স্বাস্থ্যবিধিকে 'ডোন্ট কেয়ার', নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রমরমিয়ে চলছে রোগী ভর্তি, নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে তোলপাড় ফেলা অভিযোগ

অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমের অন্যতম কর্ণধার মহম্মদ কাজি আজিজকে ফোন করে জানতে চাওয়ার সাথে সাথেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তিনি তাঁর ফোন ’সুইচ অফ’ করে দেন।

অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমের অন্যতম কর্ণধার মহম্মদ কাজি আজিজকে ফোন করে জানতে চাওয়ার সাথে সাথেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তিনি তাঁর ফোন ’সুইচ অফ’ করে দেন।

author-image
Pradip Kumar Chattopadhyay
New Update
Purba Bardhaman, Jamalpur nursing home, Life Care Nursing Home, Clinical Establishment Act, West Bengal health department, illegal nursing home, CMOH Purba Bardhaman, BMOH Jamalpur, healthcare irregularities, nursing home inspection

স্বাস্থ্যবিধিকে 'ডোন্ট কেয়ার', নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রমরমিয়ে চলছে রোগী ভর্তি

স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম কানুন মেনে চালানো হচ্ছিলো না নার্সিংহোম। সেই খবর পেয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকের টিম দফায় দফায় জামালপুরের 'লাইফ কেয়ার’ নার্সিংহোম পরিদর্শন করেন। সেই পরিদর্শনে 'ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিসমেন্ট’ বা সিই আইন মেনে নার্সিংহোমটি না চলার প্রমাণ মেলায় নার্সিংহোম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। তার পরেও ওই নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে রোগী ভর্তি নেওয়া ও প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার করার অভিযোগ ওঠে ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা শনিবার ওই  নার্সিংহোমে খোঁজ খবর নিতে যাওয়ার পরেই পাত্তাড়ি গোটালো নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তবে এই ঘটনা নিয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ যে রেহাই পাবে না তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।

Advertisment

IPAC কাণ্ডে মমতাকে তুলোধোনা, সুর চড়ালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী

 'লাইফ কেয়ার’ নামের বেসরকারি নার্সিংহোমটি জামালপুর থানা এবং জামালপুর ব্লক  প্রাথমিক স্থাস্থকেন্দ্রের সন্নিকটের কালাড়া বাজারে অবস্থিত। বাম আমলে এই নার্সিংহোমটি চালু হয়। তদানিন্তন রাজ্য মন্ত্রীসভার অন্যতম বলিষ্ঠ মন্ত্রী সুভাষচক্রবর্তীর হাত ধরে এই নার্সিংহোমটির উদ্ধোধন হয়েছিল। নার্সিংহোমটিতে সুচিকিৎসা পরিষেবা মিলবে এমন প্রত্যাশা ছিল এলাকাবাসীর। কিন্তু তা না হয়ে অব্যবস্থা,অনিয়ম ও চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নার্সিংহোমটি নানা সময়ে শিরোনামে থেকেছে। মালিকানা বদল হলেও বদলায়নি পরিষেবা মান। এমন অবস্থায় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর নার্সিংহোমটির গোটা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তে নামতেই হাজারো অসঙ্গতি সামনে চলে আসে । 

জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক( BMOH)শঙ্খশুভ্র দাস এদিন জানান, “জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের (CMOH) নির্দেশে গত বছরের জুলাই মাসে এবং তার পর অক্টোবর মাসের ১১তারিখ লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমে তদন্তে যায় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম। তাঁরা গোটা নার্সিংহোমের সমস্ত ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন। তখনই স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থা খুঁজে পান। তার সঙ্গে  ধরা পড়ে নার্সিংহোম পরিচালনা সংক্রান্ত নথির অসঙ্গতি। এছাড়াও কর্মী ঘাটতি সহ ইনফেকশন মেইটেনেস্স ও বায়ো মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়েও ব্যর্থতা খুঁজে পান স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্তকারী  দল। এ সব অনিয়ম ও অব্যবস্থা নিয়ে 'লাইফ কেয়ার’ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ  সন্তোষজনক কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারে না। তার পরেই গত ১৯ ডিসেম্বর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর কালাড়ার লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমটি বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেন। সেই নির্দেশের কপি ওইদিনই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ও ব্লকের বিডিও-র কাছে পৌছে যায়। 

ইডির অভিযান নিয়ে মমতার প্রতিবাদের পরই তড়িঘড়ি বিবৃতি সংস্থার, কী জানালো IPAC?

জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক(CMOH)জয়রাম হেমব্রম বলেন,“সিই আইন মেনে নার্সিংহোমগুলি চলছে কি না, তা দেখার জন্যে অভিযান চলছে। অনিয়ম  ধরা পড়লে নোটিস দেওয়া ও শো-কজ় করা হচ্ছে। এমনকি নার্সিংহোম-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধেরও নোটিস দেওয়া হয়েছে।”জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে,এসিএমওএইচ(ACMOH) দফতরের  পরিদর্শক দল জামালপুরের কালাড়ার নার্সিংহোম ছাড়াও খোসবাগানের তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে। বাকিগুলি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দল পরিদর্শন করে। তাদের রিপোর্ট জমা পড়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

 কালাড়ার নার্সিংহোম সংলগ্ন আড়াশুল গ্রামের  বাসিন্দা জীতেন ডকাল। তিনি সহ কালাড়া বাজার
এলাকার আরও অনেকে এদিন বলেন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ মেনে বন্ধ করা হয়নি লাইফ কেয়ার নার্সিং হোম।গত ১৯ ডিসেম্বরের পর থেকে শনিবার ১০ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত রোগী ও প্রসূতি  ভর্তি রেখে নার্সিংহোমটি চালানো হয়েছে। প্রসূতির অস্ত্রপচারও হয়েছে। এসব নিয়ে সংবাদ মাধ্যম এদিন সকালে আসরে নামতেই লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া।তার পর পুলিশ ও ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা নার্সিংহোমে পৌছানোর আগেই  নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে চম্পট দিয়ে দেন। 

এমন অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমের অন্যতম কর্ণধার মহম্মদ কাজি আজিজকে ফোন করে জানতে চাওয়ার সাথে সাথেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তিনি তাঁর ফোন ’সুইচ অফ’ করে দেন।জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্য দদপ্তর জামালপুরের কালাড়ার নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জামালপুর থানাকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি এবার শুভেন্দুর, মমতার বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ বিরোধী দলনেতার

burdwan West Bengal News