/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/09/pregnant-woman-denied-admission-bond-signature-harishchandrapur-phc-2026-01-09-20-56-56.jpg)
অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে ৮ ঘণ্টা ধরে বসিয়ে রাখার ভয়ঙ্কর অভিযোগ
নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করানোর সময় বন্ডে সই করতে পারেননি বাবা। আর তারপরেই প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে গ্রামীণ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরেই ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে বসিয়ে রাখার অভিযোগ উঠলো সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অবশেষে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা ওই অন্তঃসত্ত্বাকে তাঁর পরিবারের লোকেরা হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।
আরও পড়ুন- কয়লা পাচার কাণ্ডে পাল্টা শাহকে নিশানা, টাকা পাচারের মধ্যস্থতাকারী কে? 'বিস্ফোরক' দাবি মমতার
শুক্রবার এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মশালদহ বাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে । সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তব্যরত এক নার্সের দুর্ব্যবহার এবং আট ঘন্টা ধরে এক অন্তঃসত্ত্বার পরিবারের সঙ্গে হয়রানি করার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছেন পরিবারের লোকেরা। পুরো বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। যদিও ওই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলার জটিল সমস্যার তৈরি হয়েছে বলে তার বাবার কাছে বন্ডে সই চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সই করতে পারেননি এবং ওই মহিলার সঙ্গে অন্য আর কেউ ছিল না। ফলেই এই জটিলতা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন- পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা! হেল্পলাইন চালু করলেন অভিষেক
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মশালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান। তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে রেনু খাতুনকে মশালদহ বাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এদিন ভর্তির জন্য আনা হয়। কিন্তু অভিযোগ, ওই সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত এক নার্স ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে লেবার রুমে নিয়ে যায়। বাচ্চা দানিতে রক্ত জমাট হয়ে আছে বলে জানান নার্স। মহিলার বাবাকে বন্ডে লিখে দিতে বলা হয়। কিন্তু লেখাপড়া না জানার কারণেই সই করতে না পারায় ভর্তি নিতে অস্বীকার করা হয়। প্রতিবাদ করলে মহিলার পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। চিকিৎসার অভাবে ছটফট করতে থাকে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা রেনু। রক্ত চাপ বেড়ে যায়। বমি হতে শুরু করে। রোগীর অবস্থা সংকটজনক হতে শুরু করলে বিনা চিকিৎসায় চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করে দেন বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন- শুরুতেই অঘটন, গঙ্গাসাগর মেলায় ভয়ঙ্কর অগ্নিকান্ড, পুড়ে ছাই একাধিক অস্থায়ী তাঁবু
অন্তঃসত্ত্বা মহিলার বাবা কি বললেন?
অন্তঃসত্ত্বা মহিলার বাবা ফজলুর রহমান বলেন, "আমি নিরক্ষর। নার্সের কথামত বন্ডে লিখে দিতে পারিনি। সেই সময় আমার সঙ্গে আর কেউ ছিল না। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনেকবার আবেদন করি। আগে মেয়েকে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করুন, তারপর কোনও আত্মীয়কে ডেকে বন্ডে সই করে দিচ্ছি তাও বলা হয়। কিন্তু ওরা কিছু শোনেনি। প্রায় আট ঘন্টা ওই হাসপাতালের বাইরেই আমাদের বসিয়ে রাখা হয় ততক্ষণে মেয়ের যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। এরপর অন্যান্যদের সহযোগিতা নিয়েই সেখান থেকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আসি। পরিবারের অন্যান্যদের সহযোগিতা নিয়েই মেয়েকে ভর্তি করাই।"
কর্তৃপক্ষের কি বক্তব্য?
হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ তাপস কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, "অন্তঃসত্ত্বা মহিলাটির জটিল সমস্যার কারণে বন্ডে সই চেয়েছিলেন এক নার্স। রোগীর পরিবার বিষয়টি বুঝতে না পেরে নার্সের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ওই রোগীকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়।"
আরও পড়ুন- IPAC raid Kolkata: আইপ্যাক তল্লাশিতে 'বাধা', ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ ED
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us