির্বাচনে হুগলির বেশ কয়েকটি আসনে হারবে তৃণমূল, যার মধ্যে সিঙ্গুর অন্যতম। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি স্ট্রংরুম পাহারার বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, "রাজ্য পুলিশ দিয়ে হবে না, স্ট্রংরুমে বিচ্ছিরি ভাবে কারচুপি হয়।"
BJP-র প্রতি বার্তাও স্পষ্ট
মোদীজিকে পছন্দ করলেও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে কিছুটা সন্দিহান এই প্রবীণ নেতা। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজনীতিতে কোনো ধরনের 'ধর্মান্ধতা' তিনি পছন্দ করেন না। ৯৩ বছর বয়সেও রাজনীতির ময়দান থেকে দূরে থেকে যে তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ তিনি রাখলেন, তা আগামী দিনে সিঙ্গুরের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us