/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/17/memari-2025-12-17-13-21-45.jpg)
Memari voter list controversy: ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে দড়ি টানাটানি মেমারিতে।
illegal voter: এসআইআর’(SIR) লাগু হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ একমাস ধরে বাংলায় চলেছে ’এনুমারেশন’ ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়র পর্ব। মঙ্গলবারই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এই আবহে এক বিজেপি সমর্থকের ভারত-বাংলাদেশ,দুই দেশের ভোটার হয়ে রয়ে থাকার তথ্য সামনে এনে হইচই ফেলে দিল পূর্ব বর্ধমানের মেমারির তৃণমূল নেতৃত্ব। পাল্টা জেলার কালনার হাটকালনা ও পূর্বস্থলীর মেড়তাল পঞ্চায়েতের প্রধানকে ভুয়ো ভারতীয় নাগরিক দাবি করে প্রশাসনের দফতরে অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি।
ভারত- বাংলাদেশ দুই দেশের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তি হলেন ননীগোপাল মণ্ডল। তিনি মেমারি ১ ব্লকের দলুইবাজার ২ নম্বর পঞ্চায়েত অধীন নীলকুঠি গ্রামের বাসিন্দা।২৬৫ মেমারি বিধানসভার অধীন নীলকুঠি গ্রামের ১৭৫ নম্বর বুথের ২৬৬ ক্রমিক নম্বরে রয়েছে ননীগোপাল মণ্ডলের নাম। ভারতের ভোটার হয়েও ননীগোপাল মণ্ডলের নাম বাংলাদেশের ভোটার তালিকাতেও নথিভুক্ত হয়েথাকা নিয়ে সোমবার মেমারি ১ ব্লকের বিডিও দফতরে অভিযোগ জানিয়েছেন নীলকুঠি এলাকার বাসিন্দা বিমল মণ্ডল। অভিযোগপত্রের সঙ্গে তিনি ননীগোপাল মণ্ডলের বাংলাদেশের ভোটার হওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যও বিডিও-র কাছে দাখিল করেছেন।
আরও পড়ুন- West Bengal News Live Updates: ‘সবকিছু করার পরও আক্রমণ!’ যুবভারতী নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিষেক
বিমল মণ্ডলের দাখিল করা সেই তথ্যে দেখা গেছে ’বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার টুংগীপাড়া থানার গোপালপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড অংশের ভোটার তালিকার ৫২৩ ক্রমিক নম্বরে রয়েছে ননীগোপাল মণ্ডলের নাম।শুধু তাই নয়,এই ননীগোপাল মণ্ডল যে বাংলাদেশের গোপালপুর গ্রামের সরকারী স্কুলে শিক্ষকতা করতেন, সেটাও সেখানকা ভোটার তালিকায় উল্লেখ রয়েছে“।বিমল মণ্ডল বিডিওকে এও জানিয়েছেন, ২০০২ সালের ভারতীয় ভোটার তালিকায় ননীগোপাল মণ্ডলের নাম নথিভুক্ত ছিল না। তবে ২০২৫ সালের ভারতীয় ভোটার তালিকায় ননীগোপাল মণ্ডলের নাম জায়গা করে নিয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ননীগোপাল মণ্ডলের তিন ছেলে ভারতে সরকারী চাকরি করেন। ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের নাগরিক হয়ে থাকা ব্যক্তির ছেলেরা কিকরে ভারতের সরকারী বিভাগে চাকরি করতে পারেন,সেই নিয়েও বিমল মণ্ডল প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে ননীগোপাল মণ্ডলের ছেলেদের মধ্যে কুমার বিশ্বজিত মণ্ডলকে ফোন করা হলে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে শুধু বলেন, "আমার বাবা একসময় বাংলাদেশের ভোটার ছিলেন।"
যদিও এই অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য বলে জানিয়েছেন নীলকুঠি এলাকা নিবাসী দলুইবাজার ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ধীমান বিশ্বাস। তিনি বলেন, "অবৈধ ভোটার নিয়ে মেমারিতে হইচই ফেলে রাখা বিজেপি নেতারাও ননীগোপাল মণ্ডলের দুই দেশের ভোটার হয়ে থাকার ব্যাপারে সব জানেন। কিন্তু ননীগোপাল মণ্ডল ও তাঁর পরিবার সদস্যরা যেহেতু বিজেপির ভক্ত তাই তারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন।"
ধীমান বিশ্বাস সাফ বলেন, “তৃণমূলের সবাই সংশোধীত ভোটার তালিকা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।সেই তালিকায় যদি ননীগোপাল মণ্ডলের নাম থাকে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে।" সব শুনে মেমারি ১ ব্লকের বিডিও শতরুপা দাস বলেন, “অভিযোগের তদন্ত হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।"
আরও পড়ুন ভোটার লিস্টে সুনামি-কম্পন! বৈধরা বাদ পড়েছেন কিনা খুঁজবেন মমতা, সোমে জরুরি বৈঠক
এই সবের মধ্যেই বিজেপি নেতৃত্ব আবার তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জেলার দুটি পঞ্চায়েতের প্রধানের ভারতীর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বসেছে।তারা হলেন কালনা মহকুমার হাট কালনা পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রাবন্তী মণ্ডল এবং পূর্বস্থলীর মেড়তাল পঞ্চায়েতের প্রধান সন্তোষী দাস।
বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু প্রশাসনকে অভিযোগে জানিয়েছেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা এক দম্পতিকে নিজের পিতা-মাতা দেখিয়ে শ্রাবন্তী মণ্ডল প্রথম ভারতের ভোটার তালিকায় নাম তোলেন। তারপর তিনি ভোটার কার্ড,আধার কার্ড ও জাতিগত শংসাপত্র হস্তগত করে নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান হন। সন্তোষী দাসের বিরুদ্ধেও একই রকম অভিযোগ এনে কালনার মহকুমা শাসক সহ প্রশাসনের নানা মহলে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
বিজেপির আনা এই সব অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন শ্রাবন্তী মণ্ডল ও সন্তষী দাস। তাঁরা বলেছেন, "মিথ্যা অভিযোগ। যাঁরা আমাদের ভারতীয় নাগরিকত্ত্ব নিয়ে নানা অভিযোগ তুলছেন তাঁরা প্রমাণ করুন যে আমরা ভারতীর নাগরিক নই। আমাদের সব ডকুমেন্টস ভুয়ো। এ এসব বিজেপির মিথ্যাচার।" কালনার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন এই প্রসঙ্গে বলেন, "অভিযোগ জমা পড়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে"।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us