/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/18/modi-p-2026-01-18-17-25-21.jpg)
PM Narendra Modi: সিঙ্গুরের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্সপ্রেস ফটো: পার্থ পাল।
PM Modi speech in Singur: মালদার পর এবার হুগলির সিঙ্গুর। রবিবার সেই ঐতিহাসিক জমি আন্দোলনের মাটি থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়ে তাঁর নতুন স্লোগান, ‘‘পালটানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’’। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বিহারের মতো বাংলা থেকেও ‘মহা জঙ্গলরাজ’ বিদায় করতে মানুষ প্রস্তুত।
এদিন সভার শুরুতেই আবেগঘন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ সকালে কামাখ্যার পবিত্র ভূমিতে ছিলাম, আর এখন বাবা মহাদেবের পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছি। সিঙ্গুরের মানুষের উৎসাহ দেখে আমি অভিভূত।” এরপরই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তোপ দাগেন তিনি। বিহারের প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, “বিহারে জঙ্গলরাজের অবসান হয়েছে। এবার পালা পশ্চিমবঙ্গের। টিএমসি-র মহা জঙ্গলরাজ বিদায় করতে রাজ্যের মানুষ তৈরি।”
‘বন্দে মাতরম’ ও বাংলার সংস্কৃতি বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী হুগলির সঙ্গে এই মন্ত্রের গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করান। তিনি বলেন, “বাংলার মাটি স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমাদের সরকারের উদ্যোগেই বাংলার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে এবং বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণায় আরও গতি আসবে।”
শিল্প ও কৃষিতে নতুন দিশা সিঙ্গুরের কৃষি ও শিল্পের মেলবন্ধনের স্বপ্ন দেখিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাটশিল্প, ধনিয়াখালির তাঁত এবং হুগলির আলু-পেঁয়াজ রপ্তানি এক নতুন দিশা দেখাবে। বাংলার কৃষকরা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাবেন, এটাই আমার স্বপ্ন।” তবে তাঁর সতর্কবাণী, “বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগ তখনই আসবে, যখন এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। বর্তমানে দাঙ্গাকারী ও মাফিয়ারা এই ভূমিকে নিজেদের অভয়ারণ্য মনে করছে।”
আরও পড়ুন-শিউরে ওঠার মত ঘটনা বাংলাদেশে, গাড়ি চাপা দিয়ে খুন করা হল হিন্দু যুবককে, পদ্মাপাড়ে তুলকালাম
সন্দেশখালি ও অনুপ্রবেশ নিয়ে তোপ রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি এবং নারী নিরাপত্তা ইস্যুতেও এদিন সুর চড়ান মোদী। সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলার যুবসমাজ মেধার ভিত্তিতে চাকরি থেকে বঞ্চিত। সন্দেশখালির ঘটনা এবং নিয়োগ দুর্নীতিতে মানুষ বীতশ্রদ্ধ।” অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে মোদী বলেন, “অনুপ্রবেশকারীরাই তৃণমূলের আসল ভোটব্যাঙ্ক। সীমান্তের সুরক্ষার জন্য ফেন্সিং বা কাঁটাতারের বেড়া দিতে বারবার জমি চাওয়া হলেও তৃণমূল সরকার তা দেয়নি।”
বিগত কয়েক মাস টানা এই রাজ্যে আসছেবন নরেন্দ্র মোদী. অমিত শাহ থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, “পিএম-শ্রী (PM-SHRI) স্কুলের মতো আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করছে রাজ্য সরকার। এদিন সিঙ্গুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই প্রতিটি জেলায় উন্নয়ন হবে এবং মানুষ ‘আসল পরিবর্তন’ দেখতে পাবে।” বঙ্গ বিজেপি (Bengal BJP) এবারও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সভার ওপরই নির্ভশীল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us